kalerkantho


ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

কিছু মানুষ দেখায় যে সে আসলে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছে।

 

কিছু মানুষ দেখায় যে তার আসলে আপনার সাহায্য দরকার।

 

প্রসঙ্গ ফেসবুক

বউ তার মোবাইল ড্রেসিং টেবিলের ওপর রেখে আমার পাশে এসে বসে বলল, ‘তোমার সঙ্গে খুব গল্প করতে ইচ্ছা করতেছে। ’

তখনই বুঝছি, ‘ফেসবুকের সার্ভার ডাউন। ’

দেব জ্যোতি ভক্ত

 

সেদিন আর বেশি দূরে নেই, যেদিন মা তাঁর রুমবন্দি ছেলেকে খেতে ডাকবে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে—

‘খেতে আয়’ with ‘তোর আব্বা’।

জিনাত জোয়ার্দার রিপা

 

—ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে এক মিনিটে ৫০ পোস্টে লাইক দিয়ে কী বুঝাইলেন?

—দ্যাখ আমার নেটে কত স্পিড।

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

 

ফেসবুক কমেন্টে বংশের পরিচয়।

মারজিয়া আক্তার মিমি

 

 

জামাইয়ের স্ট্যাটাস

জামাই স্ট্যাটাস দিছে, ‘আজ ডানা মেলে উড়ে যাব দূর ওই আকাশে। ’

সেখানে বউয়ের কমেন্ট, ‘ওড়াউড়ি শেষ কইরা মাটিতে নামলে এক কেজি আলু নিয়া বাসায় আইসো। খাওনের কিছু নাই!’

হারুন রশিদ

 

 

ভারতের মানুষ খারাপ, তারা বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাঠাচ্ছে। মিয়ানমারের মানুষ খারাপ, তারা বাংলাদেশে ইয়াবা পাঠাচ্ছে।

শুধু বাংলাদেশের মানুষ ভালো। বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষগুলো পেটের দায়ে ফেনসিডিল-ইয়াবা খাচ্ছে!

অনুপম হোসাইন পূর্ণম

 

 

ভুল

সকাল থেকে ফোনে একের পর এক ‘I love you’ মেসেজ পেয়ে স্বামী ব্যাপক খুশি। হঠাৎ খেয়াল করল, ভুলে বউয়ের মোবাইল নিয়ে আসছে।

অরুপ রতন চৌধুরী

 

 

তখন-এখন

যখন ছাত্র ছিলাম, তখন কোনো রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে মনে বলতাম, চাকরি করি আগে! তারপর ফাটাইয়া খামু!

এখন চাকরি করি, রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে মনে বলি—থাক, বাইরে খেয়ে শুধু শুধু বাজে খরচ করে লাভ কী? বাসায় গিয়ে খাব!

রোহিত হাসান কিসলু

 

প্রতিভা

নিজের একটি টিভি চ্যানেল নেই বলে প্রতিদিন প্রচুর শিল্পীর প্রতিভা মাঠেই মারা যাচ্ছে।

হাফিজ মোল্লা

 

 

পয়সাওয়ালা

যদি দেখো পয়সাওয়ালা, দিয়ে বোন হয়ে যাও শালা।

আল কাছির

 

 

মৌসুমি ব্যবসায়ী

—ছেলে কী করে?

: এমনিতে চাকরিবাকরি করে আর কোরবানের আগের সপ্তাহটা খড়-কুঁড়া বেচে!

—বাহ্, ছেলে তো মৌসুমি ব্যবসায়ী! আমরা রাজি।

আরকানুল ইসলাম

 

 

উপদেশ

উপদেশ : কারো অবস্থা দেখে হাসলে নিজেরও তা-ই হয়!

উপদেশ মেনে : হাহাহা বিল গেটস, হিহি!

সাজেদুল ইসলাম শুভ্র

 

 

ক্যান্ডেল লাইট ডিনার

আগে প্রায়ই বাসায় ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতাম! এখন আর করা হয় না। কারণ এখন আর খাওয়ার টাইমে লোডশেডিং হয় না।

অনামিকা মণ্ডল

 

 

আগে-এখন

আগে হারতে হারতে এক ম্যাচ জিততাম, তখন সেটি হতো অঘটন। আর এখন জিততে জিততে দু-একটা ম্যাচ হারি, এটা মনে হয় অঘটন। চলো টাইগার, চলো বহুদূর।

আবদুর রাজ্জাক সরকার

 

 

বন্ধুর সঙ্গে দেখা

অনেক দিন পর পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা : তুই অনেক দিন বাঁচবি রে!

—কেন? আমার কথাই ভাবতেছিলি নাকি?

—না।

—তাহলে?

শুনেছি, ভালো মানুষ বেশি দিন বাঁচে না।

অনুপম হোসাইন পূর্ণম

 

 

মুখ ধুইলেই

পোলারা মুখ ধুইলেই ফ্রেশ। মেয়েরা মুখ ধুইলেই শেষ।

সিয়াম নাসির

 

 

এটাই বুঝি উচ্চশিক্ষা?

