kalerkantho


ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে বলতে বলেছিলেন

চাকরির জন্য সাক্ষাত্কার। অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতা। রায়হান রহমানকে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন জনতা ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার এমরান হোসেন

১১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে বলতে বলেছিলেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বিসিএস ক্যাডার হব। প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে অনুষদ পরিবর্তন করেছিলাম। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়েও পরে তা বাতিল করে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ বেছে নিয়েছিলাম। কারণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়লে ২০০ নম্বরের আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলি আলাদা করে পড়তে হয় না। অনার্স শেষ করার পরই বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন করতে থাকি। আমার তিনটি ভাইভা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রথমটি ছিল অগ্রণী ব্যাংক, দ্বিতীয়টি জনতা ব্যাংক এবং সর্বশেষ  বিসিএসের ভাইভা।

প্রথম চাকরির ভাইভা ও প্রথম চাকরি স্বাদ পেয়েছি অগ্রণী ব্যাংকের কল্যাণে। এখানে ভাইভা দিয়েছিলাম অফিসার পদে। প্রথমবার বলে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। নিজেকে বুঝিয়েছি, এবার চাকরি না পেলেও চলবে। বরং অভিজ্ঞতাটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। বোর্ডে প্রবেশ করতেই আমাকে বলা হলো ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে বলতে। আমিও ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে গুছিয়ে বলেছিলাম। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা জানতে চেয়েছিলেন ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা। উত্তরে বলেছিলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি শাস্ত্র বা পাঠ, যেখানে একটি দেশের উত্পত্তি, বিকাশ, অর্থনৈতিক গতিবিধি, জীবনমানসহ সমগ্র বিষয় আলোচনা করে। আরেকজন প্রশ্ন করেছিলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে ব্যাংকে কেন চাকরি করতে এসেছেন? বলেছিলাম, রাষ্ট্রের জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সম্পর্ক স্থাপন বিষয়গুলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে রাষ্ট্রের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নিমিত্তে কাজ করতে চাই। আমার উত্তর শুনে সবাই খুশি হয়েছিলেন। চাকরিটি হয়েছিল। প্রথম নিয়োগ পেয়েছিলাম টাঙ্গাইলে।

চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করতাম বিসিএসের জন্য। অগ্রণী ব্যাংকে চাকরিরত অবস্থায় জনতা ব্যাংকে ভাইভা দিয়েছি। এটি ছিল সিনিয়র অফিসার পদে। দ্বিতীয়বারের মতো ভাইভা দিচ্ছি বলে নার্ভাসনেস খানিকটা কম ছিল। বোর্ডে প্রবেশ করার পর প্রথম প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে কী করছেন? বললাম, অগ্রণী ব্যাংকে অফিসার পদে আছি। দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, জনতা ব্যাংকে চাকরি হলে আগের চাকরিটি ছেড়ে দেবেন? আমি বলেছিলাম, অবশ্যই ছেড়ে দেব। তারপর আন্তর্জাতিক বিষয় থেকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। যেমন—সারা জীবন মানবতার জন্য গান গেয়েছেন ভূপেন হাজারিকা। তাঁর জন্মস্থান কোথায়? বলেছিলাম ভারতের আসামে। সব শেষে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা প্রণয়নে আপনার বিভাগের একজন শিক্ষক সহায়তা করেছিলেন। তাঁর নাম জানেন? বলেছিলাম, জি, জানি। তাঁর নাম আব্দুর রাজ্জাক। আমার উত্তরে তাঁরা খুবই খুশি হয়েছিলেন। আমার চাকরিটি হয়েছিল। বর্তমানে এখানেই কর্মরত আছি।

সব শেষে দিয়েছি বিসিএসে ভাইভা। প্রথম চয়েজ দিয়েছিলাম প্রশাসন ক্যাডার। ভাইভা বোর্ডের প্রবেশ করার পর আমাকে সংবিধান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিলেন। যেমন—সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার কথা রয়েছে। তখন আমি উত্তর দিয়েছিলাম, সংবিধানে ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার কথা বলা আছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা জানতে চেয়েছিলেন, উত্তরে নিজের মতো করে গুছিয়ে বলেছিলাম। আমার উত্তর শুনে বোর্ডের একজন বলেছিলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে তোমার কাছে এমন উত্তর আশা করিনি। তখনই আমি ধরে নিয়েছিলাম, চাকরিটি আমার হবে না। হয়নি।

নতুনদের জন্য বলতে চাই, ভাইভা দেওয়ার আগে নিজের সমস্যা খুঁজে বের করতে হবে। সমস্যা সমাধান করতে হবে। ভাইভার জন্য প্রস্তুতি বলতে আত্মবিশ্বাসটাই আসল কথা। আত্মবিশ্বাস না থাকলে ভাইভায় ভালো করা যাবে না।

 

 



মন্তব্য