kalerkantho


ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

ছাত্রী

 

মাসখানেক আগে ক্লাস সিক্সের এক মেয়েকে পড়াতে শুরু করেছিলাম। গতকাল তাকে পড়াতে গিয়ে দেখলাম, বেশ সেজেগুজে আছে! বললাম, ‘তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে!’

সে মুখ বাঁকা করে বলল, ‘আপনার কী মনে হয়, স্যার! আমি এখনো খালি আছি!’

মো. নাদিম মিয়া

 

মেনশন

এই প্রথম ফুডব্যাংকের কোনো পোস্টে কোনো মেয়ে মেনশন করল। তারে বললাম, চলেন তাইলে খায়াসি!

সে বলল—সরি ভাইয়া, অন্য তানভীরকে করতে গিয়ে আপনাকে করে ফেলেছি!

তানভীর মেহেদী

 

বিয়া

ছোট ভাই : ভাই, বিয়া করেন!

আমি : মাথা খারাপ, না খাইয়া মরুম নাকি!

ছোট ভাই : কেন?

আমি : ডায়েটের নামে যেই অত্যাচার চালাইব, বিয়ের পরে সেইটা আমি নিতে পারুম না।

পিকলু চৌধুরী

 

ভদ্রতা

কেউ ও ষড়াব ুড়ঁ বললে, উত্তরে ও ষড়াব ুড়ঁ ঃড়ড় বলাটাও যে এক ধরনের ভদ্রতা! যেটা মেয়েদের মধ্যে নেই।

ওয়ালিউল্লাহ

 

ভুঁড়ি

মনডা চায় ভুঁড়িকে ঘুষ দিয়ে বলি, আর বাড়িস না!

সোহানূর রহমান অনন্ত

 

প্যারোডি

সাকসেস হ্যাজ মেনি ফাদারস,

ফেইলিওর ইজ অ্যান অরফ্যান।

 

সুসময়ে অনেকেরই বন্ধু বটে হয়,

অসময়ে হায় হায়, কেউ কারো নয়।

ইয়াসিন রেজা

 

 

টেনশন

টেনশনে ঘুম আসতেছে না। অনেকক্ষণ ভাইবাভুইবা টেনশনের কারণ খুঁইজা পাইলাম। কাল এসএসসির রেজাল্ট। টেনশন তো হইবই। এর মধ্যে আবার আমার রোল-রেজিস্ট্রেশন নাম্বার মনে পড়তেছে না। কী টেনশনের কথা! আরেকটু ভাবাভাবির পর মনে পড়ল, আমি পরীক্ষাই দেই নাই। মহা চিন্তায় পইড়া গেলাম। পরীক্ষা দেই নাই? তাইলে আমি সারা রাত টেনশন করমু কী নিয়া?

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

 

প্রশ্ন

রাস্তায় এক মোটরসাইকেলচালককে আরেক মোটরসাইকেলচালকের প্রশ্ন—কী ভাইয়া, পেছনেরটা ভাবি, নাকি তুমি পাঠাও?

ইশতিয়াক আহমেদ

 

 

মামা

চাঁদকে আমরা মামা ডাকি, খালা না। তাই চাঁদের সঙ্গে তুলনা করলে পুরুষকেই করা উচিত।

রিয়াজ আহমেদ সজল

 

অলস

পৃথিবীতে অলস বলে কিছু নেই। সবই মিডিয়ার সৃষ্টি। আমরা যাদের অলস বলি, এরা আসলে পাওয়ার সেভিং মুডে আছেন।

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন

 

 

এক্সকিউজ মি

ছোটবেলায় একবার কক্সবাজার ট্যুরে গেলাম। অনেক সময় বিদেশি পর্যটকেরও দেখা মেলে। আব্বু শিখিয়ে দিল, কারো জন্য যদি তোমার যাওয়া-আসায় সমস্যা হয়, তবে মিষ্টি করে বলবা—‘এক্সকিউজ মি’, তাহলেই দেখবা পথ ছেড়ে দেবে।

আমিও শিখে ফেললাম, ‘এক্সকিউজ মি’ মানে ‘সরে দাঁড়ান, ডিস্টার্ব হচ্ছে!’

এরপর সৈকতে এক জায়গায় ছবি তুলব। দুজন ফরেনারের জন্য পেছনে সূর্য আনা যাচ্ছে না। এগিয়ে গিয়ে বললাম, ‘এক্সকিউজ মি’! ওনারা কৌতূহলী চোখে তাকান। বলেন—‘ইয়েস, প্লিজ’! আমি আবারও আবেগ ঢেলে দিয়ে বলি, ‘এক্সকিউজ মি’ (সরে দাঁড়ান)। কিন্তু তারা তো আর সরে না!

আমার ধারণা হলো, লোকগুলো মনে হয় ভালো ইংরেজি জানে না, ‘এক্সকিউজ মি’র মতো কঠিন শব্দগুলো এখনো শিখে উঠতে পারেনি।

অনুপম হোসাইন পূর্ণম

 

 

নাম

কিছুদিন আগে একটি স্টিল কম্পানির বিজ্ঞাপনের কপি লিখেছিলাম। তো সেই কপিটা ভালো লাগায় একজন যোগাযোগ করলেন। তাঁরা একটি নতুন ব্র্যান্ডের স্টিল কম্পানি করবেন। কী নাম দেওয়া যায়, সে জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ভাই, শক্তপোক্ত একটা নাম লাগবে।

কিসের?

স্টিলের। ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্টিল করব আমরা। বিদেশেও রপ্তানি হবে। আপনি একটা ওয়ার্ল্ড ক্লাস নাম দেন।

অনেকক্ষণ ভেবে আমি বললাম, নাম রাখেন ‘মার্গারেট স্টিল’।

আগত ভদ্রলোক চোখ কপালে তুললেন।

মার্গারেট স্টিল! এইটা কেমন নাম!

