kalerkantho


দারুচিনি দ্বীপের ক্রন্দন

মোশাররফ হোসেন ভূঞা

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বাতাস পুড়েছে কাল, খয়েরি হয়েছে মেঘপুঞ্জ পুড়ে পুড়ে

দীর্ঘদিন দুজনার একটি আকাশ ছাইরং মেঘে ঢাকা

চোখের কোটরে নুন, সুগন্ধি ফলের গায়ে লোভাতুর মাছি

শুভ্রসত্য অনুভবে নিষ্ফল প্রান্তরে সুধাপাত্র প্রহসন।

 

যাযাবর কুয়াশারা সোনার সকাল মুছে দিয়ে গেছে, সেই—

বিষাদের ভায়োলিনে মনের মন্দিরে জেগে থাকে তিক্ত সুর

স্মৃতিসাঁকো পার হয়ে দুহাতে কুড়িয়ে আনি কিছু কষ্টনুড়ি

অনাদরে পড়ে থাকে লোরকা, ভেরলেন এবং অন্ধ হোমারও।

 

অন্তরঙ্গ দারুচিনি দ্বীপের ক্রন্দনে আলুথালু মধ্যরাতে—

ব্যাকুল হাতের স্পর্শে সেতারার মিড়ে বিষণ্নতা তুলে ধরে

সুদূরের চক্রবাঁকে কোজাগরীকষ্টে জেগে থাকে মৃতদিন

তাকে মনে রেখে আজও ক্রমাগত কাঁপে হৃদয়ের রক্তনালি।

 

গোধূলির অন্ধকারে ম্লান ছায়াতীরে তার এলায়িত চুলে—

এখনো কি কুমারী বসন্ত কাঠালচাঁপা গন্ধে মৃদু হাসে?

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নির্জন নিশীথে শব্দদেহ কেঁপে ওঠে

অদৃশ্য আগুনে ক্রমে ক্রমে পুড়ে যায় স্নানসিক্ত নীলাম্বরী।

 

মনোমুগ্ধ মৃগতৃষ্ণা একান্ত নিভৃতে ছায়াজব্দ ক্রীতদাস—

অভিধানে লুক্কায়িত শব্দের মন্দিরা হয়ে কেঁদে মরে একা

নিরন্তর তবু তার কুসুমকোমল শরীরের শব্দ গুনি

অন্ধ হোমারের মতো স্বর্ণালি অতীত খুঁজে ফিরি শূন্যপ্রান্তে।


মন্তব্য