kalerkantho


বিজ্ঞান

হাসির বিজ্ঞান জেলোটোলজি

মানুষ কেন হাসে? উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা তাঁদের শেষ হাসিটুকু হাসতে চান না। এ কারণেই এসেছে হাসির বিজ্ঞান জেলোটোলজি। জানাচ্ছেন কাজী ফারহান পূর্ব



হাসির বিজ্ঞান জেলোটোলজি

ষোলো বছরের এক আমেরিকান কিশোরীর ওপর করা একটা পরীক্ষার ঘটনা বলি। এপিলেপ্সির জন্য সে মেয়েটির মস্তিষ্কে একটা সার্জারি হয়। সে সময় ডাক্তার মেয়েটির মস্তিষ্কের সেরেব্রাল কর্টেক্সকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে উদ্দীপ্ত করেন। এ কাজ করার পর ডাক্তাররা অবাক হয়ে লক্ষ করেন যে মস্তিষ্কের একটা নির্দিষ্ট অংশে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিলেই মেয়েটি হেসে উঠছে। উদ্দীপনা বাড়ালে হাসির মাত্রাও বাড়ছে। ১৯৯৮ সালে নেচারে প্রকাশিত ‘ইলেকট্রিক কারেন্ট স্টিমুলেটস লাফটার’ শীর্ষক লেখায় উঠে আসা মেয়েটির এ ঘটনা থেকেই হাসির সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্ক বিজ্ঞানীদের আরো ভাবিয়ে তোলে। নিউরোফিজিওলজি বলছে, হাসি মস্তিষ্কের ভেন্ট্রোমিডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স-এর উদ্দীপ্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তা ছাড়া মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস ও এমিগডালাও হাসির জন্য দায়ী। নিউ ইয়র্ক টাইমসের ‘হোয়াই লাফটার ফিলস সো গুড’ আর্টিকেল থেকে অক্সফোর্ডের ইভোলিউশনারি সাইকোলজিস্ট রবিন ডানবারের গবেষণার কথা জানা যায়। তিনি বলেন, মস্তিষ্কের উদ্দীপনা এনডোরফিন নামক এক ধরনের হরমোনের নিঃসরণ, যার কারণে আমাদের ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। একটি তত্ত্ব মতে, আমরা তখনই হাসি, যখন আমাদের আশা ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য ধরতে এবং তা সংশোধন করতে পারি।

 

হা হা হা

হাসলে কী হয়, তা জানতে হাসিবিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন ইইজি, স্টেথোস্কোপ এবং স্ফিগমোম্যানোমিটার। সায়েন্স এবিসি ডটকম থেকে জানা যায়, হাসিতে প্রথমেই আমাদের মুখমণ্ডলের পেশি সংকুচিত হয়। এ ক্ষেত্রে মুখের পনেরোটি পেশি একত্রে কাজ করে। এতে ওপরের পাটির দাঁত উন্মুক্ত হয়। এ সময় অনৈচ্ছিকভাবেই ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়ে যায় এবং ডায়াফ্রাম, তলপেটের পেশির সংকোচন, প্রসারণ শুরু হয়। সেই সময়েই আমাদের স্বরযন্ত্রের ঢাকনা এপিগ্লটিস আংশিকভাবে বন্ধ হয় এবং প্রতিবার একটা ‘হা’ শব্দের সৃষ্টি হয়। এভাবেই আমরা ‘হা হা হা’ করে হাসি। হাসির রিসার্চার রবার্ট প্রোভিনের মতে, আমরা বিভিন্নভাবে হাসতে পারলেও একসঙ্গে হা-হা হো হো হাসতে পারবে না কেউ। আবার কেউ যখন হাসির চোটে ফেটে পড়ে, তখন তার ল্যাক্রাইমাল গ্রন্থি ও ঘামের গ্রন্থিও সক্রিয় হয়। তাই অতিরিক্ত হাসির জন্য অনেকের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে আসে, শরীর ঘেমে যায়। বাধাহীন হাসির পর দেখা যায়, নিজেকে খুব হালকা লাগছে। একে বলে জেলোটোলেপ্সি। আর মস্তিষ্কে এনডোরফিন হরমোন নিঃসরণের ফলে পুরো প্রক্রিয়াটাই আমাদের আনন্দে ভাসিয়ে দেয়।

 

আমরাই হাসি?

শুধু আমরা নই, কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীকেও প্রায় মানুষের মতো হাসতে দেখা যায়। শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং—এদেরও হাসার ক্ষমতা আছে। ওদের কাতুকুতু দিলে শিশুর মতো হাসবে। মানুষের মতো শিম্পাঞ্জিরও বাহুর নিচ ও পেট খুবই স্পর্শকাতর। ইঁদুরও হাসে। কাতুকুতু দিলে ৫০ কিলোহার্টজ তরঙ্গে ওরা হাসতে থাকে। কুকুর ও ডলফিনকেও হাসতে দেখা গেছে।


মন্তব্য