kalerkantho


টিফিন আওয়ার

আমাজনের স্কুল

দুর্গম আমাজন জঙ্গলের গহিনে বাস করা ছেলে-মেয়েরা কিভাবে লেখাপড়া করে সে খবর জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আমাজনের স্কুল

প্রজেক্ট অ্যামাজোনাস কর্মসূচির মাধ্যমে স্থাপিত কোমানডানসিয়া গ্রামের স্কুল

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু। এই দেশের পূর্ব-দক্ষিণ অংশ দখল করে আছে বিখ্যাত আমাজন বন। জঙ্গলে দেখা মেলে এমন মানুষ বলতে অল্প কিছু ইন্ডিয়ান আদিবাসী আর গরিব দো-আশলা লোকজন। সংখ্যায় যা পেরুর মোট জনসংখ্যার মাত্র পাঁচ শতাংশ। শিকার আর চাষবাস করেই দিন কাটে অরণ্যচারী এই মানুষগুলোর। এদিকে তাদের বাসস্থান যে জঙ্গলে, সেটি পেরুর মোট আয়তনের ৬০ শতাংশ দখল করে আছে।

কিন্তু শুধু শিকার করে তো আজকালকার দুনিয়ায় টিকে থাকা যায় না। দরকার যে শিক্ষা! পেরু সরকার তাই এই দুর্গম অঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্রতিষ্ঠা করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তায় এই বিদ্যালয়গুলো স্থাপন করা হয়েছে প্রজেক্ট অ্যামাজোনাস নামে এক কর্মসূচির মাধ্যমে। ২০ বছর ধরে চলে আসা এই কর্মসূচির কল্যাণে পেরুর এই অঞ্চলের মানুষ পাচ্ছে শিক্ষার সুযোগ। শহরের অন্যান্য স্কুলের মতো এগুলোতেও সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাস হয়। স্প্যানিশ আর আদিবাসী ভাষার এই স্কুলগুলো কিন্তু প্রান্তিক এই শিশুদের জন্য খুবই দরকারি। এদিকে ড. সিমনস নামের এক ভদ্রলোকের আন্তরিক চেষ্টায় হোপ প্রজেক্টের মাধ্যমে পেরুভিয়ান আমাজনে বেসরকারিভাবে ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে।  এই বিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগই পেরুর সান্তা রোজা জেলায়।

তবে জঙ্গলের জীবন কঠিন। সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরেও স্কুলগুলো নিয়মিত চলতে হিমশিম খায়। দূরত্বের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই পড়তে পারে না। আসন সংকট লেগেই থাকে।  তা ছাড়া অরণ্যের কঠিন জীবনে শিশুরা মা-বাবাকে চাষবাস বা শিকারে সাহায্য করবে, এটাই প্রথা।

শিক্ষকদের সংখ্যাও কম। কে-ই বা সাধ করে জঙ্গলে পড়ে থাকতে চায়! জঙ্গলের স্কুলগুলোতে বেতন কম, সুযোগ-সুবিধাও অপ্রতুল। কাজেই সাধারণত সদ্য পাস করে বেরোনো শহুরে পেরুভিয়ানরা এখানে পড়াতে আসেন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। তারপর কিছু দিনের মধ্যেই শহরে পালিয়ে যান। সমস্যায় পড়ে যায় বাচ্চারা।

জঙ্গলের এই স্কুলগুলো বেশির ভাগই স্থাপন করা হয়েছে নদীর তীরে। কারণটা সোজা, জঙ্গলের আদিবাসীরাও প্রধানত নদীর তীরেই থাকতে ভালোবাসে। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কোমানডানসিয়া গ্রামের স্কুল, সান্তো টমাস স্কুল অন্যতম।

ওদিকে ইকুইতোসের মতো কিছু শহর ও এর আশপাশে গড়ে উঠছে মাধ্যমিক স্কুল। এই স্কুলগুলোতে পড়তে আসা বাচ্চাদের সহায়তা দেয় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি দাতব্য সংস্থা।

দুর্গম অঞ্চল আর নানা ধরনের সমস্যার মধ্যেই পেরুভিয়ান বাচ্চারা এখন পড়াশোনা শিখে সমাজে উঠে আসছে। পেরুর এই ভাঙাচোরা স্কুলগুলো থেকে পড়াশোনা শিখেই তারা পরবর্তী সময় নিজেদের বঞ্চিত সমাজকে পরিবর্তনের পেছনে শক্ত ভূমিকা রাখছে।



মন্তব্য