kalerkantho


টিফিন আওয়ার

দুহাত চলে সমানতালে

এক জরিপে দেখা গেছে বিশ্বের ১ শতাংশ মানুষ লিখতে পারে দুহাতে। কিন্তু ভারতের বীণা বন্দিনি স্কুলের ৩০০ শিক্ষার্থীর সবাই লিখতে পারে দুহাতে! জানাচ্ছেন সজল সরকার

৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



দুহাত চলে সমানতালে

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রাউলি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বীণা বন্দিনি স্কুলের সব শিক্ষার্থীই হলো সব্যসাচী। কারণ তাদের দুহাতই সমান চলে।

তবে শুধু কাজে-কর্মে নয়; বরং লেখালেখির ক্ষেত্রেও! লেখার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী এ অভ্যাস গড়ে তোলার নেপথ্যে আছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভিপি শর্মা।
দুহাতে লেখার পারদর্শিতা বিশ্বে বিরল। যদিও কেউ তা পেরে থাকে তাহলে তা অভ্যাসবশত এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। কিন্তু বীণা বন্দিনি স্কুলের সব শিক্ষার্থীকেই বাধ্যতামূলকভাবে দুহাতে লিখতে হয়। শুরুতে বেশ অসুবিধা হলেও পরে এটা রপ্ত করে নেয় তারা। দুহাতে লেখার সময় দেখে মনে হয় এভাবে লেখাটা তাদের কাছে ছেলের হাতের মোয়া।
তবে এ স্কুলে ভর্তি হলেই যে শেখা হয়ে গেল তা নয়। চাই কঠোর অধ্যবসায়। স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক ১ ঘণ্টার ক্লাসে ৪৫ মিনিট মূল বইয়ের পড়াশোনা করে শিক্ষার্থীরা এবং বাকি ১৫ মিনিট তারা দুহাতে লেখার চর্চা করে।
কিন্তু ব্যতিক্রমী এ নিয়ম কেন? ভিপি শর্মা বলেন, ‘ভারতের প্রথম প্রেসিডেন্টের এ গুণ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি একটি ম্যাগাজিনে পড়েছিলাম প্রথম প্রেসিডেন্ট ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ দুহাতেই লিখতে পারতেন। তখন থেকেই আমার মনে হলো আমাদের শিশুরাও চর্চা করলে এটা পারবে। পরে আমার গ্রামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করার পর শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে থাকি। এখন আমার স্কুলের ৩০০ শিক্ষার্থীই দুহাতে সমানতালে লিখতে পারে। ’
১৯৯৯ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রাউলি জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বিনা বন্দিনি স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক সেনা ভিপি শর্মা। শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী কিছু শেখানোর নেশা আছে তাঁর। প্রধান শিক্ষক হয়ে খুব কাছ থেকে সবার দেখভাল করেন।
দুহাতে লেখার চর্চা শুরু হয় প্রথম শ্রেণি থেকেই। হাত পাকতে সময় লাগে প্রায় তিন বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে ওঠার পরই দেখা যায় সবাই সাবলীলভাবে দুহাত চালায়। তবে ৭ম-৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা লিখতে পারে দ্রুত ও নির্ভুল। আর ওই সময় থেকেই দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা দুহাতে দুই খাতায় একসঙ্গে লিখতে পারে ভিন্ন দুটি বিষয়।
 


মন্তব্য