kalerkantho


তেলাপোকা মহাশয়!

৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



তেলাপোকা মহাশয়!

বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ার যন্ত্রণা আছে ঢের। এই যেমন জীববিদ্যার ব্যাবহারিক ক্লাস। একদিন আমাকেও পার হতে হলো দুঃসহ সেতুটা। মাহেন্দ্রক্ষণে হাজির তেলাপোকা মহাশয়! আহ!

ল্যাবে বসতেই দেখলাম, টিচার এক মস্ত ডিশে করে অন্তত ৫০-৬০টি তেলাপোকা নিয়ে বিলি করছেন। কী চমৎকার! এদিকে দুপুরে বন্ধুরা মিলে গরম গরম খিচুড়ি খাওয়ার প্ল্যান। সে না হয় পরে হবে। ল্যাবে এসে শুনি গ্লাভস ছাড়া খালি হাতে তেলাপোকা কাটতে হবে।

ডেমনস্ট্রেশনের ম্যাম বললেন, ভালোবেসে তেলাপোকাটি ধরো। যাবতীয় গা শিরশিরে অনুভূতি এক পাশে রেখে ধরলাম তেলাপোকাটাকে। ভাবলাম, এই তো কিছুক্ষণ। একটু আলতোভাবেই না হয় ধরি বেচারাকে।

মাথাটা ঘ্যাচাং করে কেটে ফেললাম। ম্যাম বললেন, এবার কাজকর্ম হবে তেলাপোকার ভেতরটা নিয়ে! নিজের প্রতি করুণামাখা হাসি পাচ্ছিল। বাথরুমের কোনায় যাকে ফেলে রাখি, যাকে দেখলেই পায়ে পিষে ফেলতে মন চায়, আজ তার ভেতরটা ছুঁয়ে দেখতে হবে। হা হা হা হা!

ফরসেপ, কাঁচি, যা যা দরকার তা-ই দিয়ে কাটলাম নিয়ম মেনে। বাহ! তেলাপোকার বাইরেরটা লালচে, বাদামি, খয়েরি—কত রং! ভেতরটা সাদা-থিকথিকে, নরম পিণ্ডের মতো।

পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছিল যেন। ভেতরে সুতার মতো কিছু বস্তু দেখলাম। নালিকা ওটা। তেলাপোকার প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের রাস্তা। তেলাপোকা মহাশয়কেও তবে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয়! অতঃপর ক্লাস শেষ হলো। আঠালো হাতটা ধুয়ে ফেললাম। হেহ!

কী বিষম সাকসেস! তবে সেদিন দুপুরে আর আমার হাত দিয়ে খিচুড়ি খাওয়া হয়নি!

     —সাফওয়ান রহমান, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা।


মন্তব্য