kalerkantho


ঈদের সাজ

সাজে মাতাবে ফিউশন

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সাজে মাতাবে ফিউশন

আবহাওয়ায় প্রচণ্ড গরম আর বৃষ্টি কোনোটারই কমতি নেই। ঈদের সাজে এসব খেয়াল রাখতেই হবে। মেকআপ ও চুলের সাজে কেমন ট্রেন্ড চলছে সেটা জানা যেমন জরুরি, তেমনি মানানসইয়ের বিষয়টাও মাথায় থাকতে হয়। ঈদের সাজেরবিস্তারিত জানালেন রেড বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন

 

 

মেকআপ কেমন হবে

ভাপসা গরমে বেইস মেকআপের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কারণ মেকআপ ফেটে বা গলে যেতে পারে। তাই খুব ভারী করে বেইস মেকআপ নেওয়া চলবে না। যতটা সম্ভব হালকা বেছে নিতে হবে। গরমের সময় মেকআপ করার আগে ত্বক ভালো করে টোনিং করা জরুরি। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোমতো পরিষ্কার করে এরপর বরফের টুকরা নরম কাপড়ে পেঁচিয়ে সারা মুখে তিন মিনিট ঘষে এরপর ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ক্রিম লাগান। রাতের সাজ হলেও এটা জরুরি। এর ফলে মুখের ত্বকে মেকআপ ভালোভাবে বসবে এবং রোদে মুখ কালো হয়ে যাওয়া রোধ করতে কাজ করবে। অল্প একটু প্রাইমার মুখে ভালো করে আঙুলের সাহায্যে লাগিয়ে নিতে হবে। তৈলাক্ত ত্বক হলে লুজ পাউডার অল্প একটু ব্রাশে নিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে এরপর বাকি মেকআপ শুরু করুন। এতে মেকআপ তৈলাক্ত হবে না। গরমে বেইস মেকআপের জন্য সবচেয়ে ভালো লাইটওয়েট এবং ফুল কাভারেজ কনসিলার, যেটা ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে। ত্বকের কোথাও দাগ থাকলে সেখানটায় কনসিলার লাগিয়ে ব্রাশ বা স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লন্ড করে নিন। আর ভারী মেকআপেরও প্রয়োজন হবে না। মেকআপে সতেজ ভাব আনতে হালকা কনসিলারের সাহায্যে চোখের নিচে, নাকের ওপরে, কপালে, থুতনিতে ক্রিমি হাইলাইটিং করে নিন। এবার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। যে স্থানে কনসিলার দিয়েছেন, সেখানে লুজ পাউডার আলতো করে লাগাতে হবে। কনট্যুরিং করে নিন হালকাভাবে। চিকবোনে ব্লাশন দিন। এখন ব্লাশনে কোরাল, অরেঞ্জ, ব্রাউন ইত্যাদি কালার চলছে। বেইস মেকআপ শেষে সেটিং স্প্রে করতে ভুলবেন না। কারণ এর ফলে মেকআপ সারা দিন ভালো থাকবে। চোখের সাজে আইব্রো এঁকে নিন ন্যাচারালভাবে। দিনের সাজে বেশি গাঢ় করে আইব্রো আঁকলে ভালো লাগবে না। আই মেকআপের শুরুতে ভালো একটা আই প্রাইমার লাগিয়ে এরপর পাউডার হালকা করে বুলিয়ে নিন। এতে আই মেকআপ সারা দিন ভালো থাকবে। আইশ্যাডোর ক্ষেত্রে ব্রাউনই ভালো। কারণ এ বছর ব্রাউনের শেডগুলোই বেশি চলছে। এ ছাড়া পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন পার্ল, গ্রিন, ইয়েলো, অরেঞ্জ, গোল্ডেন, কপার, পিচ, লাল ইত্যাদি রং।

চোখে আইলাইনার, কাজল, মাশকারা যা-ই ব্যবহার করুন না কেন, সব প্রসাধনই ওয়াটার প্রুফ হতে হবে। ঈদের সাজ বলে কথা। তাই আইলাইনার মোটা এবং একটু টেনে পরতে পারেন। গরমে ভুলেও ফলস আইল্যাশ ও গ্লিটার আইশ্যাডোর ধারেকাছেও যাবেন না।

লিপস্টিকের কথা এলে পোশাক ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানাবে এমন রংগুলোই বেছে নিন। লিপস্টিকে মভ পিংক, ব্রাউন, লাইট ব্রাউন, টেরাকোটা, পিচ, কোরাল ইত্যাদি রং কয়েক বছর ধরে ঘুরেফিরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে লিপস্টিক লিকুইড হলেই ভালো। কারণ দীর্ঘ সময় ঠোঁটে থাকবে।

