kalerkantho


বিশ্বকাপ আড্ডা

উন্মাদনায় লাগাম দাও

৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



উন্মাদনায় লাগাম দাও

তানহা-তপু ভাই-বোন। সব কিছুতে এক হলেও বিশ্বকাপে একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ। তানহা ব্রাজিল আর তপু আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক। ফেসবুকে তো বটেই, সামনাসামনিও খোঁচাখুঁচি কম চলে না। সেদিন ফ্রান্সের কাছে আর্জেন্টিনার হারার পর তো ভাই-বোনের তুমুল ঝগড়াই বেধে গেল। তাদের চিত্কার-চেঁচামেচিতে অসুস্থ দাদুর ঘুমটাও গেল ভেঙে। ফলাফল হিসেবে খেল একগাদা বকুনি। দুজনের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। ওদের মতো বিশ্বকাপের উন্মাদনা যেন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না যায়, সে জন্য কিছু পয়েন্ট মাথায় টুকে নিতে পারো।

 

টিভির ভলিউম বেশি বাড়িয়ে খেলা দেখবে না। গোল হলে যদি চিত্কার দিতেই হয়, তবে এমন কোথাও খেলা দেখো, যেখানে কারো ডিস্টার্ব হবে না। বলা তো যায় না, হয়তো তোমার এই চিত্কারের কারণে পাশের বাড়ির কোনো হার্টের রোগীর বড় কোনো সমস্যা হয়ে গেল।

 

পরাজিত দলের সমর্থকদের নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে যেয়ো না। খেলা নিয়ে টিজ করতে গিয়ে অনেকেই অজান্তে বাজে ও অশালীন মন্তব্য করে বসে। এতে তোমার লাভের চেয়ে লসই বেশি। অনেকেই দেখবে, বাজে মন্তব্যের কারণে তোমাকে ‘আনফ্রেন্ড’ কিংবা ‘আনফলো’ দিয়ে দিয়েছে। এমনকি এড়িয়েও চলতে শুরু করেছে।

 

খাঁটি সমর্থক হতেই পারো। কিন্তু সমর্থন করা মানে প্রিয় দলের জন্য জান-প্রাণ উত্সর্গ করা নয়। পতাকা ওড়ানো নিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা কিন্তু কম ঘটেনি। এখন বর্ষাকাল। ছাদে পতাকা ঝোলানোর স্টান্টবাজি বা রাত-বিরাতে উল্লাস করতে গিয়ে বাড়তি বিপদ ডেকে এনো না।

 

অন্য দেশের পতাকা বা জার্সিকে অসম্মান করাটা একেবারেই অনুচিত কাজ। পতাকা নিয়ে ট্রোল করার চিন্তাও বাদ দাও। এতে বন্ধুমহলে তোমার অজ্ঞতাই প্রকাশ পাবে।

 

তানহা আর তপু ঝগড়া আর খুনসুটি করলেও এক জায়গায় অবশ্য মিল আছে। খেলার সময় চিপস, পপকর্ন, চানাচুরের ব্যবস্থা করে রাখে নিজেরাই। খাবার ভাগাভাগিতে তাদের রা নেই। তোমরাও সেমিফাইনাল বা ফাইনালের দিন বন্ধুদের নিয়ে খেলা দেখা নিয়ে জম্পেশ একটা পার্টির আয়োজন করতে পারো। ফুটবল থিমে সাজিয়ে নিতে পারো সেদিনের সাজগোজ। হাফ টাইমে খেলতে পারো বিশ্বকাপ কুইজ।



মন্তব্য