kalerkantho


খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফুটবল মাঠে

নাবীল অনুসূর্য   

১১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফুটবল মাঠে

ফুটবল খেলায় যেকোনো দেশ বা ক্লাবের সবচেয়ে গৌরবের সময়টা আসে সম্ভবত খেলা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন দুই দলের খেলোয়াড়রা ড্রেসিং রুম থেকে মাঠে এসে পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। তারপর বাজে দুই দেশের জাতীয় সংগীত কিংবা ক্লাব দুটির থিম সং। খেলা শুরুর আগের এই সময় আবার প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন করে শিশু প্রতিনিধি থাকে। ওদের বলা হয় চাইল্ড মাস্কট। সঙ্গে আরেকজন শিশু আসে রেফারিদের সঙ্গে। তার হাতে থাকে ফুটবল। তাকে বলে বল ক্যারিয়ার। ব্যাপারটা এমনিতে হয়তো তেমন বড় মনে হচ্ছে না; কিন্তু একবার নিজেকে সেই শিশুদের জায়গায় চিন্তা করে দেখলে ব্যাপারটার গুরুত্ব বোঝা যায়। হাজার হাজার মানুষের সামনে প্রিয় দলের, হয়তো সেই দলে খেলা সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়টির সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করা! রীতিমতো সারা জীবন গল্প করার মতো একটা স্মৃতি। আর এই চাইল্ড মাস্কট আর বল ক্যারিয়ার নির্বাচিত করা হয় বিভিন্ন স্কুলে পড়া ফুটবলপ্রেমী খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে। কখনো কোনো ফুটবল স্কুল বা ফুটবল একডেমির খুদে খেলোয়াড়কেও নির্বাচিত করা হয়।

যতদূর জানা যায় সুন্দর এই রীতিটার প্রচলন হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর শুরুটা হয় ২০০০ সালের ইউরোতে। তারপর থেকেই নিয়মিত প্রতি খেলার শুরুতে দুই দলের সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে একজন করে চাইল্ড মাস্কট মাঠে প্রবেশ করে। আর একজন করে বল ক্যারিয়ার মাঠে বয়ে আনে ফুটবল। এই চাইল্ড স্কাউট আর বল ক্যারিয়ার সাধারণত ম্যাচে খেলা দেশ বা দলগুলোর মধ্যে থেকেই বাছাই করা হয়। এই চাইল্ড মাস্কট ও বল ক্যারিয়ারদের কেউ যে পরে বিখ্যাত খেলোয়াড় হয়ে যেতে পারে, তার সম্ভাবনাও কম নয়। এমনকি তার উদাহরণও আছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইংল্যান্ডের ওয়েইন রুনি। এভারটনের হয়ে চাইল্ড মাস্কট হিসেবে একদা মাঠে প্রবেশ করা স্কুল পড়ুয়া রুনির ফুটবলার হিসেবে উত্থানও ওই এভারটনের হয়েই। পরে তো তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি খেলোয়াড়ই হয়ে গেছেন।

২০০০ সালের ইউরোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা এই রীতি চালু করার পর থেকেই প্রতি বিশ্বকাপে চাইল্ড মাস্কট ও বল ক্যারিয়ার হিসেবে শিশুদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই জন্য ২০০২ বিশ্বকাপ থেকেই ফিফা এক নতুন প্রতিযোগিতা চালু করেছে। ম্যাকডোনাল্ড’স প্লেয়ার এসকোর্ট নামের এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ থেকে শিশুদের বাছাই করে নেওয়া হয়। তারাই নিজ নিজ দলের খেলাগুলোতে চাইল্ড মাস্কট ও বল ক্যারিয়ার হয়। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, ফিফার অন্যান্য টুর্নামেন্টগুলোর জন্যও এই প্রগ্রামের আওতায় শিশুদের বাছাই করা হয়।

তবে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে এর সঙ্গে আরো কয়েকটি নতুন প্রতিযোগিতা যুক্ত হয়েছে। এমন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল কিয়া মটর্স। তার ভিত্তিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়েছে ৬৪ জন শিশুকে। এই যেমন যুক্তরাজ্য থেকে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নিজের দলের সঙ্গে চাইল্ড মাস্কট হয়ে মাঠে গিয়েছিল স্কুলে পড়া অ্যালিসিয়া সিং। ইংল্যান্ডের হাডার্সফিল্ডের এই শিশুর কপালে জুটেছিল পানামার সঙ্গে ম্যাচে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে চাইল্ড মাস্কট হয়ে মাঠে প্রবেশের সৌভাগ্য। তবে প্রতিযোগিতাটির আসল বিশেষত্ব হলো, এর আওতায় বিশ্বকাপে সুযোগ হয়নি—এমন দেশগুলো থেকেও শিশুদের বাছাই করে নেওয়া হয়েছে। যেমন ভারত থেকে নেওয়া হয়েছে বল ক্যারিয়ার। সেখানকার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন বিদ্যালয়ের দেড় হাজারেরও বেশি শিশু। ভারতের ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী তাদের মধ্যে থেকে বাছাই করেছেন দুজনকে। তাদের অবশ্য বল নিয়ে কারিকুরি করেই এই সৌভাগ্য অর্জন করতে হয়েছে। বিজয়ী হয়ে রাশিয়ায় যাওয়া দুই সৌভাগ্যবান হলো ঋষি ত্যেজ আর নাথানিয়া জন কে। প্রথমজনের বয়স ১০, বাড়ি তামিলনাড়ু। আর দ্বিতীয়জন একটু বড়, ১১ বছর বয়স। বাড়ি কর্নাটক। তারা যথাক্রমে বেলজিয়াম-পানামা আর ব্রাজিল-কোস্টারিকা ম্যাচে বল ক্যারিয়ার হয়েছিল।

শুধু এই দুই প্রতিযোগিতা থেকেই নয়, এবার বিশ্বকাপে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শিশুদের বাছাই করতে আরো বেশ কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। যেমন চীন থেকে চাইল্ড মাস্কট হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপে এসেছে কয়েকজন শিশু। চীনের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ন্যাশনাল ইয়ুথ ক্যাম্পাস ফুটবল কন্টেস্ট। সেই প্রতিযোগিতায় যারা দুর্দান্ত খেলেছে, তাদেরই জায়গা হয়েছে রাশিয়ায়। যেমন ফাইনালে ফ্রি কিক থেকে গোল দিয়ে রাশিয়ার টিকিট বাগিয়েছে ১৩ বছরের ওয়াং লাইঝেং।

         

      ঋষি ত্যেজ আর নাথানিয়া জন



মন্তব্য