 

 

প্যারোডি ছড়া

ঐ দেখা যায় প্রেমগাছ

ঐ আমাদের আশা

ঐখানেতে প্রেম আছে;

আছে ভালোবাসা।

ও মন তুই চাস কী?

ছেঁকা তুই খাস কি!

ছেঁকা আমি খাই না।

৪২০ love চাই না!

একটা real love যদি পাই

অমনি তারে বিয়ে করতে চাই!

 

পরাগ হাশমি

 

 

আপনি কি জানেন, ডোনাল্ড ডাককে উল্টে দিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়?

 

 

পাত্রী দেখা

আমাকে নিয়ে আসা হয়েছে পাত্রী দেখতে। নিজের জন্য না, মুরব্বি কোটায় এসেছি। আমার সঙ্গে এ রকম আরো চারজন মুরব্বি এসেছেন। আমিই সবচেয়ে ছোট মুরব্বি। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্রিকি প্রশ্ন করে মেয়ে কেমন কালচার্ড এটা বের করা।

আমি খালাকে বললাম—‘খালা, তোমার ছেলে যে হাইলি কালচার্ড তা-ও কিন্তু না। মেয়ে কালচারালি বেশি সাউন্ড হলে কিন্তু তোমার ছেলেরই সমস্যা। ’

‘তোরে বলা হয়েছে মেয়ের যোগ্যতা বিচার করতে, আমার ছেলের না...’

‘ওকে’।

‘পাত্রীর দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই হলো কায়সার হামিদ, চিনস? তুখোড় ফুটবলার। মনে তো হচ্ছে হেভি কালচার্ড ফ্যামিলি তারা। টাইমলি এসে পড়বি সেদিন। ’

‘ওকে। ’

‘ওই, দাঁড়া, কী পরে আসবি। ’

‘কোনো ড্রেস কোড আছে?’

‘অবশ্যই, পাঞ্জাবি পরে আসবি। ’

‘আমার বাটার লেদারের স্যান্ডেল তো ঈদের জামাতে চুরি হয়ে গেছে। স্পঞ্জের স্যান্ডেল অ্যালাউড? বা হাইলি কালচার্ড বোঝানোর জন্য পাঞ্জাবির সঙ্গে কেডস? এক ঢিলে কায়সার হামিদও বুঝল, আমরাও খেলাধুলার বাইরে নেই। ’

খালা খট করে ফোন রেখে দিলেন।

আমরা আড়ংয়ে বসে আছি। মেয়ে দেখতে-শুনতে স্মার্ট। মেয়ের সঙ্গে তার মা-বাবা ছাড়াও দুই মামা এসেছেন। একজন আবার কৃষিতে পিএইচডি। খালা আমাকে ফিসফিস করে বললেন, ‘তুই ট্রিকি প্রশ্ন করে আগে বুঝ তো এই মামা আসলে পিএইচডি নাকি?’

আমি তার থেকেও আস্তে ফিসফিস করে বললাম, ‘আমি তো ফুটবলবিষয়ক প্রশ্ন রেডি করে নিয়ে এসেছি। কায়সার হামিদ না এসে এই শাইখ সিরাজ আসবে, তা তো আগে বলো নাই। যা-ই হোক, ট্রাক্টর, সেচ পাম্প ও ফসল মাড়াই যন্ত্রের নাম জিজ্ঞেস করব? নাকি আরো ট্রিকি কিছু? আড়ংয়ে ভেতরে নেট স্লো, গুগল করে যে কঠিন প্রশ্ন বের করব, তারও স্কোপ নেই। ’

কথা শেষ করার আগেই খালা আমাকে সেই মামার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘মিট মাই ভাতিজা, সেও পিএইচডি। ’

মামা খুশিতে বলে উঠলেন, ‘তো গ্রেট ইয়াংম্যান, কোন সাবজেক্টে? ডোন্ট সে ইটস কৃষি। ’

এমন সময় খালু বলে উঠলেন, ‘বিয়ে মনে হয় মামা আর ভাতিজাই করবে, হা হা হা। ’

বেঁচে গেলাম লাগে।

সঙ্গে সঙ্গে আমি টপিক চেঞ্জ করার জন্য বলে উঠলাম, ‘সবাই কী খাবেন বলেন। এখানের চটপটি খুব ভালো। ’

খেলায় যেমন হাফ টাইম থাকে, তেমনি চটপটি পরিবেশ ছিল হাফ টাইম। চটপটি খেতে খেতে মামা বলে উঠলেন, ‘ইয়াংম্যান, জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারই কিন্তু পুষ্টিসমৃদ্ধ অধিক ফলনশীল চটপটির ছোলা বুট উৎপাদনে সহায়তা করছে। ’

আমি চটপটি চিবাতে চিবাতে বললাম, ‘মামা, কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে লেদা পোকা দমনে লোকাল ফিঙে পাখির ভূমিকাকেও কিন্তু আপনি কোনোভাবেই ইগনর করতে পারেন না। ’

খালা আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন, ‘নেট এসে গেছে!’

আরিফ আর হোসাইন

 

 

 

 

 

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন ghorardim@kalerkantho.com-এই ঠিকানায়


মন্তব্য