kalerkantho


গল্প

শিল্পী, নগ্নিকা এবং...

আনিসুল হক

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



শিল্পী, নগ্নিকা এবং...

অঙ্কন : নাজমুল আলম মাসুম

মোস্তফা কামাল ভাইয়ের হাসিটার মধ্যে একটা অভয়বার্তা আছে, একটা প্রশ্রয়, একটা পৃষ্ঠপোষকতা। আমি তাই তাঁকেই টার্গেট করি।

তিনি অনেক বড় সাংবাদিক। এমনিতেই লম্বা-চওড়া মানুষ, মাথায় চুল একটু কম, কিন্তু খুব বুদ্ধিদীপ্ত উজ্জ্বল চোখ, দৃঢ় চিবুক, খাড়া নাক; তাঁকে দেখলে একটু ভয় ভয়ই লাগে। কিন্তু তাঁর হাসিটা আপনার ভয় দূর করে দেবে। আর তাঁর মধুর ব্যবহার।

আমি তাঁর কাছে যাওয়ার সুযোগ পাই বইমেলায়। তাঁর বই বেরিয়েছে—‘অগ্নিকন্যা’। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা। আমি বইয়ের বিজ্ঞাপন দেখেছি পত্রিকায়। আমি সেই বইটা কিনতেই যে বইমেলায় গিয়েছিলাম, তা নয়। শুক্রবার ছিল সেদিন, বইমেলা খুলেছিল সকাল এগারোটায়, আমি রোদেলা চত্বরে একটা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বই দেখছিলাম, তখনই নজরে এলো ‘অগ্নিকন্যা’, সেটা হাতে নিয়েছিলাম কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই। তখন একজন বিক্রেতা বললেন, রাইটার আছেন স্টলে, অটোগ্রাফ নিয়ে নিন। বিক্রেতার পরনে হলুদ টি-শার্ট, সব বিক্রেতাকেই এই টি-শার্ট দেওয়া হয়েছে, তবে এই ছেলেটি অতিরিক্ত লম্বা। আমি বললাম, মোস্তফা কামাল আছেন? কে?

বিক্রেতা ছেলেটা তার ভীষণ লম্বা হাত দিয়ে দেখিয়ে দিল লেখককে। আমি দেখলাম, একটা চেয়ারে বসে লেখক সাহেব কী এক বই পড়ছেন।

ভিড় কম, সকালটা মধুর, বাতাসে দখিনা মাদকতা, কোথাও আমের গাছে মুকুল এসেছে, আমার মনে হলো, এই সুযোগ। আমি ‘অগ্নিকন্যা’ বইটা কিনে বললাম, মোস্তফা কামাল ভাই, আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেবেন। তবে শুধু শুভেচ্ছা লিখবেন না। আমি একজন অ্যামেচার আর্টিস্ট, আমি ছবি আঁকি, আপনি যদি এ ব্যাপারে আমাকে একটা উপদেশ দেন।

তিনি দাঁড়ালেন। আমার জীবনে আমি এই রকমের ভদ্র ব্যবহার আর পাইনি।

আমার বয়স বাষট্টি, আমি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছি, দুটি দাঁত তুলে ফেলতে হয়েছে, আমার স্ত্রী বেঁচে আছেন, আমার সঙ্গে মুগদাপাড়ায় থাকেন এবং আমার দুই মেয়ের একটা অস্ট্রেলিয়া আর একটা আমেরিকা থাকে। অভিজ্ঞতা আমার ব্যাপক, কিন্তু এত বড় একজন লেখক এই রকম আদব-কায়দা ভব্যতা নম্রতা দেখাতে পারেন, আমার ধারণা ছিল না।

তিনি হেসে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। বললেন, আপনি কী ধরনের ছবি আঁকেন?

