kalerkantho


ফোকাস
হাসো হাসাও!

হয়ে যাও হাসির রাজা



হয়ে যাও হাসির রাজা

একচিলতে হাসি দেহ-মনের জন্য খুব উপকারী। কিন্তু পার্কে গিয়ে সকালে নকল হা হা হো হো করে কি আর প্রাণ জুড়ায়? এদিকে বিনা কারণে হাসলেও বিপদ। কারো আঁতে ঘা লাগতে পারে, আবার বের করে দিতে পারেন ক্লাসরুম থেকে। তবে নিজে হাসো আর না হাসো, অন্যকে হাসানো কিন্তু একটা বড় শিল্প। আর চর্চাটা চালিয়ে গেলে তুমিও হতে পারো তারকা কমেডিয়ান লিখেছেন নাঈম সিনহা জুবায়ের কামাল

 

হাসির ক্যারিয়ার

ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তারদের মতো কৌতুকশিল্পীও আজকাল একটা ক্যারিয়ার। মানুষকে নির্মল হাসি উপহার দেওয়ার চেয়ে বড় আর কী-ই বা হতে পারে। কৌতুক অভিনয়ে পারদর্শী অনেকেই জায়গা করে নিয়েছেন আমাদের মূলধারার বিনোদনজগতে। ইত্যাদির হানিফ সংকেত কিংবা নাভিদ হাসান মাহমুদের কথাই ধরো। নিজের রসবোধ কাজে লাগিয়ে তাঁরা হাসিয়ে চলেছেন সবাইকে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তালিকাটা বেশি লম্বা নয়। তাই ক্লাসরুমে মজার কাণ্ড ঘটানোয় তোমার সুনাম থাকলে তারকা কমেডিয়ান হওয়ার পথটা কিন্তু সহজ।

 

হাসির রাজা

পৃথিবীর দুর্দশা ও আকালের সময় কিছুটা সময়ের জন্য দুঃখ ভুলে হাসতে শেখালেন কমেডিয়ানরা। এ ক্ষেত্রে সবার আগেই আসে চার্লি চ্যাপলিনের কথা। ভদ্রলোকের পুরো জীবনটাই ছিল রহস্যঘেরা। তাঁর জন্মের ১২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ জানে না, তাঁর আসল নাম আদৌ চ্যাপলিন ছিল কি না! তবে যুক্তরাজ্যের প্রকাশ করা জাতীয় আর্কাইভ থেকে জানা যায়, তাঁর একটা ‘আসল’ নাম হলো থর্নস্টেইন। শুনতে যেন আইনস্টাইন। আনস্টাইনের কথা যেহেতু এসেই গেল, তবে চ্যাপলিনের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হওয়ার কাহিনিটাও শোনা যাক। প্রথম দেখায়ই আইনস্টাইন চ্যাপলিনকে বললেন, ‘আপনাকে আমি খুব পছন্দ করি। কারণ আপনি যখন অভিনয় করেন, তখন কোনো সংলাপ বলেন না। তবুও পৃথিবীর সবাই বোঝে আপনি আসলে কী বোঝাতে চাচ্ছেন।’

চ্যাপলিনও জবাবে বললেন, ‘আমিও আপনাকে পছন্দ করি। কারণ আপনার দেওয়া তত্ত্ব পৃথিবীর কেউই বোঝে না; কিন্তু আপনাকে তারা সম্মান করে।’

চ্যাপলিন যখন অভিনয় করতেন, তখন ছিল সাদা-কালোর যুগ। এরপর রঙিন পর্দার যুগ আসতেই বিশ্বের সামনে এলেন আরেক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি মিস্টার বিন। আসল নাম রোয়ান এটকিনসন।

আমাদের দেশে ইদানীং স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানরা জনপ্রিয় হচ্ছেন। তরুণ কমেডিয়ান আবিদুর রহমান রিমন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভিতে ‘হা-শো’র মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। এর পর থেকে বিভিন্ন পত্রিকার রম্যরচনা আর টিভি চ্যানেলগুলোতে হাসির স্ক্রিপ্ট লিখেই চলেছেন। স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হতে চায় দলছুটের এমন বন্ধুদের জন্য দিয়েছেন পরামর্শ—‘সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর নজর দিতে হবে। যেকোনো বিষয়কে কিভাবে হাস্যকর ব্যাখ্যা দেওয়া যায় তা ভাবতে হবে। ব্যাখ্যায় যেন বস্তু থাকে, সেটিও খেয়াল রাখা চাই। নিজের কাছে মজার মনে হলেই হবে না। সবার হাসি আসা চাই। সে ক্ষেত্রে উপস্থাপনার ধরনটা জরুরি। বিদেশি জোকস অনুবাদ করলেই মজার হবে না। আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে সেগুলো সাজিয়ে নিলে ভালো। বিভিন্ন জনপ্রিয় মানুষের কথোপকথন বা গান প্যারোডি করা যায়। তবে সেটি যেন পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়।’

পশ্চিমবঙ্গের জি বাংলার মীরাক্কেল মাতিয়েছেন অনেকেই। তেমনই একজন মীরাক্কেল-৯ কাঁপানো সাইদুর রহমান পাভেল। দলছুটের কথা শুনেই বললেন, ‘আমিও তোমাদের লোক। মানে আমারে কেউ দলে নেয় না। আমি পাক্কা দলছুট।’

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলো, স্ট্যান্ড আপ কমেডিতে কী কী করা উচিত নয়। তিনি বললেন, ‘যা যা করা উচিত তার উল্টোটা করলেই উত্তর পেয়ে যাবে।’

