kalerkantho


চৌকস

ফুরসৎ নেই তার

কেজি-নার্সারি থেকেই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুরস্কার পেয়ে অভ্যস্ত। সমাজকর্মে লেগে আছে আঠার মতো। কৃষিতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ নিয়েও বড় স্বপ্ন তার। দশম শ্রেণি পড়ুয়া আল-হোসাইন আহম্মেদের গল্পটা শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফুরসৎ নেই তার

রাজধানীতে আসার পর ভর্তি হয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে। প্রথম বছরেই খেলাধুলায় পুরস্কার পায়।

ভাবল পুরস্কার পাওয়াটা কঠিন কিছু নয়। জড়িয়ে পড়ল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতাতেও আবিষ্কার করল নিজের প্রতিভা।

তাই বলে পড়াশোনায় কমতি নেই। পিএসসি ও জেএসসি—দুটিতেই টেলেন্টপুলে বৃত্তি আসে। ক্লাস সিক্সে উঠেই যোগ দেয় বিএনসিসিতে। ২০১৪-২০১৭ সাল পর্যন্ত ‘জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশ’ প্যারেডে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের প্যারেড দলের নেতৃত্ব দিয়েছে ও।

সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর অ্যাথলেটিকসে ক্যান্টনমেন্ট থানায় চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৫-২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই শিরোপা অক্ষতই থাকে।

২০১৬-২০১৭ সালে জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলায় ঢাকা মহানগরেও চ্যাম্পিয়ন হয়। পুরস্কার আছে বিতর্কেও।

ওদিকে থেমে নেই বিজ্ঞান চর্চা। এ কাজে তার পছন্দ। নটর ডেম কলেজ বিজ্ঞান মেলা-২০১৬তে জুনিয়র বিভাগে ‘আলুগাছে টমেটো উৎপাদন’ নিয়ে একটি প্রজেক্ট দেখিয়ে দ্বিতীয় হয়। প্রজেক্টটি ছিল আলু ও টমেটো গাছ একসঙ্গে কলম করে একই গাছে আলু ও টমেটো উৎপাদন।

আল-হোসাইন জানাল, ‘বিজ্ঞানের প্রজেক্ট নিয়ে আমার অনেক আগ্রহ। ছোটবেলা থেকেই কৃষি প্রজেক্ট নিয়ে আগ্রহ বেশি। এটা-ওটা বানানোর চেষ্টাও করতাম। আমার ওই প্রজেক্টটি বড় আকারে করলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কম খরচে একটি গাছ থেকে দুটি ভিন্ন রকমের ফসল পাওয়া যাবে। ’ আল-হোসাইন তার স্কুলের বিজ্ঞান ক্লাবের সভাপতি।

এত এত কাজের ভিড়ে সমাজকর্মের কথা কিন্তু একটু ভুলে যায়নি আল-হোসাইন। জেএসসির পরপরই শুরু হয় তার পথশিশুদের নিয়ে কার্যক্রম। সেই বছর বন্ধুরা মিলে প্রায় দেড় শ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে শীতের কাপড় দিয়েছিল। কাজটি তাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না যদিও। ‘আমাদের কাছে পোশাক কেনার টাকা ছিল না। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল। আর সেই জোরে বন্ধুরা মিলে জোগাড় করে ফেলি দেড় শ কাপড়। ’ কেউ চাঁদা দিয়ে আবার কেউ নিজেদের শীতের পোশাক দিয়েই ওই বছর পথশিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এরপর এ ধরনের কাজের ইচ্ছা আরো বেড়ে যায় তার। ২০১৬ সালে বন্ধুরা মিলে প্রতিষ্ঠা করে পথশিশুদের জন্য ‘শিশুর পথচলা’ নামে একটি দল। ওই দলের নেতাও আল-হোসাইন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বন্ধুরা মিলে চাঁদা তুলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও রাঙামাটিতে ‘ছিন্নমূল শিশুদের জন্য পিঠা উৎসব’ নামে একটি ইভেন্ট করে। ‘শিশুর পথচলা’র রয়েছে একটি অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজ— www.facebook.com/ShishurPothChola। এখানেই পাওয়া যাবে আল-হোসাইন টিমের কাজকর্মের নমুনা ও নতুন পরিকল্পনার কথা। আল-হোসাইন জানাল, ‘এ কাজ করতে সমস্যাও পোহাতে হয়েছে অনেক। কাজ করার ইচ্ছা ও চেষ্টার ফলে করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও করতে চাই। ’ এ ছাড়া আল-হোসাইন বিভিন্ন শিশু সংগঠনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছে।

অবসরে বই পড়ে। করে লেখালেখিও। যুক্ত আছে বেশ কয়েকটি শিশুতোষ পত্রপত্রিকার সঙ্গে। অভিনয়েও পারদর্শী। এরই মধ্যে একটি শর্টফিল্মে অভিনয় করা হয়েছে। বড় হয়ে অবশ্য বাবার মতো হতে চায় সেনা কর্মকর্তা। পাশাপাশি সমাজকর্মী হিসেবেও কাজ করতে চায়।


মন্তব্য