আমি বললাম, অ্যাবস্ট্রাক্ট।

আচ্ছা, আপনি আমাকে আপনার ছবি দেখাবেন তো।

বলে তিনি অটোগ্রাফ দিতে লাগলেন মাথা নিচু করে। স্বাক্ষর দেওয়া হয়ে গেলে তিনি আমার দিকে বইটা বাড়িয়ে দিলেন। দোকানি সেটা কেড়ে নিয়ে একটা কাগজের প্যাকেটে ভরে খুচরা টাকাসহ আমার হাতে দিল। আমি বই খুলে দেখলাম, লেখা আছে : ‘ছবি আঁকা চালিয়ে যান, তবে ছবি আঁকলেই আর্টিস্ট হওয়া যায় না, যেমন লিখলে লেখক হওয়া যায় বটে, সাহিত্যিক হওয়া যায় না।

আপনার সাফল্য কামনা করি।’

তার নিচে সই।

আমি খুশি হব, না দুঃখ পাব বুঝতে পারলাম না।

বললাম—ভাই, আপনার ফোন নম্বরটা পাওয়া যাবে?

তিনি বললেন—কার্ড দিচ্ছি, অফিসে ফোন করবেন।

কার্ড দেখে আমি তো অক্কা পাওয়ার জোগাড়। অনেক বড় একটা খবরের কাগজের অনেক বড় সাংবাদিক তিনি।

আমি বললাম—আচ্ছা, আপনাকে একদিন ফোন করব।

আমার ভেতরে একটা মাছি সারাক্ষণ ভনভন ভনভন করছে—কখন তুমি ফোন করবে মোস্তফা কামালকে।

আমার স্ত্রী সাবিনার বাতের ব্যথা উঠেছে। তিনি তাঁর চেয়ে বেশি বয়সী বুয়াকে দিয়ে হাত-পা টিপিয়ে নিচ্ছেন আর ‘ও বাবা রে কী বেদনা রে’ করে চিত্কার করছেন।

আমি ছবি আঁকায় মন দিলাম। নিউ মার্কেট থেকে আমি ছোট ছোট ক্যানভাস কিনে এনেছি। অ্যাক্রিলিক দিয়ে ছবি আঁকি।

যা মনে আসে তা-ই আঁকি। সেসব হয় কি না তা-ও জানি না। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার ছবি আঁকা উচিত।

সত্য কথা হলো, আমি আর্ট কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। তিন মাস ক্লাস করে পরে চলে আসি, এবং ইতিহাস নিয়ে পাস কোর্সে পড়াশোনা করি। তারপর আমি শিক্ষক হই। কিন্তু আমার সব সময়ই মনে হয়েছে যে আমি একজন আর্টিস্ট। আজ মোস্তফা কামাল আমার সমস্ত শান্তি নষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ছবি আঁকলেই আর্টিস্ট হওয়া যায় না। তাহলে আর্টিস্ট হতে কী করতে হবে?

আমি একদিন তাঁর অফিসে ফোন করলাম। তিনি ধরলেন ফোন। পিএবিএক্সের মাধ্যমে আমি তাঁকে পেয়ে গেলাম ফোনে।

আমি জানি, আর্টিস্টরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে নিজেকে। তাই আমি বললাম, আপনার ‘অগ্নিকন্যা’ বইটা আমি পড়েছি। আমার খুব ভালো লেগেছে।

তাই নাকি! কে বলছেন?

শামসুল হক স্মৃতি কলেজের রিটায়ার্ড অধ্যাপক কাওছার হুসাইন বলছি—আমার ভাঙা দাঁতের ফাঁক দিয়ে বাতাস বেরিয়ে যায়।

জি জি, বলেন।

আপনার কাছ থেকে বইটা কিনেছিলাম বইমেলা থেকে অটোগ্রাফসমেত। আপনি আমাকে ভালো একটা উপদেশ লিখে দিয়েছিলেন...

তাই নাকি? কী লিখেছিলাম?

লিখেছিলেন, ‘ছবি আঁকা চালিয়ে যান, তবে ছবি আঁকলেই আর্টিস্ট হওয়া যায় না, যেমন লিখলে লেখক হওয়া যায় বটে, সাহিত্যিক হওয়া যায় না।

আপনার সাফল্য কামনা করি।’

বাপ রে! এই রকম একটা কঠিন কথা আমি কেন লিখতে গেলাম?

