kalerkantho


আপনার শিশু

রোজায় শিশুর খাবার

মারজান ইমু   

১৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



রোজায় শিশুর খাবার

রোজা নিয়ে শিশুদের আগ্রহ আর উত্তেজনা থাকে অনেক বেশি। শিশুদের রোজা রাখার বায়না সামলাতে অনেক মা-বাবাকেই হিমশিম খেতে হয়। পুষ্টিবিজ্ঞান শিশুদের রোজা নিয়ে কী ভাবছে জানতে চেয়েছিলাম শিকদার মেডিক্যাল কলেজের প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা আশফি মোহাম্মদের কাছে। তিনি জানান, ‘বড়দের অনুকরণে পরিবারের ছোটরাও রোজা রাখতে পছন্দ করে। শিশুদের জন্য রোজার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। তবে আট বছরের কম বয়সী শিশুদের রোজা রাখতে উৎসাহিত করা হয় না। আট বছর থেকে সুস্থ শিশুরা আধাবেলা কিংবা পুরো রোজাই রাখতে পারে। রোজায় শিশুদের খাদ্যতালিকায় বিশেষ নজর দিতে হবে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোজার খাবারদাবারে বেশ খানিকটা পরিবর্তন আনতে হবে।’

সেহরী

বড়দের মতো ছোটদের সেহরির মেন্যুতেও তিন ভাগ পানি ও পানীয় এবং এক ভাগ সলিড খাবার থাকা উচিত। অল্প খাবারে পরিপূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যাবে এমন খাবার নির্বাচন করতে হবে সেহরিতে। শিশুকে বেশি করে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া যেতে পারে। এতে ক্ষুধা কম লাগবে এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাবে শরীরে। চর্বিজাতীয় খাবার যেমন গরু অথবা খাসির মাংস, ঘি-বাটারসহ প্রাণিজ যেকোনো চর্বি না রাখা ভালো। তেলে ভাজা কিংবা বেশি মসলা দিয়ে কষানো রান্নার বদলে অল্প তেল-মসলায় রান্না সবজি, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল রাখুন শিশুর সেহরিতে। স্যুপ, জুস বা স্মুদি সেহরির জন্য আদর্শ খাবার। এক বাটি মিষ্টি দই রাখতে পারলে ভালো। দই না পেলে এক গ্লাস দুধ অবশ্যই খাওয়াতে হবে। দুধ, ফিরনি বা অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাবার দিতে পারেন। তবে সেহরিতে চিনি বা চিনির তৈরি খাবার যতটা সম্ভব কম দেওয়ার চেষ্টা করুন।

ইফতার

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই প্রথমে খেজুর ও শরবত বা যেকোনো পানীয় দিয়ে ইফতার শুরু করতে হবে। পানীয়ের তালিকায় থাকতে পারে লেবুর শরবত বা ঘরে তৈরি তাজা ফলের রস, স্যুপ, স্মুদি বা লাচ্ছি। খেজুর ও চিনি মেশানো শরবত অথবা জুস শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়, পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং পাকস্থলীকেও ভারী খাবার হজম করার জন্য প্রস্তুত করে তোলে। এরপর শিশুর ইফতারের মেন্যুতে দই-চিঁড়া, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া থাকতে পারে। ছোলা-মুড়িও খেতে পারে। ইফতারে রাখুন একটু হালকা, পুষ্টিকর ও মুখরোচক খাবার। বানানা শেক, দুধ ও ডিমের তৈরি পুডিং, ফল ও দুধের তৈরি কাস্টার্ড, ডাল, চাল ও মাংসের হালিম বা খিচুড়ি, হালুয়া, দই-চিঁড়া শিশুর জন্য মুখরোচক ও পুষ্টিকর খাবার। ঘরেই তৈরি করতে পারেন বার্গার। বেশি করে মাংস দিয়ে বার্গার তৈরি করলে খেতে মজা হবে। পাশাপাশি প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ হবে। দিতে পারেন ডিম অথবা মাংসের চপ। মোটকথা ইফতারের প্রথম এক ঘণ্টা পানিজাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেয়ে, এরপর শিশু পছন্দমতো যেকোনো খাবারই খেতে পারে।

রাতের খাবার

রোজায় সাধারণত ইফতারে পরিমাণে একটু বেশি খাওয়া হয়। তাই রাতের খাবার সহজপাচ্য হওয়া ভালো। ভাত, সবজি, মাছ, মাংস অথবা ডিম যেকোনো একটি, সঙ্গে ডাল রাখুন। ভাতের বদলে খিচুড়ি, স্যুপ বা সিরিয়ালও খেতে পারে। শোবার আগে এক গ্লাস দুধ অবশ্যই খেতে হবে।

যারা রোজা রাখবে না

শিশু রোজা না রাখলেও এই মাসে শিশুর খাবারে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। রোজায় দিনের বেলা বড়দের জন্য রান্না হয় না বলে অনেকেই শিশুকে আগের দিনের বাসি খাবার খাওয়ান। এতে শিশুর পুষ্টিমানের ঘাটতিসহ নানা রকম অসুখের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। দিনের বেলা আলাদা করে রান্না করতে না চাইলে আগের দিন রান্নার পর খাবার যত দ্রুত সম্ভব ঠাণ্ডা করে এয়ারটাইট বক্সে ফ্রিজে রাখুন। পরের দিন খাবার এক ঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে বের করে প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে তারপর গরম করে খেতে দিন। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে দুই দিনের বেশি রাখা ফ্রিজের খাবার শিশুদের দেওয়া ঠিক নয়। সকালের নাশতায় ঝটপট তৈরি করা যায় এমন খাবার রাখুন।


মন্তব্য