kalerkantho


বিচিত্রা

চুলগুলো বড় অবাধ্য

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০




চুলগুলো বড় অবাধ্য

বিরল এক রোগে আক্রান্তদের চুলগুলোই এমন হয় যে সেগুলো কোনোভাবেই আঁচড়ানো যায় না। এই রোগটির নামই তাই দেওয়া হয়েছে ‘আনকম্বেবল হেয়ার সিনড্রোম’।

মানে ‘চুল আঁচড়াতে না পারার রোগ’। এই রোগে আক্রান্তদের চুলগুলোর একেকটা একেক দিকে মুখ করে বের হয়।

জানামতে, গোটা পৃথিবীতে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা শখানেক হবে। তাদেরই একজন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের অধিবাসী, সাত বছরের শিলাহ ইন। ওর এই রোগ ছোটবেলা থেকেই। যখন বয়স মাত্র তিন মাস, কেবল চুল উঠছে, তখনই ওর মা-বাবা খেয়াল করেন, তাঁদের মেয়ের চুলগুলো একটু অন্য রকম। আর বয়স চার বছর হতে না-হতেই তারা টের পান, শিলাহর চুল আঁচড়ানো এক কথায় অসম্ভব। প্রথম প্রথম ব্যাপারটি নিয়ে শিলাহ বেশ মন খারাপই করত। কিন্তু পরে সবাই মিলে ওকে বোঝায়, ওর এই চুলগুলো খারাপ নয়; বরং ‘স্পেশাল’।

আর এই স্পেশাল চুলের স্পেশাল যত্নও নিতে হয়। প্রতিদিন সকালে মা ওর চুলে জট ছাড়ানোর স্প্রে করেন। তারপর মিনিট বিশেক ধরে ফাঁকা ফাঁকা দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরেসুস্থে চুল আঁচড়ে দেন। আর শেষ দায়িত্বটুকু ওর বাবার, হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকানো।

তখনো অবশ্য শিলাহর মা-বাবা জানতেন না যে এটি একটি রোগ। জেনেছেন তারও বছর দুই পরে। এখন তারা শুধু তাঁর মেয়ের চুলের যত্নই নেন না; বরং সবাইকে এই রোগের ব্যাপারে জানাতেও সচেষ্ট হয়েছেন। রোগটি মূলত জেনেটিক্যাল, বংশানুক্রমে ছড়ায়। মা-বাবার চুলসংশ্লিষ্ট জিনের কারণেই শিলাহর এই রোগ হয়েছে। তবে সোনালি, রুপালি বা হালকা খয়েরি রঙের চুল যাদের, তাদেরই এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলগুলোর অবাধ্যতাও কমতে থাকে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্তদের চুল একদম স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
- নাবীল অনুসূর্য


মন্তব্য