আপনি বিখ্যাত মানুষ, আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে লিখেছেন আর কি।

আরে কী বলেন।

স্যার, আমার কিছু ছবি আপনাকে দেখাতে চাই, স্যার...

আচ্ছা, আসবেন একদিন আমাদের অফিসে। আপনার ছবি দেখি। ভালো লাগলে আপনার ওপরে একটা ফিচার করে দিতে পারব।

থ্যাংক ইউ, স্যার। কবে আসব, স্যার...

আমাকে স্যার বলবেন না তো। মোস্তফা কামাল বলেন।

এইভাবে মাঝেমধ্যে কথা হয় মোস্তফা কামালের সঙ্গে। কিন্তু গল্পের এই পর্যায়ে মোস্তফা কামাল আসবে না। আসবে বিখ্যাত আর্টিস্ট রওশন খান। সে একজন পুরুষ। রওশন নামের পুরুষও আছে, নারীও আছে, আপনারা জানেন।

রওশন খান আমার ক্লাসমেট ছিল। আমরা আর্ট কলেজে একসঙ্গে ভর্তি হয়েছিলাম। আমি তো ইতিহাস পড়তে চলে গেলাম। রওশন খান আর্ট কলেজেই রয়ে গেল। এখন সে বিশাল আর্টিস্ট। তার একটা তেলচিত্র সেদিন নাকি ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, গ্যালারিতে তাই নিয়ে হৈচৈ।

আমি বাসে চড়ে ধানমণ্ডির গ্যালারিতে যাই। কী করব। রিটায়ার্ড মানুষ। বাড়িতে বাতের বেদনাওয়ালা বউ, একজন পানের গন্ধওয়ালা বৃদ্ধা বুয়া ছাড়া আর কেউ নেই। আমার কোনো কাজও নেই। আর আমার ভেতরের আর্টিস্ট সত্তা আমাকে শান্তি দেয় না।

আমি জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করি : সে কেন জলের মতো একা কথা কয়, আমি তাকে পারি না এড়াতে।

ঘর্মাক্ত কপাল নিয়ে বসে আছি ধানমণ্ডির একটা গ্যালারির সামনের চত্বরে, পাশেই একটা ছোট ক্যান্টিনের মতো আছে, সেখান থেকে চা আসছে। এখানে গ্যালারির দুজন আর্টিস্ট আর দুজন তরুণ আর্টিস্ট আড্ডা দিচ্ছে। এই সময় আমার বন্ধু রওশন খান এলো।

আড্ডা জমে উঠল।

রওশন বলল—আরে মিয়া, দেখো কী আঁকছি।

আমি তার হাতের বড় স্মার্টফোনে তাঁর আঁকা নতুন কাজ দেখছি।

ন্যুড। একটা মেয়ে বস্তির ধারে কলতলায় গোসল করছে। তার একটা স্তন উন্মুক্ত। কিন্তু তার ওপরে জলের ফোঁটা, আর তাতে আলো পড়েছে। নগ্নতার চেয়েও আলোর ফোঁটাটাকে সে স্পষ্ট করে এঁকেছে।

রওশন বলল—কেমন বুঝলা, দোস্ত?

আমি বললাম, তোমার এইটা আর্ট হয়েছে। কারণ তুমি ন্যুডিটির চেয়েও পানির ফোঁটাটাকে প্রমিনেন্স দিয়েছ।

সে বলল, সেইটাই তো আর্টিস্টের কাজ। ধরো, তোমার ঘরে তুমি একটা মডেল আনলা। সে সারা দিন তোমার সাথে থাকবে। কিন্তু যখন তুমি ছবি আঁকবা, তখন কিন্তু সেক্সের কথা মাথায়ও আসবে না। আসতে পারে না। এইটা যার হবে, সে হইল আর্টিস্ট। দেখো, আরো কতগুলান ন্যুড আঁকছি। দেখো...

