kalerkantho

বাঁশি

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

১০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাবু সাবু জনি আর জালাল—ওরা দোস্ত,

খেল বসে ভর পেট ভাত মাছ গোস্ত,

ডালখাসি কালাভুনা কোরমা ও রেজালা,

গোটা গোটা পাবদাও—ইয়া বড়ো লেজআলা।

দোলমা কি চচ্চরি, ভর্তা কি ঘণ্ট,

সব খেল। বোরহানি গিলল আকণ্ঠ।

ধনেপাতা মুলা শসা গাজরের সালাদও,

খেয়ে বলে, ‘দই আন্, ভালো করে থালা ধো।’

 

বিল নিয়ে ওয়েটার এলো যেই টেবিলে,

কেউ পড়ে দেখল না লেখা কত সে বিলে,

শোরগোল শুরু করে দিল ওরা চাট্টায়,

আশপাশে যারা ছিল মজে গেল ঠাট্টায়।

 

ম্যানেজার উঠে এলো, থামাল সে ধমকে

আগাগোড়া ঘটনা সে শুনে গেল চমকে।

জনি বলে, ‘আমি দেব।’ বাবু বলে, ‘আমি রে,

বিল নিয়ে চলবে না কোনো ফাজলামি রে।’

সাবু বলে, ‘নখ দিয়ে চোখ দেব খুঁচিয়ে।’

জালাল উঠে বলে, ‘বটে’ তর্জনী উঁচিয়ে,

‘ওই দূরে বটগাছ—দেখেছিস্ কী দারুণ!

ছায়া দেয় এ বাজারে রোদে তাপে নিদারুণ।

আসবে যে আগে ওই গাছ ছুঁয়ে বাজারের,

সেই এসে বিল দেবে সাড়ে সাত হাজারের।’

ম্যানেজারও সায় দিল এই পরামর্শে,

কোত্থেকে বাঁশি এক আনে অতঃপর সে।

 

চারজনই প্রস্তুত ফুঁক দিয়ে বক্ষে,

দৌড় দেবে কষে এক বিল-পে-র লক্ষ্যে।

যেই কিনা ম্যানেজার ফুঁক দিল বাঁশিতে,

চারিদিক কেঁপে ওঠে হো-হো হো-হো হাসিতে।

বেঁটে বাবু সরু সাবু মোটা জনি, জালালও,

দৌড় দিয়ে চারজন চারদিকে পালাল।


মন্তব্য