kalerkantho


ইন্টেরিয়র

বর্ষায় পুরনো বাড়ির বিশেষ খেয়াল

৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বর্ষায় পুরনো বাড়ির বিশেষ খেয়াল

পুরনো বাড়ির ড্যাম্প দেয়াল সাধারণ সমস্যা। বাদলা দিনে অবস্থা হয় আরো করুণ। সচেতন না হলে নতুন ভবনের দেয়াল ও ছাদেও ড্যাম্প হতে পারে। বর্ষায় পুরনো বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এস্থেটিকস ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী। গ্রন্থনা করেছেন মারজান ইমু

বর্ষায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে আর সূর্যের তাপও বেশ কম পাওয়া যায়। ফলে দেয়াল, মেঝে অথবা সিলিং শুকানোর সময় পায় না। দীর্ঘদিন ভিজে দেয়াল, মেঝে ও ছাদের ভেতরে জলীয়বাষ্প জমে যায়। শুধু দেয়াল বা ছাদ নয়, ড্যাম্পে নষ্ট হয়ে যেতে পারে কাঠের দরজা-জানালাও। দেয়ালের ড্যাম্প পুরোপুরি সারিয়ে তোলা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। দেয়ালের পুরনো প্লাস্টার তুলে ড্যাম্প নিরোধক কেমিক্যাল ব্যবহার করে তারপর আবার প্লাস্টার করতে হবে। অবশ্যই দেয়ালের বাইরে ও ভেতরে ড্যাম্প নিরোধক ওয়াটারপ্রুফ রং ব্যবহার করতে হবে। নতুন ভবনে দেয়ালে প্লাস্টার করার আগে ও পরে দেয়ালে ড্যাম্প নিরোধক কেমিক্যাল ব্যবহার করুন। দীর্ঘদিন দেয়াল ভালো থাকবে। দেয়ালে রঙের ক্ষেত্রে সবাই ভেতরের দেয়ালেই বেশি মনোযোগ দেন। অনেকে প্রতিবছরই ভেতরের দেয়ালের রং বদলান। মনোযোগ দিন বাড়ির বাইরের দেয়ালেও। রং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান থেকে জেনে নিন আপনার বাড়ির রঙের মেয়াদকাল। সে অনুযায়ী বাড়ির বাইরের দেয়ালের পুরনো রং তুলে নতুন করে রং করিয়ে নিন। বাড়ির ছাদে বাগান করার শখ থাকলে মাটির পরিবর্তে কোকো পিট ব্যবহার করুন। ছাদ ড্যাম্প হবে না। নারকেলের খোসার বর্জ্যসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে বানানো হয় কোকো পিট। মাটির মতোই এতে প্রায় সব ধরনের গাছ বেড়ে ওঠে।

পুরো দেয়াল নতুন করে মেরামত না করতে চাইলে ওয়াল রিপেয়ারিং অ্যাডেসিভ ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে মেরামত করে নিন ফেটে যাওয়া মেঝে। আর বর্ষার দিনে অবশ্যই বাথরুম কিংবা রান্নাঘরের মেঝেতে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখুন। পানি পড়লে সঙ্গে সঙ্গে মুছে নিন। প্রয়োজনে এগজস্ট ফ্যান লাগিয়ে নিতে পারেন। দেয়ালে মাদুর বা শীতলপাটি লাগিয়ে ড্যাম্প দেয়াল ঢেকে দিতে পারেন। কাঠের ফ্রেম করে অথবা পেরেক দিয়ে আটকে দিন। চাইলে শীতলপাটিতে রঙিন আলপনা করে নিন। অথবা পাতলা প্লাইউড শিট দিয়ে দেয়ালের ড্যাম্প আড়াল করা যেতে পারে। প্লাইয়ের ওপরে মাটি লেপে দিন। মাটির সঙ্গে আঠা মিশিয়ে নেবেন। মাটি শুকিয়ে গেলে অ্যাক্রেলিক রং দিয়ে এর ওপর আলপনা করুন বা আপনার পছন্দমতো ছবি আঁকুন। হাতে রং লাগিয়ে শুধু রঙিন হাতের ছাপ দিলেও বৈচিত্র্য আসবে দেয়ালে।

বিশেষ সতর্কতা

♦          বর্ষাকালে মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার ঘরের গুমোট ভাব বাড়ায়। এ সময় মাটিতে কিছু না বিছিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে মেঝে ঘেমে গেলে ছোট শতরঞ্জি রোদে দিয়ে মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন।

♦          দেয়াল ভালো রাখতে ঘরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের সুবিধা থাকা প্রয়োজন। বাইরে বৃষ্টি না থাকলে দরজা-জানালা খুলে ঘরে আলো-বাতাসের প্রবাহ বাড়াতে হবে।

♦          ভেজা পর্দা থেকেও দেয়ালে ড্যাম্প হতে পারে। জানালায় ভারী পর্দার বদলে পাতলা সিনথেটিক পর্দা ব্যবহার করুন। পর্দা, বিছানার চাদর বা কুশন কভারে উজ্জ্বল রং ব্যবহার করলে মেঘলা ঘর উজ্জ্বল দেখাবে।

♦          ঘরের দেয়াল থেকে আসবাব কমপক্ষে ১০ সেন্টিমিটার দূরে রাখলে দেয়ালের ভেজা ভেজা ভাব আসবাবের ক্ষতি করে না।

♦          ড্যাম্প দেয়াল থেকে অসুখ ছড়ায়। সপ্তাহে এক দিন শুকনো ইউক্যালিপটাস বা নিমপাতা মাটির পাত্রে পোড়ান। এতে স্বাস্থ্যের ওপর ড্যাম্পের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই এড়ানো যাবে।

♦          মাঝেমধ্যে ঘরের বিভিন্ন স্থানে সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালালে ঘরের সোঁদা গন্ধ দূর হয়ে যাবে কিছুটা হলেও।

♦          কাঠের আসবাব ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিন নরম ও শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন।

 

 

 



মন্তব্য