kalerkantho


বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ কলাম

হারার আগেই হারিস না, মমিন

১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



হারার আগেই হারিস না, মমিন

প্রথমে একটা ছোট ঘটনা দিয়াই শুরু করি। ওই যে গতবারই বলছিলাম না, খেলার সঙ্গেই আছে ধুলা। এই সব সেই ধুলা আর কি। আমাদের স্কুলে একটা পোলা আছিল, নাম হইলো রফিক। রফিকের মামা ছিল এলাকার মেম্বার। এলাকায় অনেক ক্ষমতাবান লোক ছিল এই রফিকের মামা। সেই জোরেই সব কিছু সহজে উতরে যাইত রফিক মিয়া। একবার ক্লাস ফাইভের অঙ্কে পাইছিল বিরানব্বই! খবর শুইনা আমাদের আরেক বন্ধু পুকুরে গেছিল পইড়া। যে পোলারে একবার ক্লাসে জিজ্ঞেস করা হইছিল, ‘কোনো কাজ তিনজন পুরুষ আর দুইজন মহিলা মিলে সাত দিনে করতে পারে, সেই কাজ তিনজন মহিলা কয় দিনে করবে?’

সে উত্তর দিছিল, ‘আমাদের কাজ-কারবার সব তালেব চাচা দেখে। ওনারে জিগান।’

সেই রফিক পাইছে অঙ্কে বিরানব্বই। পরে খবর শুনি, রফিকের মামার জোরেই প্রশ্ন পরীক্ষার সাত দিন আগে রফিকের কাছে চইলা আসে। সেই রফিক বিয়া করে আমাদের এলাকার সবচেয়ে সুন্দরী জরিনারে। মামার জোরে থাইকা থাইকা রফিকের সাহস আর আত্মবিশ্বাসও যায় বাইড়া। আমরা যখন ছাগলের বাচ্চার মতো ব্যা ব্যা করি, তখন রফিক ঘো ঘো শব্দে বাইক নিয়া চালের আড়ত ঘোরে। সব মামার জোর। খুঁটি শক্ত তো সব শক্ত। কেন কইলাম এই হিস্টোরি?

পুতিন মামার রাশিয়ার কারবারটা দেখছেন? স্পেনের টিকিটাকা ভালোমতো গোল দিছে। যাও, আবার বাসায় বইসা টিকিটাকা করো।

আমাদের এলাকায় শোকের ছায়া। বিদায় নিসে আর্জেন্টিনা। এলাকার পোলাপাইন, যারা ব্রাজিলের সাপোর্টার, তারা মিছিল বাইর কইরা ফেলছে। স্লোগান এই রকম—‘আর জিতিনা কেলা পারে না!’। পুরা আকাশটাই নাকি আর্জেন্টিনার পতাকা। সেই আকাশে এখন আষাঢ় মাসের কালো মেঘ। পুতিন মামার কাছে ধরা খাইয়া বিদায় নিসে স্পেইন, আগেই কইসি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো মিয়ার পর্তুগালও ঘরে গেসে। সবার নাকি একটা খায়েশ আছিল, মেসি আর রোনালডোর দেখা হইব। এদের নাকি দেখা হইসে, এয়ারপোর্টের টয়লেটে।

আমাদের এলাকার চায়ের দোকানে লাইগা গেসে ধুন্দুমার কাণ্ড। এক পোলা বইলা বসছে, ‘এইবার বিশ্বকাপ জোয়ান পোলা গো বিশ্বকাপ। জার্মানি নাকি রিজার্ভ বেঞ্চে সব ইয়াং পোলা রাইখা মাঠে নামাইসে বুড়া দল। আর্জেন্টিনার মাসচেরানো, মেসি সব বুইড়া। তরুণ দল নিয়া যারা খেলতেসে তারা ফাল মাইরা মাইরা উপ্রে উইঠা যাইতেসে।’

সেই চায়ের দোকানে তখন আছিল এলাকার মুরব্বি তালেব চাচা। এই কথা শুইনা উনি বলে, ‘বেয়াদবের মতো কথা কইতেসো ক্যান, তুমি?’

সেই পোলা বইলা বসছে, ‘আপনাদের বুইড়াদের এই এক সমস্যা। খালি বেয়াদবি ধরেন!’

এরপর আর কি। আমারে যাইয়া থামাইতে হইলো। কথা কিন্তু খারাপ কয় নাই সেই পোলা। ছোট নেইমার কেমন ডিগবাজি খাইয়া খাইয়া দলরে পার করাই ফেলল। মেক্সিকো যেদিন ব্রাজিলের কাছে হারল, তখন এলাকার আর্জেন্টিনার সমর্থকরা বলা শুরু করল, ‘আগেই কইসিলাম অঘটনের বিশ্বকাপ!’

এই শুনে ব্রাজিলের পোলাপাইন পারলে লাঠি নিয়া নাইমা পড়ে। এরপর আর কি। আমারে যাইয়া থামাইতে হইলো।   

আবার জাপান বিদায় নিসে বেলজিয়ামের কাছে। ম্যাচটা দেইখা আমাদের এক বড় ভাইয়ের কথা মনে পইড়া গেসে। উনি একবার কইসিল, ‘হারার আগেই হারিস না, মমিন।’ বেলজিয়ামও সেইটাই করসে। আগে দুইটা খাইয়াও হাল ছাড়ে নাই। তবে জাপানিরা লোক ভালো। প্রতিবার ম্যাচ শেষে নিজেদের হাতে স্টেডিয়াম পরিষ্কার কইরা তারপর গেসে। অন্য কেউ এইভাবে হারলে চেয়ার-টেয়ার দুই-একটা ভাইঙ্গা যাইত। আমার দাদি খবর শুইনা কয়, ‘জাপানের পান খাইতে মন চায় রে, বাজান!’ কারে আমি কী বুঝামু, কন।

এই লেখা যখন আপনাগো হাতে, তখন খেলা শেষ হইয়া যাইব। রেজাল্ট মিলায় দেইখেন। আর উত্তেজনার বশে ঝগড়ায় জড়াইয়া পইড়েন না।

 

মো. সাখাওয়াত হোসেন



মন্তব্য