kalerkantho


ব্যায়াম

সুস্বাস্থ্যে সাঁতার

সাঁতারে শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সচল থাকে। সাঁতারকে তাই সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম বলা হয়। সব বয়সীদের জন্য সাঁতার উপকারী ব্যায়াম। এই গরমে ব্যায়ামের সঙ্গে বাড়তি পাওনা শীতল শরীর। সাঁতারের বিস্তারিত জানালেন গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের প্রশিক্ষক মনিরুল আলম

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সুস্বাস্থ্যে সাঁতার

বিভিন্ন রকমের সাঁতার কাটার পদ্ধতি থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রজাপতি (বাটারফ্লাই) পদ্ধতিতে সাঁতার কাটা শেখানো হয়। এ ক্ষেত্রে শরীরে ভারসাম্য রেখে এক হাত সামনের দিকে আরেক হাত পেছনের দিকে দিয়ে সাঁতার কাটতে হবে।

পাশাপাশি দুই পাশে মাথা নাড়াতে হবে। শ্বাস নিতে হবে ও ছাড়তে হবে। যদি এ সময় শ্বাস-প্রশ্বাস সচল না রাখা হয়, তবে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাঁতার কাটার আগে শরীরকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। পানীয় খাবার (পানি, ডাবের পানি) খেয়ে সাঁতার কাটতে হবে। সাঁতারের আগে কোনোভাবেই ভারী খাবার খাওয়া যাবে না।

সাঁতার কাটার সবচেয়ে ভালো সময় সকালবেলা। তবে গরমের সময় সন্ধ্যায়ও সাঁতার কাটতে পারেন। প্রতিদিন সকালে অথবা সন্ধ্যায় অন্তত ২০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত সাঁতার কাটুন।

সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টাও যদি কেউ নিয়মিত সাঁতার কাটেন, তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হূদরোগ ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।

সাঁতারের আনুষঙ্গিক

ঢিলেঢালা কিংবা সুতির পোশাক নয়, সাঁতারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পোশাক (সুইমিং কস্টিউম) ব্যবহার করা উচিত। সুইমিং পুলের ক্লোরিন মেশানো পানি থেকে চোখ নিরাপদ রাখতে বিশেষ ধরনের চশমা (গগলস) পরা ভালো। সাঁতারের সময় নাক ও কানের সুরক্ষায় আছে নোজ ক্লিপ ও ইয়ার প্লাগ। এতে নাকে বা কানে পানি যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এ ছাড়া সাঁতারুদের গতিবেগ নির্ণয়ের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের ঘড়ি। সাঁতারের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনে নিতে পারেন গুলশান সিটি করপোরেশন মার্কেট, গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট, মিরপুর ষ্টেডিয়াম মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, সায়েন্সল্যাব  মোড়ের স্পোর্টসের দোকান সহ  যে কোন  খেলার সামগ্রী পাওয়া যায় এরকম দোকানে।

ভালোমন্দ

সাঁতার ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখে। দেহের কার্ডিওভাসকুলার ব্যবস্থা ভালো রাখে। হূিপণ্ডে চর্বি জমা বা ব্লকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কমায়। খারাপ কোলেস্টেরল মাত্রা কমায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পেশির দক্ষতা ও শক্তি বাড়ায়। সন্ধি ও লিগামেন্টের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। কোমরব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা—এসব ক্ষেত্রেও সাঁতার ভালো কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে সাঁতার কার্যকর। আর্থ্রাইটিস ও স্পনডালাইটিসের রোগীদের জন্য সাঁতার উপযুক্ত ব্যায়াম। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা ও ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার অভ্যাসও নিয়মিত সাঁতার কাটলে কমে যায়। বাড়ন্ত শিশুদের হাঁপানির উন্নতি হয়। হূদরোগীদের ক্ষেত্রে সাঁতারে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সাঁতার কাটার আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারলে ভালো। স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে কিভাবে সাঁতার শুরু করবেন, তা আগেই প্রশিক্ষকের কাছে শিখে বা জেনে নেবেন। ঃ

কায়দা-কানুন

সাঁতার শেখা ও নিয়মিত অনুশীলন এবং সুইমিংপুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। এতে যেকোনো দুর্ঘটনা এবং সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

** পাঁচ বছরের কম বয়সী কাউকে একা সুইমিংপুলে নামানো উচিত নয়।

** বড়রাও সাঁতার শেখার শুরুতে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সুইমিংপুলে নামা ভালো।

** সুইমিংপুলে ডাইভিংয়ের সুবিধা না থাকলে ডাইভ ঠিক নয়।

** সাঁতার কাটার সময় ওয়াটার প্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

** সাঁতারের শেষে অবশ্যই ভালো পানিতে গোসল করবেন।

সুযোগ কোথায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিংপুল, হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সুইমিংপুল, সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, অফিসার্স ক্লাব, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব, মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স,

এ ছাড়া ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেল, লেকশোর হোটেল, গুলশানের ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকার ম্যানপাওয়ার সুইমিংপুল, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন, রামপুরার আশরাফি সুইমিংপুল অ্যান্ড ফিটনেস, সীমান্ত স্কয়ারের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সুইমিং কমপ্লেক্স, পুরানা পল্টনের আইভি রহমান সুইমিং কমপ্লেক্সসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুইমিং শেখা ও নিয়মিত সাঁতার কাটার সুযোগ রয়েছে


মন্তব্য