এটাই তো জুতসই নাম। মার্গারেট থ্যাচারের নাম শোনেননি?

শুনছি তো, লৌহ মানবী।

হুমম। আপনাদের স্টিল যেহেতু বিদেশেও রপ্তানি হবে, তাই এই নামটাই পারফেক্ট।

আমার কথা শুনে আগত ভদ্রলোক দাঁত-মুখ খিঁচে লৌহ মানবের রূপ ধারণ করলেন।

পলাশ মাহবুব

 

 

‘দেখ, কেমুন লাগে’

ঢাকার একটি নামকরা বিউটি পার্লার। চারদিকে বেশ নামডাক আছে। সেখানে কাজ করা মেয়েগুলোর সুনাম বেশ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এ পেশায় সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী। তিনি সবাইকে নিজের হাতে কাজ শিখিয়েছেন! এখন খুব একটা সময় দিতে পারেন না।

বিয়ের মৌসুম। উত্তরার ধনী ঘরের শ্যামলা মেয়ে সুমি তার অনেক কাছের। বলতে গেলে নিজের মেয়ের মতো। সুমিকে নিজ হাতেই সাজালেন মালিক আপা।

কনে দেখা, বিয়ে, বউভাত—সব কিছুতে নিজ হাতেই সাজিয়েছেন তিনি সুমিকে। নিজের কাজে নিজেরই গর্ব হয়েছে তাঁর।

বউভাতের পরের দিন সকালবেলা। নবপরিণীতা বধূ সুমির বুইড়া বর (অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টধারী-এনআরবি=নন-রেসিডেনস বাংলাদেশি) এসে হাজির মালিক আপার কাছে। হাতে একটি আইফোন ৭ প্লাসের বক্স। চকচকে, সিল্ডপ্যাক।

সুমির বুইড়া বর কয়, ‘এটি আপনার জন্য।’ বলেই লাজুক হাসি হেসে চলে যায়।

আপা মুগ্ধ। নিজের কাজের এহেন পুরস্কার কেউ দেয়নি আজ অবধি। মুচকি মুচকি তৃপ্তির হাসি হেসে প্যাকেট খুলতে লাগলেন। খুলেই চমকে গেলেন। রীতিমতো আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তাঁর। দেখলেন, একটা নোকিয়া ১১০০, সঙ্গে চিরকুটে লেখা—‘দেখ, কেমুন লাগে।’ তুই আটা-ময়দা মাইখ্যা আমারে বুইড়া বয়সে যা দিছস, এইডা তারই প্রতিদান।

পল এলড্রিন অসি

 

বস

বস চা খাবেন। অর্ডার দিলেন। বেয়ারা চা নিয়ে এলো। বস হঠাৎ খেপে গেলেন, ‘আমি কি দুধ চায়ের কথা বলেছি?’

‘লিকার চায়ের কথাও তো বলেননি’—কথাটা গলা পর্যন্ত এলেও আর বের করল না বেয়ারা। বসের কথা বলে কথা। আবার চা এনে বসের সামনে দিল।

‘আমি কি টি-প্যাক দিতে বলেছি?’

‘সরাসরি লিকার দিয়ে চা বানানোর কথাও তো বলেনননি’—বেয়ারার মনের কথা মনেই রইল।

সে নতুন করে চা বানিয়ে নিয়ে এলো। এবারও বস খেপে গেল, ‘আমি কি মগে করে চা আনতে বলেছি?’

‘চায়ের কাপের কথাও তো বলেননি’—এবারও কথাটা গিলে খেল বেয়ারা।

আবার চা এনে দিল। এক মুখ দিয়ে আবারও খেঁকিয়ে উঠলেন ‘আমি কি চায়ে চিনি দিতে বলেছি?’

‘চিনি ছাড়া খাবেন তা-ও তো বলেননি’—বেয়ারা এবারের মতোও নিশ্চুপ!

আবারও নতুন করে চা বানিয়ে আনলো কর্মচারীটি।

বস এবার কাপের চা তার গোল্ডফিশের অ্যাকুয়ারিয়ামে ঢেলে দিলেন। সাদা পানিতে চায়ের খয়েরি রং ধীরে ধীরে একাকার হয়ে গেল! গোল্ডফিশগুলো কাঁচা চা-পাতিগুলোকে খুটে খুটে দেখছিল। বসের মুখে এবার হাসি স্ফিত হলো। চায়ের রঙে পানির রংটাও কিছুটা সোনালি রং ধারণ করেছে। সেই রঙের পানিতে সোনালি গোল্ডফিশগুলো বেশ সাঁতরে বেড়াচ্ছে।

কর্মচারীটি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার বস চিনিসহ গুঁড়া দুধের চা খান। কখনো বা টি-ব্যাগের রং চা-ও খান এবং অবশ্যই তা মগে করে। কর্মচারীটি তার বসের এই মাছকে চা খাওয়ানোর অদ্ভুত শখটির কথাও জানত। বসের মাছেরা কাঁচা পাতির চা খায়! অবশ্যই চিনি ছাড়া। আর তাদের চায়ের কাপে চা না দিলে তারা নাকি হেভভি মাইন্ড করে। বস সরাসরি ‘মাছের জন্য চা নিয়ে এসো’ বলে দিলেই পারতেন, কিন্তু তিনি তা বলবেন না।

আসলে বসেরা এমনই। এমন না করলে আর কিসের বস!

সাইফুল ইসলাম জুয়েল

 

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন ghorardim@kalerkantho.com-এই ঠিকানায়


মন্তব্য