kalerkantho


বিশ্বকাপ ২০১৮

ঘটন-অঘটন

৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঘটন-অঘটন

১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ছবিতে চতুর্থ গোল দিতে দেখা যাচ্ছে উরুগুয়ের হেক্টর কাস্ত্রোকে

বল ছাড়া বিশ্বকাপ

আয়োজন করা হয়েছে বিশ্বকাপ; কিন্তু নেই নিজস্ব বল। ঘটনা অনেকটা এমনই ঘটে ফিফার প্রথম বিশ্বকাপে। দলগুলো নিজেরাই বল নিয়ে আসত। সেই বলেই খেলা হতো। তবে ফাইনালে লাগল দ্বন্দ্ব। উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা দুই দলই নিজেদের বলে খেলতে চায়। শেষে সিদ্ধান্ত হয়, প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বলে এবং দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের বল দিয়ে খেলা হবে।

 

দুই মহাদেশে এক বিশ্বকাপ

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০০২ সালে প্রথম দুটি ভিন্ন দেশে খেলার আয়োজন করা হয়। ওই বছর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে ছিল আয়োজক। তবে এবার ২০১৮ সালে একই সঙ্গে দুই মহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে। কারণ রাশিয়া একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়া দুই মহাদেশেই পড়েছে!

 

বিছানার নিচে কাপ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার কথা। ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের কমিশনার নিযুক্ত হন অত্তোরিনো বারাসসি। তার ভয় ছিল—নািসবাহিনীর লোকজন এসে আর কিছু না হোক, বিশ্বকাপে ইতালির ট্রফিটা নিয়ে যাবেই। তাই রোমের একটি ব্যাংক থেকে ট্রফিটা নিয়ে এসে বিছানার নিচে একটি জুতার বাক্সে লুকিয়ে রেখেছিলেন অত্তোরিন।

 

ফাইনাল ছাড়া বিশ্বকাপ

১৯৫০-এর ব্রাজিল বিশ্বকাপে কোনো নক আউট ফাইনাল ছিল না। পরীক্ষামূলকভাবে রাউন্ড রবিন লিগ ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহকারী দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। এতে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ছিল না কোনো গ্রুপ পর্ব।

 

গোল দিলেই গাড়ি

১৯৯০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দলটি ছিল অনভিজ্ঞ। ঘোষণা আসে—দেশের হয়ে যে গোল করবে, সে-ই পাবে একটি গাড়ি। তা-ও যেনতেন গাড়ি নয়, প্রতি গোলে একটি রোলস রয়েস! দলটি ছিটকে পড়ে গ্রুপ পর্ব থেকে। তবে দুটি গোলে গাড়ি বাগিয়ে নেয় ইসমাইল মোবারক ও থানি জুমা।

 

খেলার মাঠে ১৬০০ পিস্তল!

খেলার মাঠে রং মেখে সঙ সেজে কত কী করে দর্শকরা। তাই বলে গোলাগুলি! ঘটনা প্রথম বিশ্বকাপের। স্টেডিয়ামে তখন পিস্তল নিয়ে খেলা দেখতে যেত দর্শকরা। দুই প্রতিবেশী আর্জেন্টিনা ও স্বাগতিক উরুগুয়ে ফাইনালে ওঠায় দর্শকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে খেলার শুরুতে রেফারি দর্শকদের তল্লাশি করতে বলেন। জব্দ করা হয় প্রায় ১৬০০ রিভলবার!

 

সুযোগ হাতছাড়া ভারতের

বাছাই পর্ব থেকে সব দল নাম প্রত্যাহার করায় কোনো ম্যাচ না খেলেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় ভারত। ঘটনা ১৯৫০ সালের। তবে ওই সময় খালি পায়ে ফুটবল খেলে অভ্যস্ত ভারতের ফুটবলদল। তারা বিশ্বকাপেও খালি পায়ে খেলার দাবি করে। কিন্তু অনুমতি দেয়নি ফিফা। তাই সেবার আর খেলাই হয়নি ভারতের।

 

গোল থেকে গুলি

১৯৯৪ বিশ্বকাপের হট ফেভারিট ছিল কলম্বিয়া। কিন্তু গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। ওই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করে বসেন আন্দ্রে এসকোবার। পরে আততায়ীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। ধারণা করা হয়, ওই গোলের জেরেই গ্যাংস্টাররা গুলি করে তাঁকে।

 

দীর্ঘমেয়াদি চ্যাম্পিয়ন

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় চ্যাম্পিয়ন থাকার রেকর্ড ইতালির। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮-এর বিশ্বকাপ জেতে তারা। এর পরের দুই আসর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ১৯৩৪ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছিল তারা।

 

 

বিশ্বকাপ ২০১৮

পুতিনের মুচকি হাসি : উদ্বোধনী খেলায় স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে ছিল সৌদি আরব। উদ্বোধনী খেলায় গ্যালারির ভিআইপি লাউঞ্জে ফিফার সভাপতির সঙ্গে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও সৌদি বাদশা মোহাম্মদ বিন সালমান। খেলায় রাশিয়া ৫-০ গোলে হারায় সৌদি আরবকে। প্রথম গোল হওয়ার পরই পুতিন ও সালমান হ্যান্ডশেক করেন এবং পরবর্তী গোলগুলো হওয়ার পর প্রতিবারই পুতিন সালমানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। ক্যামেরায় এ হাসি ধরা পড়েছে প্রতিবারই। 

 

ম্যারাডোনার ঘুম : আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মধ্যে টানটান উত্তেজনার খেলায় ভিআইপি বক্সে থাকা ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনা ঘুমিয়েও পড়েন!

 

রোনালডোর প্যান্ট টানাটানি : একেই বলে মুদ্রাদোষ। দেখে মনে হবে, যেন বড় প্যান্টে ভীতি আছে রোনালডোর। মাঠে বারবার প্যান্ট টেনে ওপরে তোলার জন্য এই বিশ্বকাপেও একচোট হাসির পাত্র হয়েছেন তিনি।

 

এক গোলেই খুশি : বিশ্বকাপে খেলতে পারাই বড় কথা—এই নীতিতে চলা দেশগুলোর মধ্যে পানামা অন্যতম। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬ গোল হজম করেছিল তারা। কিন্তু কী আসে-যায় তাতে! একটা যে দিতে পেরেছে, তাতেই বর্তে যান খেলোয়াড় ও দর্শকরা। তাই খেলা শেষেও তাঁদের বেশ উল্লাস করতে দেখা যায়।



মন্তব্য