kalerkantho


টু ফোর ফোর, ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন

পলাশ মাহবুব

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



টু ফোর ফোর, ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন

ফেসবুক আর ন্যাশনাল আইডি কার্ডের মধ্যে একটা মিল আছে। ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ছবি দেখে যেমন মানুষ চেনার উপায় নেই, তেমনি ফেসবুকের নামের অবস্থাও তা-ই। অদ্ভুত অদ্ভুত নামের সব আইডি। আমাকে ব্যবহার করুন, জানালার জয়নব, হাফ পেগ পরাগ, খুচরা জীবন, উঠতি মাস্তান, ওপারের দাদা—আরো কী সব নাম।

নাম রাখতে যেহেতু আকিকা দিতে হয় না কিংবা মা-বাবার অনুমতিরও প্রয়োজন নেই, সুতরাং ফেসবুকে নামের ক্ষেত্রে সবাই স্বাধীন। একই অবস্থা বদনামের বেলায়ও। ফেসবুক হচ্ছে নাম আর বদনামের অবাধ চর্চাকেন্দ্র। তবে আমরা নাম নিয়েই আলোচনা করতে চাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, নাম নিতে গেলেই বদনামের প্রসঙ্গ চলে আসবে। কারণ এখানে নামের সঙ্গেই বদনাম জড়িত। শুধু অদ্ভুতুড়ে নামের কারণে অনেককে অ্যাড করা হয় না বা যায় না। আর আপনি যখন কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করবেন না, তখনই শুরু হবে বদনাম।

কয়েক দিন আগে অদ্ভুত এক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এলো। আইডিতে কোনো নাম নেই। নামের জায়গায় লেখা ‘টু ফোর ফোর, ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন’। দেখে একটু ধন্দে পড়লাম। এ আবার কেমন আইডি!

ইনবক্সে নক করে জানতে চাইলাম, আপনার নাম কোথায়?

ওপাশ থেকে উত্তর এলো—নামে কী বা আসে যায়!

যায় কি না জানি না, তবে আসে, ভরসা আসে। দয়া করে নাম বলেন। না হলে একসেপ্ট করা যাবে না।

অপর প্রান্তে যিনি আছেন, তিনি রহস্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

নাম তো আছেই। বুঝে নেন। হি হি হি।

বুঝে নেব! কিভাবে? আমি তো কিছু নম্বরই দেখতে পাচ্ছি শুধু। এখানে নাম কোথায়?

হি হি হি। আছে। হি হি হি। মাথা খাটান। নম্বরের মধ্যেই নাম লুকিয়ে আছে। দেখি তো খুঁজে পান কি না।

লুকিয়ে আছে মানে! ফেসবুক কি লুকোচুরি খেলার জায়গা? এটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

তো কী হইছে! আমার নামটাও সামাজিক। মাথা খাটালেই বুঝতে পারবেন।

আমি মাথা খাটাই। কিন্তু কূল-কিনারা পাই না। শেষে বিরক্ত হয়ে বললাম, আপনার নম্বরে তো একটা ডিজিট বেশি। এটা কি ফিগারের নম্বর নাকি রোল নম্বর?

অপর প্রান্ত থেকে এবার রাগের ইমো।

আজ্জব! এটা ফোন নম্বর। মাথা খাটালেই আমার নাম পেয়ে যাবেন।

আমি আবারও মাথা খাটাই। এবার মাথায় হাত দিয়ে। নম্বরটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বোঝার চেষ্টা করি এবং একপর্যায়ে বুঝেও ফেলি।

টু ফোর ফোর, ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন। কোথায় যেন শুনেছি। ইয়েস...বেলা বোস। আপনি বেলা বোস?