আমি তো ফর্মুলা পেয়ে গেলাম। আমি সেই দিন আর্টিস্ট হব, যেদিন আমার সামনে আপেল থাকবে, আমি আঁকব, কিন্তু আপেলটাকে খাদ্য মনে হবে না, মনে হবে ফুল, এর রং, এর আকার...আমার সামনে নগ্ন নারী থাকবে, কিন্তু আমি তার সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করব, রেখা, রং, আলো...কিন্তু আমার মনে আর কোনো ক্রিয়া থাকবে না। কেবল আর্ট, কেবল আর্ট...

মোস্তফা কামাল তাঁর অফিসের ক্যান্টিনে নিয়েছেন আমাকে। খুব সুন্দর অফিস। পুরোটাই এয়ারকুলারের ঠাণ্ডায় ঝিম মেরে আছে। কাচের দেয়াল। উঁচু সিলিং। আহ্। এমন অফিসেই না কাজ করতে হয়।

আমি বললাম, মোস্তফা কামাল সাহেব, আপনি অনেক বড়মাপের মানুষ।

কেন বলছেন?

কারণ আপনি আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষকে সময় দিচ্ছেন।

আরে না। বলেন।

আমার একটা গল্প আছে।

জি, বলেন।

আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।

সর্বনাশ। কোনো গুরুতর সমস্যা?

না।

কোনো সিরিয়াস ডিজিজ না তো?

না না। আপনাদের দোয়ায় ভালো আছেন। বাতের ব্যথা। তাই তাঁকে সিআরপিতে রেখেছি। সাত দিন থাকবেন। ফিজিওথেরাপি দেবে।

চা নেন। চায়ে চিনি দেওয়া নাই।

লাগবে না। চিনি না খাওয়াই ভালো। তো, বাসা ফাঁকা। আমি একটা কাজ করলাম। আমি আর্টিস্ট কি না সেটার একটা পরীক্ষা করতে চাইলাম।

কী রকম?

আমি মডেল ভাড়া করে আনলাম। আমার বন্ধু রওশন খান একটা ফোন নম্বর দিল। ফোন করলাম। ধরল।

ছেলে, না মেয়ে?

মেয়ে।

চলে আসল। এক সেশন এক হাজার টাকা। ছয় ঘণ্টা থাকবে।

কোথায় আসল?

বাসায়।

বাসায় কেউ নাই?

জি না।

তারপর কী রকম বয়স?

আটাশ-উনত্রিশ হবে। অপুষ্টির শরীর। বোঝা যায় না।

তারপর...

আমি ছয় ঘণ্টা ধরে তার ছবি আঁকলাম।

কী রকমের ছবি?

ন্যুড।

সম্পূর্ণ ন্যুড?

জি।

কী রকম ব্যাপার। সে এসে কাপড়চোপড় খুলে ফেলল?

হ্যাঁ, প্রফেশনাল মডেল। এসে বলল, খিদা লাগছে। কী খাবার আছে? আমি বললাম, তোমাদের ম্যাডাম ফ্রিজে খাবার রেখে গেছে। ওভেনে গরম করে নিতে হবে।

আমি তো পারি না। সে-ই এসে সাহায্য করল। খিচুড়ি ছিল, মাংস ছিল। সে নিজেই গরম করে নিয়ে খেয়ে বাসন ধুয়ে রাখল। তারপর বলল, এখন আঁকবেন?

আমার গলা শুকিয়ে এলো। আমার বুক কাঁপতে লাগল। আমি বললাম, আঁকি।

সে তার কাপড়চোপড় খুলে ফেলল। বলল—বসব, না দাঁড়াব? আপনি কিন্তু মোবাইলে ফটো তুলবেন না। আমার স্বামী-সংসার আছে।

তারপর?

তারপর ছয় ঘণ্টা কোত্থেকে কিভাবে কোন দিক দিয়ে চলে গেল, আমি টের পেলাম না। আমি ছবি আঁকতে লাগলাম।

তারপর?

