kalerkantho


চৌকস

বাংলা ভাষায় প্রগ্রামিংয়ের জগৎ তৈরি করতে চায় আরিফিন

ছোটবেলা থেকেই বাংলা নিয়ে বেশ আগ্রহ তার। প্রগ্রামিং, কুইজ, বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতাসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতায় রয়েছে শতাধিক পুরস্কার। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাজুল আরিফিনের গল্পটা শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা ভাষায় প্রগ্রামিংয়ের জগৎ তৈরি করতে চায় আরিফিন

আরিফিন তখন খুব ছোট। বাবা আস্তে আস্তে শুরু করলেন ছেলেকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়া। তখন বাবার ইচ্ছা প্রতিদিন ছেলেকে একটি অক্ষরের বেশি না শেখানোর। কিন্তু সে একটির বেশি শেখার জন্য কান্নাকাটি করত। এভাবেই শুরু। ছোটবেলা থেকেই আরিফিন বেশ ভালো রচনা লিখতে পারত। ২০০৯ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের রচনা প্রতিযোগিতায় তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি বিভাগে প্রথম হয়। তারপর একে একে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শুরু। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রথম অংশগ্রহণ করে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়। ভাষা প্রতিযোগে অংশগ্রহণ করে সেবার জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়। স্কুলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া যেন অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। তবে আরিফিন সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পেয়েছে রচনা প্রতিযোগিতায়। এদিকে গণিতে তার আগ্রহও বেশ। তাই গণিত অলিম্পিয়াডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে সে। গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম পুরস্কার পায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়। আঞ্চলিক গণিত উৎসবে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ে যখন অংশ নেয় , তার তখন এসএসসি পরীক্ষা চলছিল। তার পরও পরীক্ষার গ্যাপের মধ্যে ঢাকায় চলে যায় অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে।

২০১৭ সালে একদিন ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদের গাড়ি দেখে বন্ধুরা মিলে নিবন্ধন করে ফেলে। বন্ধুরা বাদ পড়ে গেলেও আরিফিন চলে আসে মূল পর্বে। তারপর বিভিন্ন পর্বের প্রতিযোগিতা শেষে ইস্পাহানি মির্জাপুর ও চ্যানেল আইয়ের আয়োজনে এই মহোৎসবে দ্বিতীয় সেরা বাংলাবিদের খেতাব অর্জন করে। অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানতে চাইলে আরিফিন বলে, ‘অনুপ্রেরণা পরিবার থেকে পাই। সেখানে আলাদা করে কাউকে বলাটা কষ্টকর একটু, তবে যদি বলতেই হয় আম্মুর কথা বলব।’ এত কিছুর মধ্যেও পড়াশোনায় কমতি নেই। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

অবসরে গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে। আরিফিনের বাবা একজন স্কুলশিক্ষক। বাবার কাছ থেকেই বই পড়ার উৎসাহ পায়। আরিফিন যে ঘরে থাকে তার চারদিকে তাকগুলো বই দিয়ে সাজানো। এ ছাড়াও সময় পেলে মুভি দেখতে ও গান শুনতে ভালো লাগে। তার খুব পছন্দের একটা কাজ হলো নতুন নতুন বন্ধু তৈরি করা। কোনো ক্যাম্প বা প্রতিযোগিতায় গেলে বেশ কিছু নতুন বন্ধু হয়েই যায়। ফলে সারা দেশেই বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার সেসব প্রতিযোগিতার বন্ধু।

আরিফিনের ইচ্ছা বাংলা ভাষায় প্রগ্রামিংয়ের জগৎ তৈরি করার। ‘বাংলা ভাষায় প্রগ্রামিংয়ের ব্যাপারটা হঠাৎ করেই ভাবা। মনে হয়েছিল যে চীন, জাপান যদি তাদের নিজেদের ভাষায় প্রগ্রামিংয়ের জগত্টা তৈরি করে নিতে পারে, আমরা কেন পারব না। তবে জানি না এই কাজটা কখনো করে উঠতে পারব কি না! তবু স্বপ্ন দেখি। মানুষ তো তার স্বপ্নের সমানই বড়।’ জানাল আরিফিন। তার প্রথম ইচ্ছা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করা। ২০১৪ সালে প্রথমবার যখন ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রগ্রামিং কনটেস্টে বুয়েটে যায় তখন থেকেই বুয়েটের ওপর ভালোবাসা জন্মে গেছে। ক্যাম্পাস দেখে তার মনের ভেতর একটা স্বপ্ন গেঁথে গেছে যে এখানে তাকে পড়তেই হবে। তাই পড়াশোনা করছেও বেশ। বড় হয়ে হতে চায় একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী।

 

আরিফিনের যত পুরস্কার

২০১৩ সালে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে গণিত ও কম্পিউটার বিভাগে প্রথম।

২০১৩ সালে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় জেলা পর্যায়ে ডিজিটাল চিত্রাঙ্কনে প্রথম। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস রচনা প্রতিযোগিতায় জেলায় প্রথম ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদকবিরোধী রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম। 

২০১৫ সালে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে ভাষা ও সাহিত্য, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ—এই তিনটি বিভাগেই প্রথম স্থান লাভ এবং জেলাপর্যায়ে গণিত ও কম্পিউটার বিভাগে প্রথম।

ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রগ্রামিং কনটেস্টে কুইজে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয়।

বাংলাদেশ ফিজিকস অলিম্পিয়াডে আঞ্চলিক পর্যায়ে চতুর্থ।

২০১৬ সালে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় জেলায় প্রথম।

জাতীয় শিশু-কিশোর কুইজ উৎসবে আঞ্চলিক পর্যায়ে দলীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন। 

৩৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় উপজেলায় প্রথম। 

২০১৭ সালে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ পাঁচে অন্তর্ভুক্ত হয়ে এক বছরের শিক্ষাবৃত্তি লাভ।

এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে সাতবার। এ ছাড়া ছোট-বড় অনেক পুরস্কার রয়েছে আরিফিনের।


মন্তব্য