kalerkantho


কাজের মানুষ

মিথ্যা আশ্বাস থেকে দূরে থাকুন

৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মিথ্যা আশ্বাস থেকে দূরে থাকুন

অনেক বুদ্ধিমান বস দলের বেয়াড়া সদস্যকে শায়েস্তা করতে তাকে ফাঁদে ফেলেন এবং কিছুদিন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রাখেন। তারপর হঠাৎ একদিন নিজেই তাকে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেন। আপনি তখনই এই অনুচ্চারিত, অলিখিত এবং শাশ্বত ব্যবস্থাপনার কৌশলগুলো কাজে লাগাতে পারবেন, যেদিন দলের ওপর আপনার পূর্ণ মানসিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। তার আগে নয় উদ্দীপ্ত আর প্রাণবন্ত কর্মী ছাড়া প্রতিষ্ঠান অচল। যেখানে মনের সংযোগ নেই, শারীরিক শক্তি সেখানে খুব কমই কার্যকর। কিন্তু কর্মীদের উদ্দীপ্ত করতে গিয়ে কখনো কখনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজের মনের খেয়ালমতো বাক্য প্রয়োগে কর্মীদের উত্সাহী করে তোলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিজ্ঞা আর বাস্তবতার মুখ দেখতে পায় না। যা প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গলজনক নয়। দলের সদস্য, কর্মী, কর্মকর্তাদের সঠিক উপায়ে মোটিভেট করার জন্য রইল ১০ পরামর্শ।

 

এক.

আপনি একজন দলনেতা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সুতরাং অনুসারীরা আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করছে। আপনার প্রতিটি কথা, কাজ, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনার গুণাগুণ, ব্যক্তিগত ও মানবিক গুণাগুণ—সব কিছুই অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে আপনি যা বলছেন, তা আপনি ভুলে গেলেও আপনার অনুসারীরা কিন্তু ঠিকই মনে রাখছে। আপনার বলা কথা, আদেশ, নির্দেশনা, পরামর্শ—এসব ঘিরেই কিন্তু তাদের কার্যক্রম, পদচারণ ও স্বপ্ন দেখা। সুতরাং মিথ্যা আশ্বাস কৌশলী বাক্যের মোড়কে কখনোই পরিবেশন করবেন না।

 

দুই.

অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা অনেক দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পরিস্থিতি সামলাতে ঝানু। তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েও যথাসময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। কিন্তু এখানেও মনে রাখা দরকার, দলনেতা হিসেবে আপনি যা করলেন, সেটি ভুল নয়, রীতিমতো অন্যায়। মিথ্যা আশ্বাস বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত সমাধান আনলেও ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের চলার পথে গভীর ক্ষত তৈরি করে।

 

তিন.

দলের সদস্যদের প্রতি যদি আপনার আস্থা থাকে, তাহলে আসল কথা খুলে বলুন। তাঁদের সাহায্য চান। মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আসলে পরিস্থিতির যথাযথ বিশ্লেষণই আপনাকে পথ দেখাবে। কৌশলী হোন; কিন্তু তা যেন একতরফা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট না হয়, কর্মীরাও প্রতিষ্ঠানের অংশ। তাঁদের ভালো-মন্দ দেখতে পারার যোগ্যতাও আপনার দক্ষতার মাপকাঠি।

 

চার.

দলের দক্ষ ও যোগ্য সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আপনি সাধ্যমতো চেষ্টা করুন। আর যেসব সদস্য খাদের কিনারে আছে, যারা বিপজ্জনক অবস্থানে আছে, তাদের সাহায্য করুন।

 

পাঁচ.

