kalerkantho


অবাক পৃথিবী

নিজেকে মেরে যাত্রা শুরু

কথায় আছে—পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে কেউ কেউ নাকি নিজের নাক কাটে। কিন্তু মেক্সিকোর বাহা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে আছে এমন এক ক্যাকটাস, যা নিজেকে কেটেই নিজের যাত্রা শুরু করে। জানাচ্ছেন ফারহান নাসের

৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



নিজেকে মেরে যাত্রা শুরু

ক্যাকটাসের নাম ক্রিপিং ডেভিল। দেখতে ভয়ানক বলেই নামের মধ্যে ডেভিল জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক নাম স্টেনোসেরিয়াস এরুকা। বাদবাকি সব গাছের সঙ্গে এই ক্যাকটাসের মৌলিক একটা পার্থক্য আছে। সব গাছ ওপরের দিকেই বাড়ে। ক্রিপিং ডেভিল ওপরে না বেড়ে পাশে ছড়ায়। সামান্য ওপরের দিকে বাড়লেও এর লক্ষ্য থাকে ছড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু গাছের তো আর পা নেই। ক্রিপিং ডেভিল তাই নিজে থেকে একটা চালাকি বের করেছে। ক্যাকটাসটি এর কাণ্ডগুলোকে সামনের দিকে মেলে ধরে মাটিতে শুইয়ে দেয় ধীরেসুস্থে। মরুর বালুর স্পর্শ পেতেই কাণ্ড থেকে গজাতে শুরু করে শিকড়। বলতে পারো, নতুন পা গজাল ক্যাকটাসটির। কিন্তু ছড়ানো তো হলো, এবার এগোনোর পালা। এগোতে গেলেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুরনো কাণ্ড ওরফে পুরনো পাগুলো। আর তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিপিং ডেভিল। পুরনো পাগুলো মেরে ফেলে। এখানেই শেষ নয়। মরে যাওয়া আগের কাণ্ডগুলো রূপান্তরিত করে জৈব সারে। ওই সার দিয়েই বাড়িয়ে তোলে নতুন ডালপালা। এ কারণে কোনো এলাকায় ক্রিপিং ডেভিল থাকলে সেখানে কয়েক মাস পর পর ক্যাকটাসের অনেক মরা কাণ্ড পড়ে থাকতে দেখা যায় আর মূল গাছটিকে দেখা যায় নতুন কাণ্ডসহ বেশ খানিকটা সরে যেতে।

এ বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্রিপিং ডেভিল হয়ে গেছে চড়া দামের একটা পণ্য। অবৈধ গাছশিকারিরা এটি তুলেছে পাচারের তালিকায়। কালোবাজারে এর একেকটি সতেজ কাণ্ডের দাম প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকা। আবার ক্যাকটাসের এমন ‘হেঁটে বেড়ানোর’ ফলে ফসলি জমিরও ক্ষতি হয়। তাই মেক্সিকোর অনেক চাষিই ক্রিপিং ডেভিলের দেখা পেলে কেটে সাফ করে ফেলে।


মন্তব্য