kalerkantho


সিনেমা

ফুটবলের সিনেমা

শুধু ম্যাচ দেখে কি আর মন ভরে? খেলার ফাঁকে ফাঁকে একটু অন্য বিনোদনও চাই। আর তাতেও যদি থাকে ফুটবল, তবে তো কথাই নেই! ফুটবলনির্ভর কয়েকটি দারুণ সিনেমার কথা জানাচ্ছেন আফরা নাওমী

৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ফুটবলের সিনেমা

পেলে-বার্থ অব আ লিজেন্ড (২০১৬)

ফুটবলজগতের কিংবদন্তি কালো মানিক ওরফে পেলে। তবে ফুটবলজগতের আইকন হওয়ার আগে পেলে ছিলেন বেশ দরিদ্র পরিবারের এক খুদে সদস্য। যার কিনা একটি ফুটবল কেনার সামর্থ্যও ছিল না। তিনি বেড়ে উঠেছিলেন ব্রাজিলের সাও পাওলোর বস্তিতে। কিন্তু ফুটবলের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ও বাবার অনুপ্রেরণায় ফুটবলকেই আঁকড়ে ধরেন। পেলের ফুটবলজগতের যুদ্ধযাত্রা ও তারকা হয়ে ওঠা নিয়ে জীবনীধর্মী সিনেমা পেলে-বার্থ অব আ লিজেন্ড। জেফ জিম্বালিস্ট এবং মাইকেল জিম্বালিস্টের পরিচালনায় ২০১৬ সালে মুক্তি পায় আমেরিকান ছবিটি।

এগারো (২০১১)

১৯১১ সালের কথা। ভারতে তখন ব্রিটিশদের শাসন। এর মধ্যে ২৯ জুলাই আয়োজন করা হলো এক ফুটবল ম্যাচের। মোহনবাগান একাদশের বিরুদ্ধে খেলবে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্ট। ম্যাচে ব্রিটিশ ফুটবলারদের বিরুদ্ধে খালি পায়ে খেলেই জিতেছিলেন মোহনবাগানের ১১ বাঙালি খেলোয়াড়। এ যেন শুধু ম্যাচ জেতাই ছিল না, ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আদায়ের প্রথম ধাপ। ২০১১ সালে সেই ঐতিহাসিক বিজয়ের ১০০ বছর উদ্যাপনের দিন মুক্তি পায় ‘এগারো’। গল্পটি সেই ম্যাচকে ঘিরেই। কলকাতার নবীন পরিচালক অরুণ রায় পরিচালনা করেন সিনেমাটি। চাইলে ইউটিউবেই দেখতে পাবে।

দ্য গেম অব দেয়ার লাইভস (২০০৫)

১৯৫০ সালের আমেরিকার ফুটবল দলের একটি অনবদ্য বিজয় নিয়ে ছবিটি তৈরি করেছেন ডেভিড আনসপো। ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলটি। মিসৌরি ও ম্যাসাচুসেটস থেকে আসা দুটি আলাদা দল একত্র হয়ে তৈরি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র একাদশ। ফুটবল জগতে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল ‘আন্ডারডগ’। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াটাই ছিল বড় কথা। সেখানে কিনা ইংল্যান্ডের মতো দলকে তারা হারিয়ে দেয় ১-০ গোলে। ওই বিশেষ ম্যাচটির কারণেই ফুটবলের প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ ও আকর্ষণ বেড়ে যায় অনেকখানি।

লা গ্রান ফাইনাল (২০০৬)

ফুটবল নিয়ে কমেডি ছবিটি নির্মাণ করেছেন স্প্যানিশ চলচ্চিত্রকার জেরারদো অলিভারেস। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পটভূমিতে এর গল্প। বিশ্বের তিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের তিনটি আলাদা গোষ্ঠীর কিছু মানুষের বিশ্বকাপ দেখার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা নিয়েই এর কাহিনি। যাদের মধ্যে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার একটি যাযাবরদল, সাহারা মরুর বাসিন্দা ও আমাজন জঙ্গল থেকে আসা কয়েকজন ইন্ডিয়ান আদিবাসী। এ তিন দলের ব্রাজিল-জার্মানি ফাইনাল ম্যাচ দেখা নিয়েই ঘটেছে মজার সব ঘটনা।

গোল ট্রিলজি (২০০৫-২০০৯)

ট্রিলজির প্রথম খণ্ড ‘গোল-দ্য ড্রিম বিগিনস’ বেশি জনপ্রিয়। আমেরিকায় বাস করা মেক্সিকান রন্ধনশিল্পী সান্তিয়াগো মুনেজ কী করে ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার হলেন, সে গল্প নিয়েই গোল। গোল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের গোলটিও যে বদলে যেতে থাকে, সেটিও দেখানো হয়েছে এতে। অন্যদিকে এক ক্লাব ছেড়ে অন্য ক্লাবে যাওয়ার সময় একজন তারকা খেলোয়াড়কে যে টানাপড়েনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, সেটি দেখানো হয়েছে দ্বিতীয় পর্বে।

 

ফুটবলের আরো সিনেমা

ফুটবল নিয়ে সিনেমা আছে ঢের। এর মধ্যে নামকরা কয়েকটি হলো—অফসাইড (ইরান), দ্য কাপ (ভুটান), ইউনাইটেড (যুক্তরাজ্য), দ্য মিরাকল অব বার্ন (জার্মানি), বেন্ড ইট লাইক বেকহাম (যুক্তরাজ্য), আ বেয়ার ফুট ড্রিম (কোরিয়া), ম্যারাডোনা বাই কস্তুরিকা (ফ্রান্স), টু হাফ টাইমস ইন হেল (জার্মানি), শাওলিন সকার (চীন), দ্য ফুটবল ফ্যাক্টরি (যুক্তরাজ্য)।

 



মন্তব্য