kalerkantho


ডিআইইউতে আছে

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনেক সেল আছে। তাদের নানা ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিআইইউতে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত হচ্ছে

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এডুকেশন সেল (আইকিউএসি) : এই সেলের মাধ্যমে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের ‘পিয়ার রিভিউ’ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁদের সুপারিশের আলোকে সেই বিভাগগুলো থেকে ‘ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান’ তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে বিভাগ উন্নয়নের কাজ চলছে।

আইকিউএসি সেলটি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব কোয়ালিটি এডুকেশনাল সেল হিসেবে কাজ করে। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইউজিসি ও ডিআইইউর  এডুকেশন কোয়ালিটি ইনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) বিষয়ে স্বাক্ষরিত হায়ার সমঝোতা স্মারক চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। এখানে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে সাতটি অ্যাসেসমেন্ট কমিটি কাজ করছে।

গবেষণা ও প্রকাশনা সেল : এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি গবেষণা ও প্রকাশনা সেল আছে। এটির পরিচালক ড. মো. সানা উল্লাহ। এই সেল থেকে ‘ডিআইইউ জার্নাল’ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া সেলের অধীনে প্রতিটি বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষক বছরে অন্তত দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।

সোশ্যাল বিজনেস একাডেমিক সেল : এ দেশের সামাজিক ব্যবসার প্রসারে ডিআইইউর এই সেল বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে। সেলটির সঙ্গে ইউনূস সেন্টারের মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে সোশ্যাল বিজনেস একাডেমিয়ার মাধ্যমে কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। সেখানে এই ধারণার জনক নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান আলোচক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। এই সেলের অধীনে সামাজিক ব্যবসার ওপর তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদি কোর্সও পরিচালনা করা হয়।

টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল : শুধু শিক্ষা বিস্তারই নয়, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তার সামাজিক দায়বদ্ধতাও পূরণ করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সেল আছে। সেটির অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণসমাজের মধ্যে ধূমপানবিরোধী পথসভা, মানববন্ধন, ধূমপানের কুফল নিয়ে কর্মশালা করা হয়। দেশে ধূমপানবিরোধী আইন বাস্তবায়নে সেলটি অনন্য ভূমিকা রেখেছে বলে জানান সেলের কর্মকর্তারা।    

হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি সেল : বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এই সেলের অনন্য ভূমিকা আছে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি সেল নিপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের আইনি সহায়তা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর। এ জন্য তারা মানবাধিকারবিষয়ক সেমিনার ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলেছে।

ডিবেটিং ক্লাব : এই ক্লাব ছাত্র-ছাত্রীদের বিতর্কচর্চার জন্য নিয়মিত বিতর্ক কর্মশালা, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা এই ক্লাবের সদস্য হন। তাঁরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য পান। সর্বশেষ ক্লাবটি ক্যামব্রিয়ান-এটিএন বাংলা ‘পার্লামেন্টারি ডিবেট’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

কালচারাল ক্লাব : এই ক্লাব বিভিন্ন সময়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আয়োজনে ও জাতীয় দিবসগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চনাটক, সমাজ সচেতনতামূলক পথনাটকের আয়োজন করে। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্লাবটির বিশেষ ভূমিকা আছে। কালচারাল ক্লাব প্রতিবছর নজরুল উত্সব, রবীন্দ্রজয়ন্তী, লালন উত্সব ও বৈশাখী উত্সব করে।

স্পোর্টস ক্লাব : এই স্পোর্টস ক্লাব বছরের বিভিন্ন সময় ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ভলিবল, হ্যান্ডবল, ইনডোর গেমসের আয়োজন করে। স্পোর্টস ক্লাবের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এর বাইরে প্রতিটি বিভাগ থেকেও প্রতি সেমিস্টারে ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে।

ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব : এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করতে হয়। তাঁদের বাধ্যতামূলক ‘বেসিক ইংলিশ’, ‘ফাংশনাল ইংলিশ’, ‘প্রিলিমিনারি ইংলিশ’ ও ‘অ্যাডভান্সড ইংলিশ কোর্স’-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’-এর মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। সে জন্য ডিআইইউ ‘ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট, ঢাকা’র সঙ্গে ‘এমওইউ’ স্বাক্ষর করেছে।


মন্তব্য