kalerkantho

বুদ্ধি

ব্রত রায়

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



(শিবরাম চক্রবর্তীর গল্প অনুসরণে)

 

দু’মাস ধরে আবুল মিয়া বেকার বসে আছে

ঈদ আসে দুঃস্বপ্ন হয়ে আবুল মিয়ার কাছে!

গরু কেনা, শপিংটপিং এবং বাড়ি যাওয়া

কেমন করে সামলাবে? যায় কোথায় টাকা পাওয়া?

অনেক ভেবে আবুল পেল আইডিয়া একখানা

তার পাড়াতেই থাকেন জামাল এবং কামাল নানা।

 

দু’ভাই ভীষণ ধনী এবং খুব পরোপকারী

তার ওপরে বেকুব! গেল আবুল তাদের বাড়ি।

জামাল নানার হাত ধরে কয়, ‘বাঁচাও নানা আমায়’

সঙ্গে জোড়ে কান্নাকাটি, কে আর তাকে থামায়?

সব শুনে দেন জামাল তাকে লক্ষ টাকা ধার

আবুল ভাবে, ঈদটা এবার কাটবে চমত্কার!

 

ঈদের শেষে আবুল মিয়ার মাথায় পড়ে বাজ

ত্রিশ দিনে ধার শুধতে হবে, সেদিনটা যে আজ!

হয়নি টাকার জোগাড়, আবুল কী আর করে বলো?

কামাল নানার সামনে করে চক্ষু ছলছল!

কামাল মিয়ার কাছ থেকে নেয় লক্ষ টাকা আর

সেই টাকাতেই শোধ করে দেয় জামাল মিয়ার ধার!

 

পরের মাসেও ব্যাপার একই! ফের জামালের দ্বারে-

হাত পাতে সে। নইলে কি আর কামাল মিয়া ছাড়ে?

কোন্ ঝামেলায় ফাঁসল আবুল! এ কোন্ অমানিশা?

অনেক ভেবে পথের শেষে পায় সে আলোর দিশা!

জামালকে কয়, ‘প্রথম মাসে কামাল নানার হাতে

লক্ষ টাকা দেবে তুমি। ভুল কোরো না তাতে!

 

কামাল নানা, পরের মাসে ফেরত দেবে টাকা

উচিত না তো জানোই কারো কর্জ বাকি রাখা!’

এই তরিকায় গিট্টু লাগায় দুইটি ভাইয়ের মাঝে

আবুল মিয়ার বুদ্ধিটা জোশ পাচ্ছি প্রমাণ কাজে!

এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোকে ঋণখেলাপির দল -

খাচ্ছে চুষে! কুবুদ্ধিটাই ওদের যে সম্বল!


মন্তব্য