তারপর সে বলে, ছয় ঘণ্টা শেষ। আমার যাইতে হইব। আমার ঘরে বাচ্চাকাচ্চা আছে।

হতে পারে। কারণ তার শরীর দেখে মনে হলো, বাচ্চা দুধ খায়।

কী বলেন।

তারপর?

আমি টাকা দিলাম। সে কাপড় পরতে পরতে টাকা নিয়ে তার ছোট্ট ব্যাগটাতে রাখল।

তারপর?

তারপর চলে গেল।

তারপর...

আমার কিন্তু একবারও ছবি ছাড়া আর কিছু মনে হয় নাই।

মানে কী?

মানে, মনে হয় নাই যে এটা ফুল নয়, ফল। মনে হয় নাই যে এটা জোছনা নয়, চাঁদ।

মানে কী?

মানে, আমি কিন্তু আর্টিস্ট পরীক্ষায় পাস করেছি।

মোস্তফা কামাল বললেন, আপনার ছবি দেখি। কী এঁকেছেন। এনেছেন ফটো?

জি, মোবাইল ফোনে আছে।

আমি দেখালাম।

তিনি দেখে বললেন, এর মধ্যে নারী কই? এ তো শুধুই রং। হলুদ লাল নীল রং আর রং। কোনো ফিগারই তো নাই।

আমি বললাম—জি, আমি ফিগার আঁকি না। হলুদটা হলো কামনা। লালটা হলো সেক্স। কিন্তু নীলটা আমি প্রমিনেন্ট করেছি।

আপনি না বললেন, আপনার মধ্যে কোনো সেক্সের চিন্তা আসেই নাই।

ছবির সাবজেক্ট হিসেবে এসেছিল। কিন্তু ওই মেয়ের ব্যাপারে আসে নাই।

দেখতে কেমন ছিল মডেলটা?

ভালো। একটু গরিবি ভাব ছিল...তো এখন বলেন, আমি কি আর্টিস্ট হয়ে গেছি?

মোস্তফা কামাল বললেন, মনে হয়। আমি তো আর্ট সাবজেক্ট ডিল করি না। আমার কাজ লেখা। তবে আমাদের আর্ট বিভাগটা যে দেখে তাকে আপনার কাজগুলো দেখাই।

জি, দেখান।

আমি বললাম, কিন্তু তিনি তো শুধু আর্ট দেখে আমার কাজকে বিবেচনা করবেন। আমি যে আর্টিস্টের লিটমাস টেস্টে পাস করেছি, সেটা যদি উনি না জানেন...

মোস্তফা কামাল আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর চোখে জল আসছে। এই চোখের জলটাকে আমার আঁকতে পারতে হবে। তিনি বললেন, আর্ট জিনিসটা খুব সোনার হরিণের মতো, আপনার কাজটা যখন ভোক্তার কাছে যায়, কাজটাই যায়, পেছনের গল্পটা যায় না। আবার কাজটা যদি গৃহীত হয়, পেছনের গল্পটা আমরা জানতে চাই। কাজটা গৃহীত না হলে পেছনের গল্প কেউ জানতে চায় না। কত কবি রবীন্দ্রনাথের চেয়েও বড় কষ্টের ভেতর দিয়ে গেছেন। কে রাখে তার খবর। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গে কোনো দিন ব্যথিত বেদন অনুভব করেছিলেন কি না, এটা নিয়ে কত কেচ্ছা কত পিএইচডি থিসিস হচ্ছে। আপনার বেদনা আমি বুঝি, কাওছার সাহেব। আপনি যে আর্টিস্ট, এতে আমার কোনো সন্দেহ নাই...

আমি মোস্তফা কামাল ভাইয়ের সেই অশ্রুমাখা হাসিটার কথা ভেবে তিনটা ছবি এঁকেছি। সবই অবশ্য বিমূর্ত...

আমার বাড়িতে গণ্ডগোল চলছে। আমার বউকে দারোয়ান লাগিয়েছে যে বাড়িতে একজন জোয়ান মাইয়া মানুষ ঢুকছিল...


মন্তব্য