ব্যবস্থাপনার সিঁড়ির মাঝখানে থেকে ওপরের দলনেতা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামলাতে রীতিমতো পেশাদার হতে হয় বৈকি! আর দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। নিজের অনুসারী বা অধস্তন সহকর্মীদেরও আছে নানা চাহিদা। এবং আপনি জানেন, এই চাহিদা যুক্তিসংগত; অথচ কিছুই করার নেই। এ অবস্থায় আপনাকে মাঝখানে দাঁড়িয়ে সামলাতে হবে উভয় পক্ষকেই। এটা নির্দ্বিধায় কঠিন কাজ। পরামর্শ হলো, এ দুই পক্ষের ভেতর নিচের পক্ষকে আগে সামলাবেন। ভুল করবেন না।

 

ছয়.

দলের সদস্যদের মোটিভেটেড রাখার অনেক উপায় আছে। সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে, নিজের অবস্থান ও

ব্যক্তিত্ব ধরে রেখে আসল দলনেতার মতো তাঁদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করা। সমস্যার সমাধান করতে পারলেন কি না তা আপাতত বড় কথা নয়; কিন্তু আপনি তাঁদের চাহিদা মেটাতে চেষ্টা করেন—এটাই অনেক বড় ব্যাপার। কোনো কোনো বসের কাছে তো সমস্যার কথা বলাই যায় না। আপনি তাঁদের চেয়ে ব্যতিক্রম হবেন। আপনার দরজা সবার জন্য সব সময় খোলা থাকবে। এমনই সহজ আরো অনেক উপায় আছে।

 

সাত.

দলনেতা হিসেবে আপনি সবচেয়ে বড় ভুলটি করবেন সেদিন, যেদিন মনে করবেন, আপনার অধস্তন সহকর্মীরা ওপরের (ম্যানেজমেন্টের) পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই বোঝে না। অনুগত অনুসারীরা প্রকৃতিগত কারণেই কম কথা বলে। অনুসরণ আর কাজ করে, তারা দিন শেষে শুধু একটি জিনিসই চায়, আপনি পিঠ চাপড়ে বলুন—ইউ আর গ্রেট। সুতরাং আপনি যদি আদর্শ দলনেতা হোন, তাহলে দলকে মোটিভেট রাখতে ফাঁপা ভরসা, অলীক আশ্বাস কখনোই দিতে হবে না।

 

আট.

দলের সদস্যকে মোটিভেট করার সবচেয়ে কৌশলী ও কম খরচের পথ হচ্ছে শাস্তি থেকে বাঁচানো। অনেক বুদ্ধিমান বস দলের বেয়াড়া সদস্যকে শায়েস্তা করতে তাকে ফাঁদে ফেলেন এবং কিছুদিন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রাখেন। তারপর হঠাৎ একদিন নিজেই তাঁকে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেন। আপনি তখনই এই অনুচ্চারিত, অলিখিত এবং শাশ্বত ব্যবস্থাপনার কৌশলগুলো কাজে লাগাতে পারবেন, যেদিন দলের ওপর আপনার পূর্ণ মানসিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। তার আগে নয়।

 

নয়.

অন্যায় বা ভুলের যেমন শাস্তিবিধান আছে, তেমনি ভালো কর্মীর পুরস্কারও আছে। যার যার পাওনা তাকে বুঝিয়ে দিতে সঠিক সময় ও স্থান নির্বাচন করুন। এতে আপনার উদ্দেশ্য অনেক সফলভাবে বাস্তবায়ন হবে। বিভাগীয় মাসিক বা সাপ্তাহিক সভাও একটি সঠিক স্থান হতে পারে।

 

দশ.

যদি কোনো দিন অনন্যোপায় হয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিতেও হয়, কত কম ক্ষতি হয়, সত্যের কত কাছাকাছি থেকে বলা যায়, ভেবে দেখুন। আর লিখে রাখুন পুরো বিষয়টি। এর পর থেকে প্রতিদিন ভাবতে থাকুন, কোনো উপায়ে এই মিথ্যাটাকে সত্যি বানানো যায় কি না। এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে দলের সবাইকে সব কিছু জানানো যায় না। ওপর থেকে বারণও থাকে। তখন আপনাকে সবচেয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

 



মন্তব্য