kalerkantho


ক্যাম্পাস সংবাদ

দুর্যোগ সচেতনতার উত্সব গভর্নমেন্ট বয়েজে

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুর্যোগ সচেতনতার উত্সব গভর্নমেন্ট বয়েজে

লাইফ সেভিং ডিভাইসের তিন কারিগর (বাঁ থেকে) সাদিদ মাহাদি, আলিফ মাহমুদ ও রিজওয়ান আহমেদ অম্লান

স্কুল-কলেজের এ উত্সবের মৌসুমে ভিন্নধর্মী আয়োজন করল ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল। স্কুলটির রেড ক্রিসেন্ট টিম আয়োজিত ‘ফার্স্ট ইন্টার-স্কুল ডিজ্যাস্টার সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফেস্টিভাল ২০১৭’।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ উত্সবের মূল আইডিয়াটা আসে ওই স্কুল থেকে পাস করা তিন বন্ধুর মাথা থেকে। তাঁরা হলেন—সজল মোস্তফা, মোহাম্মদ ইয়ামিন ইসলাম ও নাজমুল আহসান শাওন।

কলেজপড়ুয়া এই তিন শিক্ষার্থী ঢাকা রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথের সদস্য। সজল মোস্তফা জানালেন, ‘বিভিন্ন রকম উত্সব দেখা যায়। কিন্তু দুর্যোগ নিয়ে সচেতনতামূলক কোনো আয়োজন দেখা যায় না। সে জন্যই আমাদের এই আয়োজন। ’

উত্সবটি চলছে তিন দিন ধরে। অনলাইনে নিবন্ধন করে দশটি স্কুলের ষাটজন ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশ নেয়। দুর্যোগ নিয়ে প্রজেক্ট প্রদর্শন, দেয়াল পত্রিকা, ছবি আঁকা, উপস্থিত বক্তৃতা, কুইজ, আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি ছিল ভিন্নধর্মী আয়োজন—ফাস্টেস্ট ফার্স্ট এইডার কম্পিটিশন।

কিছু স্বেচ্ছাসেবীকে রোগী সাজানো হয়। এরপর প্রতিযোগীদের কাজ হলো দক্ষ হাতে রোগীদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া।

উত্সবে অংশ নিয়েছে ওয়াইডাব্লিউসিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বনানী বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুল, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রভৃতি।

ফাস্টেস্ট ফার্স্ট এইড কম্পিটিশনে অংশ নিয়ে সিনিয়র গ্রুপে প্রথম হয়েছে বনানী বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুলের সুমাইয়া শারমিন ইশা ও মিথিলা ফারজানা। দেয়াল পত্রিকাতে এ দুজন তৃতীয় হয়েছে। দুজনেই জানাল, ‘অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না। আমরা অনেক খুশি!’ 

ভয়াবহ বন্যায় শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধের অভিনব উপায় বের করে প্রজেক্ট ডিসপ্লে ক্যাটাগরির সিনিয়র সেকশনে প্রথম হয়েছে মনিপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী—রিজওয়ান আহমেদ অম্লান, আলিফ মাহমুদ ও সাদিদ মাহাদি। প্রজেক্টের নাম ‘লাইফ সেভিং ডিভাইস’ অর্থাত্ জীবন বাঁচানোর যন্ত্র।

প্রজেক্ট ডিসপ্লেতে জুনিয়র গ্রুপে প্রথম হয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাবাসসুম প্রমি ও তাহসিনা রহমান। তাদের বিষয় ছিল বন্যার সতর্কতা, প্রজেক্টের নাম ‘ফ্লাড অ্যালার্মিং’।

‘সেভ আওয়ার ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে দেয়াল পত্রিকায় জুনিয়র গ্রুপে প্রথম হয়েছে ওয়াইডাব্লিউসিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইসাবাহ আদ্রিতা ও রিসানা বিনতে আহসান।

উত্সবের সাইকেল স্টান্ট প্রদর্শনীটাও ছিল দেখার মতো। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সনদ দেন সিনিয়র শিক্ষক লুত্ফুর রহমান ও হাবিবুর রহমান।    

লাইফ সেভিং ডিভাইস
এই যন্ত্রের দুটি অংশ। একটি থাকবে শিশুর কাছে, অন্যটি অভিভাবকের কাছে। দুটিতেই আছে একটি করে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ট্রান্সমিটার। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে শিশু পানির সংস্পর্শে এলেই অন্য যন্ত্রটিতে অ্যালার্ম বাজবে। পানি বিদ্যুত্ পরিবাহী হওয়ায় পানির সংস্পর্শে ট্রান্সমিটার চালু হবে ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পাঠাবে। ফ্রিকোয়েন্সিটি শিশুর মা-বাবার কাছে থাকা রিসিভারটি রিসিভ করবে এবং আলো ও শব্দ তৈরি করবে। এ ছাড়াও শিশুর জামা-কাপড়ে লাগানো যন্ত্রটিতে মিউজিক্যাল সার্কিটও রয়েছে। এতে মা-বাবা যদি কোনো কারণে সিগনাল না পেয়ে থাকেন, তবে আশপাশের মানুষ ওই শব্দ শুনতে পাবে।

ডিভাইসটি তৈরিতে কোনো কোডিং ব্যবহার করা হয়নি বাণিজ্যিকভাবে বানাতে গেলে ১৭৫-২০০ টাকা খরচ হবে। ভবিষ্যতে এ প্রকল্প নিয়ে আরো কাজ করার ইচ্ছা আছে তিন বন্ধুর। যন্ত্রটাকে চাইলে ছোট করে হাত-ঘড়ি কিংবা রিস্টব্যান্ড আকারে তৈরি করা যাবে। রিজওয়ান আহমেদ জানাল, তার ইচ্ছা ইলেকট্রনিক ও প্রকৌশলে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার। মাহদি হতে চায় কম্পিউটার প্রকৌশলী। তবে খালিদের ইচ্ছা ডাক্তার হবে।

বন্যার সতর্ক সংকেত দেবে তাহসিনা রহমান (বামে) ও তাবাসসুম প্রমির যন্ত্র ফ্লাড অ্যালার্মি
‘ফ্লাড অ্যালার্মিং’
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্রী তাবাসসুম প্রমি ও তাহসিনা রহমান। দুজনেরই এটা প্রথম ফেস্ট। প্রজেক্ট ডিসপ্লের জুনিয়র বিভাগে প্রথম হয়েছে তাদের ‘ফ্লাড এলার্মিং’ প্রজেক্ট। বন্যাপ্রবণ এলাকায় বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার যন্ত্র এটি। এতে তারা ব্যবহার করেছে রেজিস্টার, ট্রানজিস্টার, ব্যাটারি, এলইডি লাইট, স্পিকার ও খুঁটি। খুঁটিটি নদীর পারে স্থাপন করতে হবে। তার ভেতর যাবতীয় যন্ত্রপাতি লাগাতে হবে। পানি বিপত্সীমার ওপরে উঠলে বন্যার প্রাথমিক সংকেত দেবে এবং সবুজ বাতি জ্বলবে। পানি এলাকায়  —আফরা নাওমী


মন্তব্য