kalerkantho


প্রশিক্ষণ পাবে ৩০ হাজার উদ্যোক্তা

আইসিটি সেক্টরে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ‘উইমেন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ’ নামে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার ও জাতিসংঘ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রায়হান রহমান

৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



প্রশিক্ষণ পাবে ৩০ হাজার উদ্যোক্তা

অনেক নারী ছোট ছোট উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে মেলে ধরতে পারছেন না নিজেকে।

টেকসই অর্থনীতির ভিত গড়তে পুরুষ উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দরকার আইসিটিতে দক্ষ এক দল নারী উদ্যোক্তা। সে লক্ষ্যেই তিন বছরে ৩০ হাজার উদ্যোক্তাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এর জন্য ‘উইমেন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ (ওয়াইফাই)’ প্রকল্প যৌথভাবে হাতে নিয়েছে সরকার ও জাতিসংঘ। বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ ওয়াইফাই প্রকল্প পরিচালনা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের বিষয়
প্রযুক্তিগতভাবে নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ খুঁটিনাটি অনেক বিষয় শেখানো হবে। নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায় করা, নারীদের কাজের ক্ষেত্রে বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করা, আইসিটির ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করা, অর্থ জোগান দেওয়া, আইসিটি-নির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ, নারী উদ্যোক্তাদের বাধা-বিপত্তি দূর করার কৌশল, ব্যবসায় কী, কিভাবে ব্যবসায় গঠন করা যায় ইত্যাদি বিষয় শেখানো হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ডেভেলপমেন্টের (বিআইআইডি)  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদ উদ্দিন আকবর বলেন, মূলত ব্যবসায় পরিচালনা, হিসাব রাখা, ব্যবসায় পরিকল্পনা এবং নারী ক্ষমতায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বিধি শেখানো হবে। সঙ্গে আইসিটিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।
বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির (বিডাব্লিউআইটি) প্রেসিডেন্ট লুনা সামসুদ্দোহা জানান, একজন উদ্যোক্তা একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। তবে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

কারা দেবে
বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগ এবং জাতিসংঘের এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক ট্রেনিং সেন্টার ফর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট (ইউএন-এপিসিআইসিটি) ওয়াই-ফাই কর্মসূচি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডাব্লিউআইটি) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ডেভেলপমেন্ট (বিআইআইডি)।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বালাই নেই
প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বাংলায়। মূলত নারী উদ্যোক্তাদের দুটি বিষয়ের ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিকল্পনা এবং দক্ষভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করা। তবে প্রশিক্ষণের মেয়াদ খুবই অল্প সময়ের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্পটিকে প্রশিক্ষণ বলা হলেও অনেকটা কর্মশালার মতো ছোট আকারে হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই দিন অথবা তিন দিন করে হবে। আবার কোনো কোনোটি ১২ ঘণ্টা কিংবা ১৮ ঘণ্টা হবে।

প্রশিক্ষণ পাবে কতজন
কয়েকটি কিস্তিতে দেশের ৩০ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিআইআইডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদ উদ্দিন আকবর বলেন, ‘একসঙ্গে ৩০ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া কঠিন বিষয়। তাই ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের কাজটি সারতে হবে। ’
লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, ‘বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমরা নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছি না। নারী উদ্যোক্তাদের আরো দক্ষ করার চেষ্টা করছি। ব্যবসায় পরিচালনায় তথ্য ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছি। ’

প্রশিক্ষক ও ইকুইপমেন্ট
প্রাথমিকভাবে সরকারের ৬০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও আইসিটিতে দক্ষ ব্যক্তিদের ওয়াই-ফাই প্রকল্পের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময় এই প্রশিক্ষকরা মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষক তৈরি করবেন। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত বিভিন্ন ল্যাবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বিডাব্লিউআইটির প্রেসিডেন্ট লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, এই ৬০ জনের মধ্যে ৩০ জন মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষক তৈরি করবেন। বাকি ৩০ প্রশিক্ষক এই প্রকল্পের বিভিন্ন নীতিমালা পর্যবেক্ষণ করবেন।

খরচাপাতি নেই
ওয়াই-ফাই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন নারী উদ্যোক্তারা। সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রয়েছে ভাতার ব্যবস্থা। প্রশিক্ষণের মেয়াদ ও বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দেওয়া হবে বলে জানালেন বিআইআইডির প্রগ্রাম ম্যানেজার সুমাইয়া নূর।

আবেদনের নিয়ম
বিসিসির নির্মিত বিভিন্ন ল্যাবে অথবা নির্ধারণ করে দেওয়া বুথের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। থাকছে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ। শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়া। আবেদন গ্রহণ শুরু হলেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে, জানান বিআইআইডির প্রগ্রাম ম্যানেজার সুমাইয়া নূর। এর জন্য নিয়মিত চোখ রাখতে হবে পত্রিকা ও প্রকল্পের ওয়েবসাইটে।

প্রশিক্ষণ শেষে সনদ

প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে একটি সনদ দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবসার প্রসারের জন্য সহায়তা করা হবে।

মো. শহিদ উদ্দিন বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে নানাভাবে সহযোগিতা করা হবে।

যোগাযোগ
‘উইমেন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ (ওয়াইফাই)’ প্রকল্পসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে www.unapcict.org/wifi ওয়েবসাইটে।

সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, ই-১৪/এক্স, বিসিসি ভবন, আগারগাঁও, শেরেবাংলানগর, ঢাকা-১২০৭ এই ঠিকানায়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডাব্লিউআইটি) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ডেভেলপমেন্ট (বিআইআইডি) কার্যালয়েও যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে।
 


মন্তব্য