kalerkantho


কৌতুক

এবার হাসো!

আজ বিশ্ব হাসি দিবস। ঠিকঠাক বলতে গেলে, আজ অট্টহাসি দিবস। তো এ সুবাদে হয়ে যাক তোমার রসবোধের পরীক্ষা



এবার হাসো!

মাসের শেষ দিন। বেশ রাগী রাগী চেহারা নিয়ে অফিসে ঢুকলেন ছোটখাটো সরকারি কর্মচারী সবুর খান। সততার জন্য তাঁর সুনাম বহুদিনের। কখনো সেভাবে তাঁকে কেউ রাগতেও দেখেনি। পান চিবোতে চিবোতে এগিয়ে এলো পিয়ন।

পিয়ন : সবুর সাবের কী হইসে। মেজাজ কেরোসিন ক্যান?

সবুর : ব্যাটা অসভ্য, বর্বর! আরে, বোলো না। একটা ভিক্ষুক। দেখেই মনে হয় ধান্দাবাজ। হাত-পা গুটিয়ে বসে লোক ঠকানো কারবার।

পিয়ন : কিন্তু আপনার করসে কী?

সবুর : ব্যাটা নাকি অন্ধ, চোখে দেখে না। তা-ও আমার সঙ্গে ইয়ার্কি করে!

পিয়ন : ঘটনাটা কী?

সবুর : সে যদি অন্ধই হতো, তাহলে আমাকে তার চেনার কথা নয়। আমার চোখের সামনে ভিক্ষার থালাটা উঁচিয়ে নাড়া দেয় আর ঝনঝনিয়ে পয়সার শব্দ শোনায়। ওই ব্যাটা বুঝল কী করে যে আমার পকেটের চেয়ে তার থালায় বেশি পয়সা!

 

অফিসের বসের মানিব্যাগ হারিয়েছে। সবাইকে ডেকে ঘোষণা দিলেন, ‘মানিব্যাগে ১০০০ টাকা ছিল। যে আমার মানিব্যাগ খুঁজে দেবে, তাকে ২০০ টাকা পুরস্কার দেব।’ পেছন থেকে কে যেন চিকন সুরে বলল, ‘আমি ৫০০ টাকা দেব।’

 

বিচারক : কী হে! দেখে তো কেতাদুরস্ত কর্মকর্তাই মনে হয়। তা তুমি অটোরিকশা চুরি করতে গেলে কেন?

চোর : কী করব স্যার, অফিসে যেতে লেট হচ্ছিল।

বিচারক : তা বাসে গেলেই পারতে?

চোর : কিন্তু বাস তো আমি চালাতে পারি না।

 

মানসিক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় : স্যার, পাঁচ নম্বর রুমে যে নতুন রোগী এসেছে, তাকে কী করব? সে নিজেকে বাঘের বাচ্চা বলে দাবি করছে।

ডাক্তার : যা খুশি করো। তবে খবরদার, তার মা-বাবা যেন কিছুতেই হাসপাতালে ঢুকতে না পারে!

 

স্যার : পড়াশোনা করিস না কেন রে হাবলা? না পড়লে তো তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না!

হাবলা : পড়ে কী হবে, স্যার! এই যে দেখুন আইনস্টাইন। উনি কি স্কুলে পড়েছিলেন? তার পরও হলিউডের কত বড় তারকা হয়ে গেছেন।

 

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তর্ক করছিল এক আমেরিকান আর রুশ।

আমেরিকান : আমি যদি হোয়াইট হাউসে ঢুকে চেঁচিয়ে বলি, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিপাত যাক, আমার কিচ্ছুটি হবে না।

রুশ : এ আর এমন কি। আমি যদি ক্রেমলিনের (রুশ পার্লামেন্ট) মাঝে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে এ-ও বলি যে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটা ছাগল, আমারও কিছু হবে না।

 

স্যার : বল্টু, ওই দিন তুমি আমার ক্যালকুলাসের ক্লাসে আসোনি কেন?

বল্টু : কোন ক্লাস, স্যার?

স্যার : আরে, সর্বশেষ যে ক্লাসটা নিয়েছি।

বল্টু : ভুল হয়ে গেছে, স্যার! যদি জানতাম ওটাই আপনার শেষ ক্লাস, আমি কেন, সঙ্গে করে আমার ছোট ভাই আর বড় বোনকেও নিয়ে আসতাম।

 

উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উন বললেন, ‘কে বলে রে আমার দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই! অবশ্যই আছে। যে কেউ রাজপথে দাঁড়িয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে পারবে। অন্তত একবার হলেও।’

 

মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকের কথা। মুক্তিযোদ্ধারা তত দিনে বুঝে ফেলেছে যে পাকিস্তানি সেনারা বোকা আর ভীতু প্রকৃতির। তো এক দুর্গম পথ দিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের একটি বহর ধীরলয়ে যাচ্ছিল। পাশে দুটি উঁচু টিলা, তার মাঝে চিকন একটা রাস্তা। এমন সময় টিলার আড়াল থেকে একজন বলল, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা দশজন পাকি সেনার চেয়ে বেশি সাহসী।’ কথাটা শুনে পাকি কমান্ডার খুব খেপে গেলেন। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি দশজন সৈনিককে বললেন, ‘যাও, খতম করে আসো।’ ওরা গেল। একটু পর গোলাগুলির শব্দ। এরপর সব নীরব। খানিক পর আবার শোনা গেল, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা দশজন পাকিস্তানি সেনার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।’ কমান্ডার আরো খেপে গেলেন। এবারও বহর থেকে দশজন সেনা পাঠালেন। যথারীতি গোলাগুলির পর তারাও মারা গেল। এভাবে কয়েক দফায় প্রায় সব সৈন্যই মারা পড়ল। শেষ দশজনের একজন কোনোমতে গুলি খেয়ে ফিরে এলো কমান্ডারের কাছে। এসেই বলল, ‘এখুনি ভেগে পড়ুন। ওরা মিথ্যা বলেছে। ওখানে একজন নয়, দুজন মুক্তিসেনা ওঁৎ পেতে আছে!’


মন্তব্য