kalerkantho


চেলসিতে খেলতে চেয়েছিল শাফকাত

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলপ্রেমী সে। ফুটবল খেলে পেয়েছে অনেক পুরস্কার। তা ছাড়া পুরস্কার আছে অন্যান্য খেলায়ও। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ইংলিশ ভার্সনের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাফকাত হাসনাতের গল্পটা শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



চেলসিতে খেলতে চেয়েছিল শাফকাত

২০০৬ সালের কথা। শাফকাতের বয়স তখন মাত্র ছয় বছর। বাবার সঙ্গে বসে ফুটবল খেলা দেখছিল। সে তো তখন ফুটবল খেলা বুঝত না। বাবাকে বলল, বাবা, তুমি কী দেখছ? উত্তরে বাবা বললেন, হলুদ দলের খেলা। তার পর থেকে হলুদ জার্সির দলটির সমর্থক হয়ে যায় শাফকাত। আর ফুটবলের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা তৈরি হতে থাকে। আট বছর বয়স থেকেই নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন শুরু করে ও। তখন তারা থাকত সিলেটে। তার স্কুলেও খেলার মাঠ ছিল না। বাধ্য হয়েই বাসার গ্যারেজে চলত অনুশীলন। ২০০৮ সালে ঢাকায় চলে আসে শাফকাতের পরিবার। ২০১০ সালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়। স্কুলে ভর্তি হয়ে শাফকাত তো ভীষণ খুশি। কারণ নতুন স্কুলে রয়েছে ফুটবল খেলার বিশাল মাঠ। এবার আর তাকে বাসার গ্যারেজে বসে অনুশীলন করতে হবে না। ২০১২ সালে তাদের এলাকার স্ট্রাইকারস মাঠে প্রথম ফুটবল খেলা শুরু হয়। বড় ভাই তাকে ফুটবল খেলতে দিতেন না তখন। পরে অবশ্য অনুমতি মেলে। নিয়মিত অনুশীলন করতে করতে হয়ে ওঠে পাকা খেলোয়াড়। ফলাফল—২০১৪ সালে আবাহনী ইনডোর বাস্কেট বল গ্রাউন্ডে ফ্লাশব্ল্যাক দলের হয়ে খেলে এবং চ্যাম্পিয়ন হয়। তার পর থেকেই বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হতে থাকে। এরই মধ্যে সুযোগ হয় রেডিডেনসিয়াল মডেল স্কুল দলে। একপর্যায়ে দলের নেতৃত্বও দেয়। একাধিক প্রতিযোগিতায় তার নেতৃত্বে পুরস্কারও জিতে স্কুলটি। এরপর খেলে করপোরেট লিগেও।

২০১৬ সালে হঠাৎ মাথায় ভূত চেপে বসে ইংল্যান্ডে যাওয়ার। সেখানে গিয়ে চেলসি ক্লাবে অনুশীলন ও খেলার স্বপ্ন ছিল। ক্লাবটির ইয়ুথ অ্যাকাডেমিতে খেলার জন্য বাছাইয়ে অংশ নিতে হতো প্রথম। আর বাছাইয়ে উতড়ে যাওয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। কিন্তু বাসা থেকে প্রবল বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত যাওয়াই হয়ে উঠেনি। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল অনেক। ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে একটি মজার ঘটনা জানতে চাইলে শাফকাত বলে, ‘অনেক মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখার মজাই আলাদা। ২০১৩ সালে কনফেডারেশন কাপের ফাইনালে ব্রাজিল আর স্পেনের মধ্যে খেলা হয়েছিল এবং ব্রাজিল জয়ী হয়। আমরা প্রায় ৫০ জন মিলে তাজমহল রোড ঈদগাহ মাঠে খেলা দেখেছিলাম। প্রিয় দল জয়ী হওয়ায় আতশবাজি ফুটিয়েছিলাম। ওই দিনের স্মৃতি সারা জীবন মনে থাকবে।’ এ ছাড়া শাফকাত হ্যান্ডবল ও ক্রিকেটে পারদর্শী। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনায়ও ভালো। জেএসসি ও এসএসসি—দুটি পরীক্ষায়ই পেয়েছে জিপিএ ৫। ফুটবল নিয়ে তার জানাশোনাও আছে বেশ। অবসর সময় পেলে ইউটিউব থেকে পুরনো খেলাগুলো দেখে। কিভাবে বল শট করে কিংবা পাস করল—এ বিষয়গুলো দেখে দেখে রপ্ত করে। বাসায় ফুটবল সম্পর্কিত সংগ্রহও আছে। আছে জার্সি, বুট, ফুটবল, খেলোয়াড়দের ছবিসহ অনেক কিছুই। সে খেলে মিডফিল্ডার হিসেবে। ‘সারা দিন ফুটবল নিয়ে মেতে থাকতে ভালো লাগে। ফুটবল অনুশীলনে প্রচুর সময় ব্যয় করি। আর নিজের মতো করে খেলতে চাই।’ জানাল শাফকাত।

বাবা-ছেলে দুজনই ব্রাজিলের সমর্থক। বিশ্বকাপের পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে খেলা দেখছে। ফ্রান্সের পল পোগবা তার প্রিয় খেলোয়াড় এবং অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছা শাফকাতের।

স্কুলে স্কাউটের সঙ্গে যুক্ত ছিল শাফকাত। অংশ নিয়েছিল জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাম্পে। তখন  থেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় তার।

শাফকাতের যত অর্জন

২০১৫ সালে এইস প্রেজেন্টস ফুটসাল ফেস্টিভাল সিজন ৪-এ ৩২টি দলের মধ্যে শাফকাত সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়।

২০১৬ সালে ফুটবল ফেস্টিভালে তাদের দল চ্যাম্পিয়ন এবং সে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়।

২০১৬ সালে মিক্সড স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে তার দল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং শাফকাত সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়।

২০১৭ সালে বিজিএমইএ লিগে খেলার সুযোগ পায় এবং তার দল ‘এপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ তৃতীয় স্থান লাভ করে।

২০১৭ সালে ন্যাশনাল ফুটবল ফিয়েস্তায় তার নেতৃত্বে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০১৭ সালে তাদের স্কুলের ফুটবল টিম থানা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং মহানগরী পর্যায়ে সেমিফাইনালিস্ট হয়। সে তখনো ছিল স্কুল টিমের অধিনায়ক।

২০১৭ সালে হ্যান্ডবলে তাদের স্কুল থানা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও মহানগরী পর্যায়ে রানার্স-আপ হয়।

পোলার স্কুল হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে তার স্কুলের হ্যান্ডবল টিম রানার্স-আপ হয় এবং সে ওই টিমে খেলে।

এ ছাড়া স্কাউটের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে।

 

 



মন্তব্য