kalerkantho


কেনাকাটা

সোনালী আঁশে স্বদেশ ভাসে

পাটের তৈরি বাহারি পণ্য এখন ফ্যাশনেবল আর যুগোপযোগী। শৌখিন গৃহসাজ থেকে ফ্যাশন হাউসের এক্সক্লুসিভ ওয়্যার কর্নারে জায়গা পাচ্ছে পাটপণ্য। ফ্যাশনেবল পাটপণ্যের খোঁজ জানাচ্ছেন ফারজানা সুমা

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০




সোনালী আঁশে স্বদেশ ভাসে

সোনালি আঁশ পাটের কদর দিন দিন বাড়ছে। ডিজাইনাররাও নিত্যনতুন নিরীক্ষা করছেন পাটপণ্য নিয়ে।

কুশন কভার, টেবিল ম্যাট, নকশাদার ফ্রেমে আয়না থেকে শুরু করে জুতা-ব্যাগসহ চমত্কার সব পণ্য তৈরি হচ্ছে পাট দিয়ে। জুট ফ্যাব্রিকসের পোশাক ফ্যাশন দুনিয়ার লাল গালিচা মাত করছে। পাটের নান্দনিক সব পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। পাটপণ্যের ফ্যাশনের দিকটি নিয়ে কাজ করেন ডিজাইন কনসালটেন্ট চন্দ্র শেখর সাহা। তিনি বলেন, ‘পাট একটি বিকল্প তন্তু, এটি আমাদের দেশে সহজলভ্য হতে পারে, তবে সস্তা নয়। পরিবেশবান্ধব পাটকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও যুগোপযোগী করে জীবনচর্চায় বিভিন্ন পণ্যের রূপ দেওয়া হচ্ছে। পাটজাত এই বাহারি পণ্যগুলো তৈরির সময় খেয়াল রাখা হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের পছন্দের দিকটিও।

যত কিছু পাটের

আছে পাটের তৈরি পর্দা, কুশন কভার, সোফার কভার, বিছানার চাদর, টেবিল রানার, মোবাইল কভার, ল্যাপটপ ব্যাগ, পার্স, শপিং ব্যাগ, বোতল ব্যাগ, নকশি বা ফেন্সি ব্যাগ, টেবিল ম্যাট, জায়নামাজ, ফ্লোর ম্যাট, দেয়ালের ম্যাট, পাটের কাগজ ও কাগজের পণ্য, শুভেচ্ছা কার্ড, র্যাপিং পেপার, ফুলদানি, গয়না, আমন্ত্রণপত্র, শতরঞ্জি, চাবির রিং, মানিব্যাগ, অফিস ব্যাগ ইত্যাদি। পাটের তৈরি খেলনা, গয়নার ব্যাগ, টিফিন ব্যাগ, শোপিসসহ নানা সামগ্রী।

আছে পাটের তৈরি ছেলে-মেয়েদের নানা ধরনের জুতা। শোপিস ও শিকাসহ আছে গৃহস্থালির নানা পণ্য। এ ছাড়া রয়েছে লাইফটাইম ক্যালেন্ডার ও ল্যাম্পশেডসহ পাটের নতুন নতুন আকর্ষণীয় জিনিসপত্র। আছে অফিস টেবিল, ডেকোরেশন আইটেম, যেমন—কলমদানি, টিস্যু বক্স, ফাইল হোল্ডার, ফটো ফ্রেম ইত্যাদি। আরো আছে অ্যালবাম, রাইটিং প্যাড।

নকশা

কয়েকটি পাটপণ্যের প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, শত ভাগ পাট দিয়ে তৈরি পণ্য যেমন আছে, তেমনি পাটের ফিউশন ডিজাইনের পণ্যও থাকছে। সোনালি আঁশ দিয়ে তৈরি মিহি ফেব্রিকসে ডিজাইন হচ্ছে পোশাক, জুতা ও ফ্যাশনেবল ব্যাগ। আছে গৃহস্থালির নানা পণ্য। জুট ফেব্রিকসে স্ক্রিন প্রিন্ট, এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন নকশা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে জানালার পর্দা, কুশন কভার, টেবিল রানার। পাটের ওপর সুই-সুতার ফোঁড়ে ডিজাইন হচ্ছে। রংতুলির ক্যানভাস হিসেবেও ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন পাটকে। দেশীয় ফ্যাশনে ভিন্নতা যোগ করছে জুট ফেব্রিকস। পাটের রঙেও এসেছে বৈচিত্র্য। হলুদ, লাল, কমলা, মেরুন, নীলসহ বিভিন্ন রং ব্যবহার করা হচ্ছে।

কোথায় পাবেন

আড়ং, যাত্রা, আইডিয়া ক্রাফট, গুলশানের ইউনিকর্ন প্লাজায় দালসানিয়ার শোরুমে পাবেন পাটের নানা পণ্য। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বরে বেশ কিছু পাটপণ্যের দোকান রয়েছে।  এ ছাড়া বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের শোরুমে পাবেন পাটপণ্য।

দরদাম

বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ ৪০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। টিফিন ব্যাগ ১৫০ থেকে ৫২০, লেডিস ব্যাগ ২৫০০ থেকে ২০৫০, মোবাইল ব্যাগ ৫০ থেকে ২০০, কুশন কভার প্রতিপিস ৪০০ থেকে ৯০০, ওয়ালম্যাট ১৫০ থেকে ১২০, ফটোফ্রেম ও শোপিস পাবেন  ৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে।   এ ছাড়া ২০০ থেকে ৬৫০ টাকায় পাপোশ, দুই থেকে আড়াই ফুট লম্বা কার্পেট ১২০০ থেকে ২৮০০, দুই থেকে চার ফুট লম্বা শতরঞ্জি ৪০০ থেকে ২৫০০ ও বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ কেনা যাবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায়। মেয়েদের ব্যাগ ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। জুতার দাম ৩৫০ থেকে ৫০০০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন দামের গয়নার দাম ৪০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।


মন্তব্য