kalerkantho


শিখে নাও

স্কেটিং শিখবে?

মজার খেলা স্কেটিং রোল বল। এ খেলায় ভালো করলে পাওয়া যায় বিশ্বকাপও। তবে এর জন্য আগে শিখতে হবে স্কেটিং করা। কোথায় শিখবে? রাজধানীতে আছে এর কয়েকটি ক্লাব। খোঁজ জানাচ্ছেন গাজী খায়রুল আলম



স্কেটিং শিখবে?

আজাদ স্কেটিং ক্লাব

শেরেবাংলানগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে চলে এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। পরিচালনা করেন মোহাম্মদ আজাদুর রহমান। প্রশিক্ষণের সময়—রবিবার থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৭টা-৯টা পর্যন্তও চলে প্রশিক্ষণ। ভর্তি ফি-১০০০ টাকা এবং মাসে বেতন ১০০০ টাকা। ফোন : ০১৭২৭২৮৮৩৮৯।

 

সার্চ স্কেটিং ক্লাব

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা চলে প্রশিক্ষণ। শুধু শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। ভর্তি ফি ১০০০ টাকা। মাসিক ফি নেই। ক্লাবের লোগোসহ ফ্রি টি-শার্ট দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক আরশাদ আলম বললেন, ‘আমার ক্লাবের অর্জন, এখান থেকে দুইজন বিশ্বকাপ খেলেছে। আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন কম্পানির স্পন্সরে ঢাকা-কক্সবাজার রোড শো করি।’ যোগাযোগ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ, ঢাকা। ফোন : ০১৬৮৭২৮৩১২৭।

 

গুলশান ইয়ুথ ক্লাব

রাজধানীর গুলশান-২-এর ১০৯ নম্বর রোডে থাকা গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ক্লাবটির প্রশিক্ষক আজাদ স্কেটিং ক্লাবের মোহাম্মদ আজাদুর রহমান। ক্লাস হয় শনিবার ও রবিবার, বিকেল ৪টা-৫টা পর্যন্ত। শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা-১০টা পর্যন্ত ক্লাস। ভর্তি ফি ১০০০ টাকা ও মাসিক বেতন-৫০০ টাকা। ফোন : ০১৭২৭২৮৮৩৮৯।

 

লেজার স্কেটিং ক্লাব

স্থান—বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে এটি পরিচালনা করছেন দীপ্র। জানালেন, এখানে শখানেক শিক্ষার্থীকে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ক্লাব থেকে বিশ্বকাপে খেলেছে সাতজন। টানা পাঁচবারের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নও ক্লাবটি। প্রশিক্ষণের সময়—বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার বিকেল ৪টা-৬টা। ভর্তি ফি এক হাজার টাকা। মাসিক বেতনও এক হাজার টাকা। মোবাইল : ০১৯৭৪৮৯৩০২৪।

স্কেটিং শিখতে চাইলে থাকতে হবে স্কেটিং শু, হ্যান্ড গ্লাভস ও হেলমেট।

 

হাটে যাই

রাজধানীর বেশির ভাগ স্পোর্টস দোকানেই স্কেট জুতা পাওয়া যাবে। তবে সব দোকানে ভালো মানের না-ও মিলতে পারে। এর জন্য যেতে পারো বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, পান্থপথের বডি অ্যান্ড স্পোর্টস, কলাবাগানের ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস, গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস বা স্পোর্টস টাইম গুলশান-২-এ। সাধারণত বেশির ভাগ স্কেট জুতা আর্টিফিশিয়াল লেদারে তৈরি। ভালো মানের জুতায় পাবে শতভাগ চামড়া। ভেতরের সোলটি বানানো হয় হাড় দিয়ে। চাকাগুলো হয় রাবারের। কিন্তু কম দামি জুতাগুলোর এ সবই হয় কৃত্রিম।

 

দামদর ও ব্র্যান্ড

জোরেক্স স্কেট ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় পাওয়া যায়। কিন্তু এটি পেশাদার স্কেটিংয়ের জন্য নয়। টিআন স্কেট ১৮০০ থেকে ৫০০০ টাকায় পাওয়া যায়। এটি নতুন স্কেটারদের জন্য ভালো। অ্যাকশন স্কেট  ১২০০ থেকে সাত হাজার টাকা এবং মিসুকি স্কেট তিন হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এগুলোও শিক্ষানবিশদের কথা মাথায় রেখে বানানো।

 

কুগার স্কেটের দাম সাড়ে সাত হাজার টাকা থেকে শুরু। আছে ৪০ হাজার টাকা দামেরও। এটি সব স্পোর্টস দোকানে তেমন পাওয়া যায় না। বন্ট ভায়পর স্কেটের দাম ৩০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ও পাওয়ার স্লাইড স্কেট ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এগুলোর জন্য আগেই অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। এ ছাড়া স্কেটিং করার সময় আঘাত এড়াতে দরকার হয় গ্লাভস ও হেলমেট। স্পোর্টসের প্রায় সব দোকানেই এসব মিলবে। গ্লাভসের দাম ৭০০-১২০০ ও হেলমেট পাওয়া যাবে এক থেকে তিন হাজার টাকায়।

 

কেনার আগে

চাকাগুলো ফ্রি কি না দেখতে হবে। বিয়ারিংটাও চেক করে নিতে হবে। স্কেট করছে এমন কাউকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবহার করে দেখাই উত্তম।

 

জুতার বডি স্ট্রং হতে হবে। হাত দিয়ে চাপ দিলে যেন দেবে না যায়।

 

আসল চামড়ার হলে তা টিকবে অনেক দিন। কাঠামোটাও হতে হবে হাড়ের। আর চাকার রাবার চেক করে দেখতে হবে মসৃণ আছে কি না। ক্ষয়ের ছাপ দেখা গেলে ওটা এড়িয়ে চলবে।

শর্ট ট্রেক আইস স্পিডকেটিং ব্লেড। বন্ট কম্পানির জুতার বডি লেদারের।

কাঠামো ঘোড়ার হাড়ের। দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা। সচরাচর দেশের মার্কেটে এটি পাওয়া যায় না।

রাজধানীর আজাদ স্কেটিং ক্লাবে প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে কেনা যাবে এটি।


মন্তব্য