kalerkantho


টুকিটাকি

হিরোকাজুর অনন্য উদ্যোগ

অমর্ত্য গালিব চৌধুরী   

১১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



হিরোকাজুর অনন্য উদ্যোগ

ফুকুশিমার কথা সবারই মনে আছে। ২০১১ সালের মার্চে জাপানের ফুকুশিমায় সুনামি আর ভূমিকম্পের আঘাতে ঘটে যায় মারাত্মক এক পারমাণবিক দুর্ঘটনা। তেজস্ক্রিয়া আর ধ্বংসযজ্ঞের ধকল কাটিয়ে উঠতে ফুকুশিমার বাসিন্দাদের বহু দিন লেগে যায়। তবে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়ে শিশুরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবের পাশাপাশি নিরানন্দ জীবনে তারা হাঁপিয়ে উঠতে থাকে।

কাশিওয়া অঞ্চলের ৫৫ বছর বয়সী হিরোকাজু সুনোদা ঠিক করলেন ফুকুশিমার স্কুলপড়ুয়াদের জন্য কিছু করবেন। পেশায় তিনি জুতার দোকানি। কাজেই তাঁর প্রথম উদ্যোগই হলো গুদাম থেকে ৬০০ জোড়া মোজা বিলিয়ে দেওয়া।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত হিরোকাজু অন্তত ১০০ বারের মতো গিয়েছেন ফুকুশিমার তোহুকু আর কুমামোতো অঞ্চলে। মাঝেমধ্যেই কাজের চাপে হাঁপিয়ে পড়তেন, এ সময় তাঁর একমাত্র বিনোদন হয়ে উঠত ফুটবল। আর এই থেকেই তাঁর মাথায় আসে চমত্কার আইডিয়া। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময় হিরোকাজু নিজ দায়িত্বে আর খরচায় চারজন স্কুলছাত্রকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সশরীরে খেলা উপভোগ করার সুযোগ করে দেন। যদিও অনেকেই এটাকে অনর্থক কাজ মনে করে, তবে হিরোকাজুর ধারণা, নিজ চোখে বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা মাধ্যমিক স্কুলের এই চারজনের জন্য জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। হিরোকাজুর এবারের উদ্যোগও চমকে দেওয়ার মতো। এবার ফুকুশিমার জুনিয়র স্কুলের তিনজন ছাত্র-ছাত্রীকে রাশিয়া বিশ্বকাপের জাপানের একটি ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। রাশিয়া ভ্রমণে তাদের সঙ্গে অবশ্য হিরোকাজু নিজেও ছিলেন।

 

ল্যাম্বেথের মিনি বিশ্ব

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ছাত্র-ছাত্রীরা যে ইংলিশ ফুটবল টিমকেই সমর্থন দেবে, এ তো জানা কথা। কিন্তু দক্ষিণ লন্ডনের ল্যাম্বেথে আসলে দেখা যায় ব্যাপারটা এত সোজা নয়। এবারের বিশ্বকাপে যে ৩২টি দেশ অংশ নিচ্ছে, তাদের সব কয়টি থেকে আসা মানুষেরই বাস ল্যাম্বেথে। কাজেই ইংল্যান্ড ছাড়াও বাকি ৩১টি দেশ দেদার সমর্থন পেয়েছে এখানে। অবশ্য পর্তুগিজ আর পশ্চিম আফ্রিকান মানুষের সংখ্যাই সব থেকে বেশি।

স্বাভাবিকভাবেই ল্যাম্বেথের বিভিন্ন স্কুলে ইংরেজ ছাড়াও বাকি বহু জাতির ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করে। বিশ্বের আর কোথাও এক জায়গায় এত জাতীয়তা, সংস্কৃতির সমাবেশ হয়নি বললেও চলে। ১৩২টি ভাষায় বাতচিত করে এখানকার মানুষ। কাজেই বিশ্বকাপ এলে গোটা ল্যাম্বেথ যে জমকালো রূপ ধারণ করে তা বলাই বাহুল্য। এবারও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। উদাহরণ হিসেবে হার্নি হিলের জেসপ প্রাইমারি স্কুলের কথা ধরা যাক। এখানে যেসব ছাত্র-ছাত্রী পড়ে তাদের মধ্যে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ১৭টি দেশের বংশোদ্ভূত ছাত্র-ছাত্রী পাবে। এদিকে ফেনস্টেনটন প্রাইমারি স্কুলে দেখা মিলবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১২টি দেশের সমর্থকদের। এই দুই স্কুলের শিক্ষার্থীরা শরীরে নিজ দলের পতাকা জড়িয়ে চমত্কার সব ছবিও তুলেছে।

ল্যাম্বেথের বাসিন্দারা নিজেদের এই বৈচিত্র্য নিয়ে দারুণ গর্বিত। বিশ্বকাপের সব দলের সমর্থক এভাবে এক হয়ে খেলা দেখাটাও তো কম আনন্দের কথা নয়।

 

হোসে মরিনহোর ফুটবল বিতরণ

বিখ্যাত ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হোসে মরিনহোকে ফুটবল প্রেমিকরা এক নামে চেনে। তবে কোচিং করার পাশাপাশি ফুটবল-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজেও অংশ নিতে দেখা যায় বিখ্যাত এই কোচকে। যেমন—এবারের ২০১৮ বিশ্বকাপ উপলক্ষে সম্প্রতি তিনি হাজির হয়েছেন বিশপ গিলপিন নামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সেখানে বিলিয়েছেন দেদার ফুটবল সরঞ্জাম। সেই সঙ্গে স্কুলছাত্রদের ফুটবলবিষয়ক কিছু পরামর্শও দিয়েছেন।

কোচ হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি কুড়োনোর আগে মরিনহো নিজেও বছর পাঁচেক শিক্ষকতা করেছেন। স্কুল বা ছাত্র-ছাত্রীদের সংস্পর্শে থাকার ব্যাপারটা মরিনহো খুব উপভোগও করেন।

মরিনহোকে কাছে পেয়ে খুদে ফুটবল ভক্তদের খুশির সীমা ছিল না। তারপর আবার এত ফুটবলসহ ফুটবল খেলার নানা সামগ্রী পেয়ে তারা তো রীতিমতো খুশিতে আটখানা।

মরিনহো বিশ্বকাপে কোনো দলের কোচিং করাচ্ছেন না বটে, তবে নিজের পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে ছিল তাঁর জন্মভূমি পর্তুগাল। যদিও পর্তুগাল এবার বেশ আগেভাগেই বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে। তার পরও বিশ্বকাপটা নাকি ভালোই উপভোগ করছেন বর্তমান বিশ্বের সেরা কোচদের একজন।

        



মন্তব্য