kalerkantho


বিজ্ঞান

ফুটবলে বিজ্ঞান

ফুটবলের সঙ্গে বিজ্ঞানের একটি বন্ধুত্ব আছে। বলের গঠন, ফ্রি-কিক থেকে শুরু করে জার্সির রং নিয়েও হয়েছে গবেষণা। জানাচ্ছেন কাজী ফারহান পূর্ব

৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ফুটবলে বিজ্ঞান

ফুটবলের অগ্নিপরীক্ষা

১৯৭০ সালের নাসার টেলস্টার স্যাটেলাইট থেকে এবারের বিশ্বকাপের বলটির নাম রাখা হয়েছে টেলস্টার ১৮। টেলস্টার ছিল পৃথিবীর প্রথম কার্যকর যোগাযোগ স্যাটেলাইট। ওটি দেখতে ফুটবলের মতোই গোলগাল। স্যাটেলাইটের মতো দুনিয়ার সবাইকে এক করবে, টেলস্টার ১৮-এর থিম এমনই। আর এ বলটিকে ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ পর্যন্ত আসতে পাস করতে হয়েছে অনেক পরীক্ষায়। ফিফার ওয়েবসাইট থেকে জানা গেল, এ ক্ষেত্রে একটি ফুটবলকে সাতটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমেই বলের ৪৫০০টি পয়েন্ট বের করা হয়। সেগুলো পরীক্ষা করে তার পরিধি যাচাই করে নেওয়া হয়। ওই পয়েন্টগুলো পরীক্ষা করে বলটি কতটুকু গোল এবং তা আদর্শ মাপের কি না তা যাচাই করা হয়। এরপর বলটিকে একটি স্টিল প্লেটে দুই হাজারবার ছুড়ে দেখা হয় তার আকার ঠিক থাকে কি না। পরের ধাপে পানির বড় গামলায় বলটিকে রেখে ২৫০ বার চাপ প্রয়োগ ও প্রসারিত করা হয়। এ সময় বলটি কিছুটা পানি শোষণ করে। তবে সেটি সীমা ছাড়ালেই সমস্যা। এ ক্ষেত্রে কিক দিলে ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ পরীক্ষায় পাস করলে পরের ধাপে বলের ওজন নেওয়া হয়। বলটিকে একটি নির্দিষ্ট চাপে ফুলিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিয়ে দেখা হয় তা চুপসে যাচ্ছে কি না। চুপসে না গেলে সবুজ সংকেত পায়। এরপর দুই মিটার ওপর থেকে একটি স্টিল প্লেটে বেশ কয়েকবার ফেলে বলের বাউন্স যাচাই করা হয়। এসব পরীক্ষায় পাস করলেই মিলবে জিপিএ ফাইভ তথা ‘ফিফা কোয়ালিটি প্রো’।

 

বলের ভেতর চিপ

এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ফুটবল টেলস্টার ১৮তে একটি মাইক্রোচিপ আছে। এবারই প্রথম এমন কিছু জুড়ে দেওয়া হলো ফুটবলে। চিপটির নাম এনএফসি বা নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন চিপ। চিপটি বলের উপরিপৃষ্ঠের ওয়াই-ফাই চিহ্নের নিচে লাগানো আছে। স্মার্টফোনকে এনএফসি ট্যাগের সঙ্গে কানেক্ট করলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। এটি অবশ্য খেলার তথ্য দেবে না। ফুটবলবিষয়ক নানা তথ্য এবং বিশেষ করে এর নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ফুটবল কনটেন্ট-বিষয়ক নানা তথ্য জানাবে। অ্যাডিডাসের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কেও জানাবে এই চিপ। এই ওয়ার্ল্ডকাপ যত সামনের দিকে গড়াবে, তত নতুন নতুন ফিচার যোগ করা হবে ওই চিপে।

 

ম্যাগনাস ইফেক্ট

প্রায় অসম্ভব বাঁক নিয়ে কখনো বল জালে ঢুকতে দেখেছ? একসময়ের তারকা খেলোয়াড় রবার্তো কারলোস ও ডেভিড বেকহ্যামরা কিন্তু ফুটবলকে ক্রিকেট বলের মতো স্পিন করার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাঁরা কিক ছুড়তেন গোলপোস্টের অনেক ডানে। গোলকিপার ভাবতেন বল বুঝি বাইরে চলে যাবে। নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। কিন্তু আচমকা বল বাঁক নিয়ে ঢুকে পড়ত জালে। বলের স্পিন ও বাতাসের গতি কাজে লাগিয়ে গোলকিপারকে এভাবে ধন্ধে ফেলে দেওয়ার পেছনেও আছে বিজ্ঞান। জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেইনরিখ গুস্তাভ ম্যাগনাসের একটি চমত্কার গবেষণা এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেয়। তার নামেই এ ঘটনার নাম ম্যাগনাস ইফেক্ট। এ ক্ষেত্রে ফুটবলে শট মারলে তা ভীষণ বেগে ঘুরতে ঘুরতে এগিয়ে যাওয়ার সময় সেই গমনপথের উল্টো দিক থেকে আসা বাতাসের ধাক্কায় তার গতিপথ পাল্টাতে থাকে। নিউটনের তৃতীয় সূত্রকে কাজে লাগিয়ে বল তখন বিপরীত দিকে বাঁক নিতে থাকে। এটি এত দ্রুত হয় যে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বিভ্রান্ত হবেই হবে। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে রবারতো কারলোসের সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিকটিকে বলা হয় ম্যাগনাস ইফেক্টের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ। কিকটি দেখতে পারো এই লিংকে— https://www.youtube.com/watch?v=3ECoR__tJNQ|

 

জার্সির রঙে বিজ্ঞান

ফুটবলে জার্সির রংও একটি চিন্তার বিষয়। জার্সির রং ও তার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন ইংল্যান্ডের চেসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট গ্রিনলেস। গবেষণায় জানা যায়, লাল রঙের জার্সি পরা দলকে প্রতিপক্ষের কাছে অনেক দক্ষ ও কর্তৃত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। ফলে প্রতিপক্ষ অবচেতনে দুশ্চিন্তায় থাকে ও বাজে পারফর্ম করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, লাল রঙের সঙ্গে রক্ত, বিপদ, রাগ ইত্যাদি জড়িত আছে বলেই এমনটি হয়। আবার সফল পাসের জন্য সাদা জার্সি সবচেয়ে ভালো। কারণ সবুজ মাঠে সাদা সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যায়। অন্যদিকে সবুজ জার্সি দলের ডিফেন্স মজবুত করে। কারণ সবুজ মাঠে তাদের অবস্থান বোঝা প্রতিপক্ষের জন্য ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়।

ক্রোয়েশিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নেপথ্যে কি তবে লাল-সাদা জার্সি?



মন্তব্য