অপর প্রান্ত থেকে উত্তর আসে—হি হি হি। এবার একসেপ্ট করেন।

আমি আর সাড়াশব্দ করি না। আস্তে করে বেরিয়ে আসি। বেলা বোস অঞ্জন দত্তেরই থাক।

গানের বেলা বোস যেতে না যেতে কয়েক দিন পর অদ্ভুত নামের আরেকজন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন। এবারের জন খুব সম্ভবত সিনেমার। প্রোফাইল নাম ‘সার্টিফায়েড সালমান’। নিজেকেই নিজে সার্টিফায়েড করেছেন। আত্মবিশ্বাসী মানুষ।

এ ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলে খুব মজা পাই।

ইনবক্সে ঢুকে জিজ্ঞেস করলাম, বিএসটিআই কি এখন মানুষও সার্টিফাই করছে?

ওপাশ থেকে উত্তর এলো—ইয়া...ইয়া...

গুড। তা আপনার মেয়াদ ঠিকঠাক আছে তো? নাকি মেয়াদোত্তীর্ণ।

ও। ইয়া...ইয়া...(সঙ্গে হাসির সিম্বল আছে)।

বুঝলাম, প্রশ্ন না বুঝেই উত্তর দিচ্ছে। সম্ভবত ইয়া শব্দটা নতুন শিখেছে। তাই বারবার ইয়া ইয়া করছে।

‘ইয়া’ তরিকার জবাব দিতে আমি ‘ইয়ো’ তরিকা ধরলাম।

ইয়ো ব্রো, নাইস নেইম, সার্টিফায়েড সালমান। তো সিলটা কোথায় মেরেছে? শোরুমে না গোডাউনে?

হোয়াট, সিল মারছে? সো ফানি!

ওমা, আপনি সার্টিফায়েড জিনিস। আর সব সার্টিফায়েড জিনিসেই সিল মারা থাকে। আপনার সিলের সেলফি তুলে পাঠান।

হোয়াই?

দেখি, কারা আপনাকে সার্টিফাই করল। সিল জেনুইন হলে রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করব। জেনুইন সিল ছাড়া ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করি না।

ওপাশ থেকে উত্তর আসে—লোল।

লোল! এরা আবার কবে থেকে সিল মারা শুরু করল? নতুন নাকি?

ওহ, নো ব্রো! লোল মিনস হাসি। (আবারও হাসির সিম্বল, এবার দুটি)।

লোল মিনস হাসি? আমি তো জানতাম স্মাইল মানে হাসি।

ইয়া, ইউ আর রাইট ব্রো! স্মাইল মিনস হাসি অ্যান্ড লোল মিনস ভ্যাটকাইন্না হাসি।

সার্টিফায়েড সালমানকে একটা ভ্যাটকাইন্না হাসি উপহার দিয়ে বললাম, তাহলে আসি।

হোয়াট আসি! আমাকে অ্যাড করবেন না, ব্রো?

না।

হোয়াই? কেন?

আগে সঠিক উপায়ে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত হয়ে আসেন। এলাকার কমিশনার হলেও চলবে। সিল, ছবি জেনুইন হলে ভেবে দেখব।

ওপাশ থেকে উত্তর আসে, লোল।

আমি জবাব দিলাম, পড়তে থাকুক...

লোলের পড়ার কয়েক দিন পরে এলো ‘রোল’।

আবার সেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট।

নাম—নেগেটিভ রোল।

ইনবক্সে নক করে জানতে চাইলাম—আপনি কোন দোকানের ভাই? দেশি না বিদেশি?

মানে!

মানে জানতে চাচ্ছি, কোন ফাস্ট ফুডের রোল? চিকেন না বিফ রোল? নাকি কাকরোল?

লোল। লোল। ওই রোল না, ভাই। আমি এফডিসির রোল।

ও! থার্টিফাইভ মিলিমিটারের রোল? ওটা তো এখন আর চলে না। সব ডিজিটাল হয়ে গেছে।

আরে না রে ভাই। আমি নেগেটিভ ক্যারেক্টার।

সেটা তো ছবি দেখেই বুঝছি। তা, নায়ক কি বেশি মারধর করছে?

মারছে মানে!

না, মানে মাথায় ব্যান্ডেজ রোল করা ছবি দিছেন তো, তাই।

এর কিছুক্ষণ পরে ব্যান্ডেজও নাই, ছবিও নাই। ওয়াশ করার আগেই নেগেটিভ হাওয়া।


মন্তব্য