kalerkantho

বীমা

ফারজানা নিপা

১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



বীমা

মকবুল সাহেব আর তাঁর স্ত্রী নিজেদের গ্রামের বাড়িতে অনেক কষ্টে একটি খামার গড়ে তুলেছেন। দুধেল গাই কিনেছেন, কয়েকটি ছাগল কিনেছেন, এ ছাড়া দিয়েছেন হাঁস-মুরগির একটি ফার্ম। গরু-ছাগলের জন্য পশুখাদ্যের যাতে অভাব না হয় সে জন্য বিশাল একটি খড়ের গাদাও তৈরি করেছেন। বেশ কিছুদিন ভালোয় ভালোয় চলল। তার পরই একদিন ঘটল অঘটন। কিভাবে যেন খড়ের গাদায় আগুন লাগল। তড়িঘড়ি করে ফায়ার ব্রিগেডে খবর দিলেন মকবুল সাহেব; কিন্তু তারা আসতে আসতে পুরো খড়ের গাদা পুড়ে ছাই। ভাগ্য ভালো, খড়ের গাদার জন্য দুই লাখ টাকার একটি বীমা করে রেখেছিলেন তাঁরা! মকবুল সাহেবের স্ত্রী বীমা কম্পানিতে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানালেন। তারপর বললেন, ‘তাড়াতাড়ি আমাদের দুই লাখ টাকা দিয়ে যান, যাতে আবার খড়ের গাদাটা তৈরি করতে পারি।’

‘কিন্তু আমরা তো আপনাকে টাকা দেব না, ম্যাডাম।’ ফোনের ওপার থেকে বীমা কম্পানির লোকটি বলল।

‘কেন?’

‘আমাদের সিস্টেমটা অন্য রকম। আমরা টাকা দেব না, বরং নিজেরাই দুই লাখ টাকা দিয়ে ঠিক আগেরটার মতোই একটা খড়ের গাদা তৈরি করে দেব।’

‘ও, আপনারা টাকা দেন না, যা নষ্ট হয়েছে সে রকম আরেকটা দেন?’ মিসেস মকবুল বললেন, ‘সে ক্ষেত্রে আমার স্বামীর জন্য আপনাদের কম্পানিতে যে জীবন বীমাটি করেছিলাম সেটি বন্ধ করে দিতে চাই।’


মন্তব্য