kalerkantho


ক্যাম্পাস সংবাদ

খুদে হাতে বড় ক্লিক

১০ নভেম্বর ঢাকার দৃক গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ফটোগ্রাফিক ক্লাবের আয়োজনে প্রথম বিডিএস জাতীয় শিশু আলোকচিত্রী অ্যাওয়ার্ড-২০১৭। দুই হাজারের বেশি ছবি থেকে বাছাই করা দেড়শ ছবি প্রদর্শিত হয় তাতে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয় পুরস্কার। কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এ আয়োজন নিয়ে লিখেছেন নাদিম মজিদ

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



খুদে হাতে বড় ক্লিক

‘এ পেইন্টিং ইন রিমাইন্ডস অব টোয়েন্টি ফার্স্ট ফেব্রুয়ারি’, বেস্ট ফটোগ্রাফার অব দি ইয়ার, ফাইজা বিনতে মোজাম্মেল

১০ নভেম্বর বিকেল ৫টা। দৃক গ্যালারিতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।

ভেতরে প্রবেশ করে তৃতীয়তলায় যেতেই প্রচুর ভিড়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মিলে ছবি দেখছেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন অনেকে। ছবি ও ছবির সঙ্গে ক্যাপশন বিবেচনা করে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয় ১৫০টি ছবি। ক্যামেরা ও মোবাইল—দুই ক্যাটাগরিতেই তোলা ছবি এখানে স্থান পায়। সেখান থেকে একজন নির্বাচিত হয় বেস্ট ফটোগ্রাফার অব দি ইয়ার এবং ১০ জনকে দেওয়া হয় ফটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড।

প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ফটোগ্রাফিক ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের ছাত্রী জেনিলিসা মীম জানান, ‘ফটোগ্রাফি নিয়ে আমাদের দেশে বিভিন্ন উৎসব ও প্রতিযোগিতা হয়। আমরা অনূর্ধ্ব-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছি। ’

মোবাইল ক্যাটাগরিতে প্রথম হয় ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রিফা আনোয়ার, দ্বিতীয় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের রাফরাফিন ইসলাম ও তৃতীয় মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি হাই স্কুলের আদ্রতা খান, চতুর্থ হন ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সারা হাসান এবং পঞ্চম হন একই প্রতিষ্ঠানের মাশিয়াত লাবিবা মিনাম।

  ক্যামেরা ক্যাটাগরিতে প্রথম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়ালের আলীম আল রাজী, দ্বিতীয় মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এনামুল হাসান রিফাত, তৃতীয় উত্তরা হাই স্কুলের মো. আশরাফুল ইসলাম, চতুর্থ ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তারিফুল ইসলাম লিনকন ও পঞ্চম ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাফিসা তাবাসসুম লামিয়া। বেস্ট ফটোগ্রাফার অব দি ইয়ার জেতে সাউথ পয়েন্ট কলেজের ফাইজা বিনতে মোজাম্মেল।  

‘দ্য লাইট অব হোপ’, ক্যামেরা ক্যাটাগরিতে প্রথম আলীম আল রাজী

ক্যামেরা ক্যাটাগরিতে প্রথম আলীম জানাল, ‘আমার ছবির নাম দি লাইট অব হোপ। ছবিটি দুই মাস আগে ধানমণ্ডির একটি রেস্তোরাঁয় তোলা। একটি পাত্রের ওপর মোমবাতি জ্বলছিল। সঙ্গে ছিল ক্যামেরা। ছবিটি তুলতে দেরি করিনি। ’

বেস্ট ফটোগ্রাফার অব দি ইয়ার অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সাউথ পয়েন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ফাইজা বিনতে মোজাম্মেল বলল, ‘ক্যামেরা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার না জেতায় মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বেস্ট ফটোগ্রাফার অব দি ইয়ারের পুরস্কার পাওয়ায় আমি দারুণ খুশি। ’

‘খুব দুপুর’, মোবাইল ক্যাটাগরিতে প্রথম, রিফা আনোয়ার

মোবাইল ক্যাটাগরিতে প্রথম হওয়া রিফা জানাল, ‘পূজার ছুটিতে কুষ্টিয়ায় নানুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আকাশের ছবি তুলতে আমার এমনিতেই ভাল লাগে। সেদিন ছিল একেবারে রোদেলা দুপুর। হাতে ছিল স্মার্টফোন। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হলো এমন ছবি না তুলে পারা যায় না। ’

অন্যরকম এ আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ফটোগ্রাফি ক্লাবের সভাপতি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল ইসলাম লিসান জানান, ‘বিতর্ক যেমন সমাজের চোখ খুলে দেয়, ফটোগ্রাফিও তাই। ছোটদের ফটোগ্রাফিতে উৎসাহী করতে আমরা এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। প্রথম আয়োজনেই প্রচুর সাড়া পেয়েছি। ’


মন্তব্য