kalerkantho


আপনার সন্তান

বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখুন

ব্যস্ততার মধ্যেও বাচ্চার সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটাতে হবে বাবা মাকে। এছাড়াও কী করে বাচ্চার সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দময় হবে তা জানালেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট খাদিজা ফাল্গুনী

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখুন

 

কী করবেন** মা-বাবা দুজনেই কর্মজীবী। বাচ্চার অনেকটা সময় একা একা থাকতে হয়।

তাই বাচ্চাকে নিজের মতো করে ক্রিয়েটিভ সময় কাটাতে উদ্বুদ্ধ করুন। বই পড়া, গান শোনার মতো অভ্যাস ছোট থেকেই ওর মধ্যে তৈরি করতে পারলে দেখবেন ওর একাকীত্ব কম অনুভব হবে। নিজের হাতে অনেক কিছু তৈরি করতে  উত্সাহ দিন। এছাড়া নিজের পড়ার টেবিল, কাপড়চোপড় ওকেই গুছিয়ে রাখতে  শেখান।
** আপনার বাচ্চা হয়ত বলতে পারে একঘেয়ে লাগছে। এই নালিশটা আসলে কাজ না থাকা, সময় না কাটা কিংবা আপনার মনযোগ পেতে চাইছে। তাই মাঝেমধ্যে বাচ্চার জন্য মজার কাজ তৈরি করতে হবে আপনাকেই। ধরুন ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ চলছে। আপনার বাড়িতে যদি কোনো ক্রিকেটপ্রিয় সদস্য থাকে, তাহলে তাকে বলুন বিশ্বকাপ নিয়ে একটা কালারফুল স্ক্র্যাপবুক বা পোস্টার বানাতে। খবরের কাগজ ও ম্যাগাজিন থেকে ছবি কেটে, কোটেশন খুঁজে, তথ্য সংগ্রহ করে ওকে সাহায্য করুন। এইভাবে ফিল্ম, মিউজিক, বেড়াতে যাওয়া—সব কিছু নিয়েই সুন্দর অ্যালবাম বানানো যায়। যাতে আপনার বাচ্চা ব্যস্ত থাকবে এবং আনন্দ পাবে।
** মাঝেমধ্যে সময় পেলেই ছুটিতে ওকে নিয়ে কোনো থিম পার্কে বেড়াতে যেতে পারেন। সেখানে খোলামেলা পরিবেশে বাচ্চার মন ভালো হয়ে যাবে।   অনেক রকম রাইড ও আউটডোর গেমস থাকার কারনে সময়টা ভালো কাটবে। ওর সঙ্গে আপনিও নানা রাইডে উঠে পড়ুন। এ ছাড়া যখনই সময় পাবেন, বাচ্চাকে নিয়ে নানা রকম প্রর্দশনী, নাচ বা গানের অনুষ্ঠানে চলে যান। এতে ওর মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধ তৈরি হবে।
** আজকাল বেশির ভাগ পরিবারেই বাড়তি সদস্য থাকে না। ভাই-বোন, কাজিন বা অন্য সঙ্গীর অভাব থেকে যে একঘেয়েমি তৈরি হয়, সেটাই তাদের আরো ঠেলে দেয় টিভি বা কম্পিউটারের দিকে। আপনার বাচ্চাকে যদি অনেকটা সময় একা থাকতে হয়, তাহলে ওকে একটা সঙ্গী খুঁজে দিন। ওর জন্মদিনে উপহার দিন ছোট্ট কুকুর, খরগোশ, বিড়াল বা অন্য কোনো পোষা প্রানী। এসব পোষা প্রানীর যত্ন নিতে শেখান। অ্যাকোয়ারিয়ামে রঙিন মাছও পুষতে পারেন বা পটেড প্লান্ট রাখতে পারেন। দুজনে মিলে বারান্দায় তৈরি করতে পারেন ইনডোর গার্ডেন।
** ঘরে-বাইরে যত ব্যস্তই থাকুন না কেন, সন্তানের জন্য খানিকটা সময় রাখুন। শুধু পড়াশোনার কথা নয়, নিখাদ আড্ডা মারুন দুজনে বসে। খাবার টেবিলে বসে সারা দিনের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করুন। ওর কাছ থেকে জেনে নিন ওর স্কুল বা বাড়িতে সারাদিন কী কী করেছে।
** অনেক সময়ই আমাদের মনে হয় আমরা খুব যান্ত্রিক হয়ে পড়ছি। বাচ্চারাও এর ব্যতিক্রম নয়। স্কুল, টিউশন, বন্ধুর জন্মদিন পার্টি—সবই যেন নিয়মের বেড়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। এই ব্যস্ততা ও নিয়মের মধ্যে মানবিক বোধ গড়ে ওঠার পরিসর প্রায় নেই বললেই চলে। এই অভাববোধটা কাটিয়ে ওঠার জন্য আপনার বাচ্চাকে সব ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশতে শেখান। দরিদ্র পথশিশুদের জন্য স্কুলের বা পাড়ার বন্ধুদের নিয়ে ছোটখাটো কোচিং ক্লাস যদি সপ্তাহে এক-দুদিন করা যায়, তাহলে মন্দ কী! এতে অন্যকে সাহায্য করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার বাচ্চার আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

 

 


মন্তব্য