পোশাক বুঝে চুলের সাজ

ঈদের চুলের সাজে খোলা ও বাঁধা দুটি স্টাইলই চলবে। তবে সময় এবং কেমন পোশাক পরছেন তার সঙ্গে চুলের স্টাইলের একটা মেলবন্ধন থাকা দরকার। সালোয়ার-কামিজে এক রকম সাজ তো শাড়িতে আরেক রকম। সকালে একটা স্নিগ্ধ সাজ হলে বিকেলে বা রাতের ঘোরাঘুরিতে বা দাওয়াতে আরো একটু গর্জিয়াস সাজ দরকার।

ঈদের দিন সকালে বাড়িতে থাকলে সাদামাটা পোশাকের সঙ্গে সাদামাটা সাজটাই ভালো। এ সময় চুল বড় হলে একটু ব্লো ড্রাই স্ট্রেট ছেড়ে রাখতে পারেন। যাঁদের একটু ওয়েভি পছন্দ তাঁরা ওয়েভি করে রাখতে পারেন। যাঁরা কার্ল পছন্দ করেন তাঁরা কার্ল করে রাখতে পারেন। ব্লো ড্রাই করলে চুলের সাজ ভালো বোঝা যায়। বিকেলে যখন বাইরে যাচ্ছেন, এ ক্ষেত্রে চুল কার্ল করলে স্মার্ট লুক দিতে পারে। চুল পেঁচিয়ে বা কার্লার দিয়ে মুড়িয়ে কার্ল করা যায়। আবার পুরো চুল কার্ল করে নিজের মতো একটা স্টাইল করে নিতে পারেন। এখন চুলের সাজে বেণির ট্রেন্ড চলছে। আর মেয়েদের পোশাকে গাউন ড্রেস। সে ক্ষেত্রে পুরো চুল কার্ল করে একটা বেণির আউটলুক আনতে পারেন। আর শাড়ি পরলে চুল ছেড়ে দিলে বা হাতখোঁপা করলে মানানসই হবে। কারো হাতখোঁপা পছন্দ না হলে পুরো চুল পেছনে টেনে একটা খোঁপা করা যায়। অথবা চ্যাপটা শেপে একটা খোঁপা করে বেলির মালা জড়িয়ে বা একগুচ্ছ জুঁই খোঁপার এক পাশে গুঁজে দিলে মন্দ লাগবে না।

 

ঈদের জন্য তিন চুলের সাজ

 

ব্লো ড্রাই

খোলা চুলে কার্লি সম্পূর্ণ চুল ব্লো ড্রাই করার পর সাইড সিঁথি করে সামনে বেণির জন্য একগোছা চুল রেখে বাকি চুল ব্যাক ব্রাশ করে আটকে দিন। এবার সামনের চুলের দুই পাশে ফ্রেঞ্চ বেণি করে কানের পেছনে নিয়ে ক্লিপে আটকান। পেছনের চুল কার্ল মেশিন দিয়ে কার্ল করে নিন। যেকোনো ওয়েস্টার্ন পোশাক, বিশেষ করে গাউন কিংবা ফ্লোর টাচ ড্রেসের সঙ্গেও মানাবে।

 

কার্ল খোঁপা

পুরো চুল ভালোভাবে ব্লো ড্রাই করে পেছনের চুল কার্ল মেশিন দিয়ে কার্ল করুন। চুলের নিচের দিক থেকে পেঁচিয়ে কার্ল করুন। কার্ল করার আগে চুলে স্প্রে করুন। দীর্ঘ সময় চুল কার্লি থাকবে। কানের দুই পাশের চুল পেছনে নিয়ে ক্লিপে আটকে নিন। পেঁচিয়ে হাতখোঁপায় এবং শাড়ির সঙ্গে মানানসই হবে।

 

খেজুর বেণি

প্রথমে পুরো চুল হেয়ার ড্রায়ার ও সেটিং ব্রাশ দিয়ে ব্লো ড্রাই করে নিন। তারপর সাইড সিঁথি করে সামনে বেণি করার জন্য চুল রেখে পেছনের চুলগুলোকে ব্যাক করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন, যাতে সামনের দিকে চুল চলে না আসে। সামনের দুই পাশের চুলে ফ্রেঞ্চ বেণি করে কানের দুই পাশ থেকে পেছনে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে আটকান। পেছনে আটকানো চুলের ক্লিপ খুলে ফেলুন। মাথার তালুর ওপরের চুলগুলো হেয়ার ব্রাশ দিয়ে একটু পাফ করে ফুলিয়ে স্প্রে করে সব চুল ব্রাশ করে খেজুর বেণি করে নিন। কুর্তা, ফতুয়া বা টপসের সঙ্গেও ভালো লাগবে।


মন্তব্য