kalerkantho


ভারত থেকে ভুটানে

লেখা ও ছবি : গোলাম কবির

৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ভারত থেকে ভুটানে

ট্যুরটির কথা মাথায় ঢোকালেন ইব্রাহিম খলিল। স্পটগুলোর কথা বললেন রেজাউল করিম।

এই দুই শিক্ষকের কথায় নিজেদের আর সামলে রাখতে পারিনি। ফলে ঠিক হলো, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র-ছাত্রীরা ঘুরে বেড়াব—ভারত ও ভুটান। দলে আছি ১৫ জন, সঙ্গে তিন শিক্ষক। রাত ৯টায় ঢাকার কল্যাণপুর থেকে বাস ছাড়ল। সকাল ৭টায় পৌঁছলাম সীমান্তে। সকাল ১১টায় সব কাজ সেরে দুটি জিপে চললাম ভারতে। শিলিগুড়িতে খাবারের জন্য ঘণ্টা দুয়েক থামলাম। ফের দুটি জিপ নিয়ে দার্জিলিংয়ের মিরিকে। বিকেল ৪টায় সেখানে পা পড়ল। মিরিকের মূল আকর্ষণ সুমেন্দু লেকে গেলাম। একদিকে বাগান, অন্যদিকে পাইনের সারি। বিকেল ৪টার পর লেকে বেড়ানো নিষেধ বলে তেমন ঘোরা হলো না। একটু দেখে, এক পাহাড়ি পথ ধরে চলে গেলাম দার্জিলিং শহরে। আগেই শীতের পোশাক পরেছিলাম, তার পরও হাড়ে কাঁপুনি ধরে গেল। অথচ স্থানীয়রা বলছেন, এটি তাঁদের গরমকাল! রাত ১০টার মধ্যে ফিরে এসে খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। পরদিন টাইগার হিল, বাতসিয়া লুপ ও বৌদ্ধ বিহার দেখলাম। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার জন্য যেসব গুর্খা সৈন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণে বাতসিয়া লুপ বানানো হয়েছে। এরপর রক গার্ডেনে। এক পাশে খাদ, অন্যদিকে বিশাল পাহাড়ের মধ্যে চলছে জিপ। মনে হচ্ছে, এখনই বুঝি নিচে পড়ে যাব। টেনসিং রক, টি-গার্ডেন, রোপওয়ে, তিব্বতীয়দের আশ্রয়কেন্দ্র, হিমালয়ান মাউন্টেরিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন ও চিড়িয়াখানা ঘুরলাম। রাতে জম্পেশ আড্ডা হলো। পরদিন ভুটানে যাব বলে ভোর ৪টায় রওনা দিলাম। পাহাড়ি পথ ধরে জিপ নামছে। তাই সবারই কমবেশি মাথা ঝিমঝিম করছে। চা-বাগানে নেমে নাশতা খাওয়া হলো। দুপুরে চোখে পড়ল ভুটান গেট। ভারত ও ভুটানের পাঁচ কিলোমিটারের এই সীমান্ত দিয়ে যখন খুশি আসা-যাওয়া করা যায়। ভুটানে পা রেখেই অবাক হয়ে গেলাম। গোছানো, পরিষ্কার দেশ! ট্যুরিস্ট বাসে চেপে বসতেই ড্রাইভার সতর্ক করে দিলেন, রাস্তায় ময়লা ফেলা যাবে না, বাসে বসে কিছু খেলে সেটি আবর্জনার বাক্সে জমা রাখতে হবে। সন্ধ্যায় থিম্পু গেট পেরিয়ে গেলাম। সেদিন রাতে হোটেলে পৌঁছে খেয়েদেয়ে ঘুম। পরদিন ভোরে টানা দুই ঘণ্টা হেঁটে এক হাজার ৬২০ শতকের পুরনো চেরি মোনাস্ট্রি দেখতে গেলাম। দুর্গম গিরিপথ পেরিয়ে এখানে অনেকে ধ্যান, আধ্যাত্মিক জ্ঞান নিতে আসেন। এটি তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। বিহারের পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দেখি, নিচ দিয়ে খরস্রোতা নদী বয়ে চলেছে, চারপাশে হিম বাতাস। ফিরে এসে খেয়েদেয়ে শহর দর্শন শুরু হলো। আমাদের ঢাকার কারওয়ান বাজারের মতোই বিশাল এই বাজারকে তারা বড় বাজার বলে। সবাই খুব শান্ত, শৃঙ্খলা মেনে বাজার করছে। চেহারায় সন্তুষ্টির ছাপ। কোথাও ময়লা নেই, সব পরিপাটি। বেশির ভাগ বিক্রেতা নারী, আশপাশে তাদের সন্তান খেলছে। হঠাত্ দেখি, একটি লোক পকেটে চকোলেটের প্যাকেট ভরছেন। পিছু নিয়ে দেখলাম, তিনি ময়লার বাক্সে সেটি ফেললেন। পরদিন ভুটানের পার্লামেন্ট হাউস গেলাম। ভুটানের ২০টি জেলার প্রতিনিধি ও রাজার নিযুক্ত পাঁচজনকে নিয়ে তাঁদের স্থাপত্যরীতিতে বানানো এই সংসদ ভবন। এ ছাড়া এখানে আছে ‘রাজা জিগমে দরজি ওয়াংচুক’-এর স্মৃতিতে বানানো মন্দির মেরোরিয়াল চোর্তেন। ভুটান ঘুরে আবার চলে এলাম ভারতের শিলিগুড়িতে। ঘুরলাম ডুয়ার্সের গরুমারা, চাপামারা, জলদাপারা, গজলডোবা, ঝালংয়ে। বনের গভীরে যত গিয়েছি, গা ছমছম করেছে। বনের এখানে-সেখানে সাইনবোর্ডে লেখা আছে—‘আস্তে চলুন, সামনে হাতি চলাচলের পথ। ’ ১৯৪৯ সালে ডুয়ার্সকে ‘অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। তার আগে এটি ‘শিকারি প্রাণী সংরক্ষণকেন্দ্র’ ছিল। রাতে বনের এক রিসোর্টে বারবিকিউ হলো। ডুয়ার্সের পশ্চিমে তিস্তা নদী, পুবে আসাম, উত্তরে ভুটান, দক্ষিণে কোচবিহার। পরদিন ভোরে দিল পার্ক, ক্যাকটাস গার্ডেন ঘুরে এক হোটেলে পাহাড়িদের খাবার মম খেলাম। পরদিন বিধান মার্কেটে কেনাকাটা করতে গেলাম। দাম ঢাকার চেয়েও বেশি বলে সামান্য কেনাকাটা করেই চলে এলাম। এরপর ফিরে এলাম দেশে।

অনুলিখন : এম এ নাছের ভুঁইয়া


মন্তব্য