kalerkantho

টাইগার লজ

শিমুল খালেদ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



টাইগার লজ

খোলা পরিবেশে বিচরণরত বাঘের সামনাসামনি হওয়ার কথা শুনলে সাহসী মানুষেরও পিলে চমকে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাঘের একেবারে কাছাকাছি থাকা এবং গুরুগম্ভীর হুংকার শোনার পরও স্বাভাবিক থাকতে চাইলে যেতে পারেন ব্রিটিশ মুল্লুকের ক্যান্টে।

সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পোর্ট লিম্প রিজার্ভ টাইগার লজ। প্রায় ৬০০ একর আয়তনের সাফারি পার্কটিতে মুক্ত পরিবেশে বাঘ বিচরণ করে।
পার্কটির বিশেষ খ্যাতির কারণ, সেখানে আপনি চাইলে বাঘের কাছাকাছি থাকতে এমনকি পুরো রাতও কাটিয়ে দিতে পারবেন। কিভাবে? পার্কটির ভেতরে রোমাঞ্চপ্রিয়দের থাকার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে রেস্টহাউস ধরনের বাড়ি। এর ঘরগুলোর বাইরে ঘুরে বেড়ায় বাঘ। জানালার পর্দা সরালেই হয়তো দেখা যাবে, বাঘ কাচের শার্সির ওপাশ থেকে আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে! পোর্ট লিম্পতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ডেইলি মেইলের সাংবাদিক জেনে ফ্রায়ার।

রোমাঞ্চকর রাত কাটিয়ে তিনি তো পুলকিত! ঘুম ভাঙার পর তার পা থেকে কিছুটা দূরেই জানালার ওপাশে দেখতে পান একটি বাঘ বসে লেজ নাড়াচ্ছে। মনে হয়েছিল বাঘটি লাফিয়ে এসে এই বুঝি তার পা ধরে টান দেয়! দরজা খোলার পর কিছুটা দূরেই দেখতে পান দুটি বাঘ। একটা গর্জন করতে করতে ধারালো দাঁতের সারি দেখাচ্ছে। আর অন্যটি বাতাসে পা ছুড়ে-মুচড়িয়ে যেন দেখাচ্ছে তার পেশিবহুল শরীর। সাফারি পার্কটির গেস্টহাউস কেবিনগুলো দুই বেডরুমের। সঙ্গে আছে মুখরোচক খাবারের রেস্তোরাঁ আর দক্ষ রেস্টুরেন্টকর্মী। পার্কটির দেখভালের দায়িত্বে আছে অসপিনাল ফাউন্ডেশন। সাইবেরিয়ান টাইগার প্রজাতির বাঘেরা মুক্ত প্রকৃতিতে কমতে কমতে একসময় পাঁচ শর নিচে চলে আসে। আর তখনই মানুষের টনক নড়ে। অসপিনাল ফাউন্ডেশন এই বাঘ প্রজাতিটিকে রক্ষার উদ্যোগে শামিল হয়।

পোর্ট লিম্পতে গড়ে ওঠা বাঘের আড্ডাখানা তাদের সেই সুন্দর প্রচেষ্টারই ফল। সাফারি পার্কের মুক্ত পরিবেশে বিচরণের পাশাপাশি ওখানে বাঘদের সংখ্যা বৃদ্ধিরও চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু বাঘ নয়, সাফারি পার্কটিতে বিভিন্ন জাতের প্রায় আড়াই শ বন্য প্রাণী মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে আছে জিরাফ, জলার মহিষ, গণ্ডার, বাইসন, জেব্রা প্রভৃতি। পোর্ট লিম্প রিজার্ভ টাইগার লজের কেবিনগুলো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে পর্যটকদের মনে হয় আফ্রিকার কোনো সাফারি পার্কে বসে আছেন! আর বিলাস বহুল রেস্টহাউসগুলোতে এক রাতের বাসিন্দা হতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ৪৫০ পাউন্ড বা প্রায় ৪৭ হাজার টাকা।


মন্তব্য