kalerkantho


শরীর ও মন

হাসলে ভালো থাকে!

হাসির উপকারিতা অনেক। আবার বেশি হাসাও ঠিক নয়! হাসির শারীরতত্ত্ব নিয়ে জানাচ্ছেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. মো. ফাইজুস সাজ্জাদ



হাসলে ভালো থাকে!

স্যাটারডে রিভিউ ম্যাগাজিনের সম্পাদক নরমান কাজিন্স। ১৯৬০ সালের দিকে আক্রান্ত হলেন মেরুদণ্ডের ব্যথায়। ডাক্তাররা সারাতে পারছিলেন না। হতাশ না হয়ে নিজের প্রেসক্রিপশন নিজেই লিখলেন কাজিন্স। না, একগাদা ওষুধের নাম লেখেননি। লিখেছেন—প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাসির সিনেমা ও বই। কয়েক মাসের মধ্যে হাসতে হাসতেই সুস্থ হয়ে গেলেন ভদ্রলোক!

 

রক্তসঞ্চালন বাড়ে

হাসির সঙ্গে রক্তনালির কর্মক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক আছে। আমাদের রক্তনালির সবচেয়ে ভেতরের স্তর অ্যান্ডথেলিয়াম নামে পরিচিত। এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির কারণে রক্তনালির এই ভেতরের স্তরের পরিধি বাড়ে। আবার মানসিক চাপের কারণে এর উল্টোটা ঘটে। ফলে রক্তসঞ্চালন কমে যায়। এই অ্যান্ডথেলিয়াম রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, কোয়াগুলেশান প্রক্রিয়ার সমন্বয় করে এবং রক্তের ঘনত্ব নির্ধারণ করে। আঘাত, ক্ষত ও ইনফেকশনঘটিত সমস্যায় অ্যান্ডথেলিয়াম থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন রাসায়নিক ও অন্যান্য দ্রব্য রক্তসঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতি মিনিট হাসলে কতটুকু রক্তসঞ্চালন বাড়ে, তা গবেষণার বিষয়। তবে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট হাসা দরকার।

 

যখন কেউ হাসে, তখন রক্তচাপ কিছুটা বাড়ে। বন্ধ হলে আবার রক্তচাপ স্বাভাবিক। এই প্রক্রিয়ায় রক্তনালি শিথিল হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হাসি লম্বা নিঃশ্বাস নিতে সাহায্য করে। এতে শরীরে বেশি অক্সিজেন ঢোকে।

অট্টহাসিতে শক্ত পেশিগুলো প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিথিল থাকে।

হাসিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

হাসিতে অ্যানডোরফিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। যা মন ভালো রাখে।

হাসি রাগ নিয়ন্ত্রণ করে। কেউ খুব রেগে গেলে, একটু হাসি বা মজার কিছু ঘটলে সে রাগ সহজেই পানি হয়ে যায়।

হাসি ওজনও কমায়! ১০-১৫ মিনিটের হাসিতে প্রায় ৪০ ক্যালরি খরচ হয়।

 

বেশি হাসলে বিপদ!

ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত লেখা থেকে জানা গেছে—

 

খাওয়ার সময় হাসলে গলায় খাবার আটকে যেতে পারে। গলায় খাবার আটকে কিন্তু মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়। সুতরাং খাওয়ার সময় কমেডি সিনেমা না দেখাই উত্তম।

ভারী খাওয়াদাওয়ার পর জোরে হাসলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস কিংবা একিউট ভলভুলাস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা জোরেশোরে হেসে উঠলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

অতিরিক্ত হাসির কারণে কারো কারো হার্নিয়াজাতীয় রোগও দেখা দিতে পারে।


মন্তব্য