পরে অবশ্য কিছু টিপস দিয়েই দিলেন—

❏ কারো চেহারা বা গায়ের রং নিয়ে বা কারো প্রতিবন্ধিতা নিয়ে মজা করা উচিত নয়।

❏ পাবলিক অনুষ্ঠানে কুরুচিপূর্ণ কোনো ঘটনা নিয়ে কৌতুক না বলাই ভালো।

❏ কৌতুকে উপহাস থাকলেও সরাসরি কারো নাম উল্লেখ করে সম্মানহানি করাটা বিপজ্জনক।

 

ইউটিউবে হাসাও

কপিল শর্মা কিংবা সুনিল গ্রোভারদের মতো জনপ্রিয় তারকা হতে চাইলে শুরু করতে পারো ইউটিউব দিয়ে। সবাই আজকাল বিনোদনের জন্য ঢু মারে এতে। এ কারণেই আমাদের দেশি কিছু কমেডি চ্যানেলে সাবসক্রাইবার ছুঁয়েছে মিলিয়নের ঘর। আর কমেডি দিয়ে ইউটিউব মাতানোটাও সহজ। কারণ তোমার কোনো পারফরম্যান্স দর্শকদের মনে ধরলেই সেটি হয়ে যাবে ভাইরাল। এর জন্য বাড়তি কোনো কষ্টই করতে হবে না। তবে এর জন্য যেনতেন কমেডি করলেই হবে না। খেয়াল রাখতে হবে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে। আর আপলোড করার আগে চিত্রনাট্য অন্তত বন্ধুবান্ধবদের দিয়ে চেক করে নিলে ভালো। আর টিপসের জন্য সাহায্য নিতে পারো ইউটিউবেরই। কমেডি ভিডিও বানানোর ওপর আছে ক্রিয়েটেড বাই বেরেট, জেরি কোরলে ও টেড এড-এর মতো জনপ্রিয় কিছু চ্যানেল।

 

হাসির জন্য দিবস

হাসি এমন এক দরকারি বস্তু, যার জন্য একটা দিন দিয়ে ঠিক পোষায়নি। তাই হাসির দিবস রীতিমতো দুই দিন! অক্টোবরের প্রথম শুক্রবারও হাসি দিবস। তবে ওটা হলো মৃদু হাসি, মুচকি হাসিও বলা যায়। আর আজ তথা মে মাসের প্রথম রবিবার হলো লাফটার ডে। মানে দমফাটানো হাসির দিবস। সুতরাং আজ মুচকি হাসা নিষেধ। হাসতে হলে ৩২ দাঁত ও সম্ভব হলে আলজিবটাও দেখানো চাই।

 

হাসির প্রতীক

অনলাইন জগতের চিরচেনা হলুদ ইমোজির কথা মনে পড়ল? গোলাকার মুখমণ্ডলের মধ্যে অর্ধচন্দ্রাকার হাসি। মজার বিষয়টা জানো? এই ইমোজি দিয়েই বিশ্ব হাসি দিবসের শুরু। ১৯৬৩ সালে হারভে বেল এই হাসির ইমো বের করেন। কিন্তু পুরো পৃথিবীতে এটা এত জনপ্রিয়তা পায় যে পরে তিনি এটাকে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা শুরু করেন। তার প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্ব হাসি দিবসের প্রচলন শুরু। তবে আজকাল দিবস ঠিক করে কেউ হাসে না। ডাক্তাররাও বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিটের হাসি দিবস পালন করা উচিত।

 

 

হাসিতে বিপদ

২০০৭ সালে একটি রুশ পত্রিকায় বলা হয়, ওই বছর অট্টহাসির কারণে প্রায় ১০ জন লোক মারা গেছে। সুতরাং বেশি হাসিয়ে আবার বিপদে পোড়ো না!

এটা বেশ পড়াশোনার বিষয়

বিশিষ্টি অভিনয়শিল্পী ইরেশ যাকের মূলত জনপ্রিয় হয়েছেন তাঁর বিশেষ রসবোধের কারণে। তিনি বললেন, ‘স্ট্যান্ড আপ কমেডি বা স্যাটায়ার করার বিষয়গুলো অনেকেই মনে করে বেশ স্বতঃস্ফূর্ত। আসলে তা নয়। এটা বেশ পড়াশোনার বিষয়। যাঁরা স্ট্যান্ড আপ কমেডি করেন, তাঁরা কিন্তু হাজার হাজার পাতা কৌতুক পড়েই মঞ্চে ওঠেন। এ ছাড়া তাঁদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে থাকে বিস্তর জানাশোনা ও গবেষণা। হুট করে একটা-দুইটা কৌতুক মাথায় আসতে পারে, তবে নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে অনেকগুলো কৌতুক কারো মাথায় আসবে না। বিশ্বের বিখ্যাত সব কমেডিয়ান যেমন—জেরি হ্যানসেল, ক্রিস রকস, ডেভিড শাপিরো; তারা সবাই অনেক বেশি হোমওয়ার্ক করেছেন।’

ইরেশ আরো বললেন, ‘এখন আমার প্রিয় কমেডিয়ান সাজু খাদেম। সে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাকে খুব হাসায়। সে কিন্তু সারাক্ষণ চিন্তা করতে থাকে। একটি বিষয়ের মধ্যে হাসির জিনিস কী কী, কতভাবে সেগুলো উপস্থাপন করা যেতে পারে—এসব ভাবে। এটা এক ধরনের গবেষণা বা হোমওয়ার্ক। যা নিয়ে চর্চা থাকতে হবে।’


মন্তব্য