kalerkantho

বিচিত্রা

কলাখোর!

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কলাখোর!

ব্রিটিশ তরুণ ডেন ন্যাশের মূল খাদ্য কলা। সপ্তাহে সে প্রায় ১৫০টি করে কলা খায়।

সারা দিনে যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করে, তার ৮০ শতাংশই আসে কলা থেকে। কলার সঙ্গে আর যা খায়, সেগুলোও ফল না হয় সবজি। সকালের নাশতায় থাকে ৮ থেকে ১২টি কলা, সঙ্গে সোয়া কেজি শাকের স্মুদি। দুপুরে আরো ৮ থেকে ১২টি কলা, সঙ্গে জাম বা এমন অন্য কোনো ফলের স্মুদি। আর সন্ধ্যায় আধা কেজি সালাদ। সব মিলিয়ে দিনে তিন হাজারের মতো ক্যালরি গ্রহণ করে সে। যেটা তার দৈনিক চাহিদার তুলনায় বেশিই।
ন্যাশের এমন পাগুলে খাওয়ার অভ্যাস অবশ্য অনেক আগে থেকেই। ওর আবার মেছতার সমস্যা ছিল। ত্বকের জন্য যে শাকসবজি খুবই উপকারী, তা তো সবারই জানা। তাই মেছতার হাত থেকে রেহাই পেতে ন্যাশ নিরামিষভোজী বনে যায়। কিন্তু পরে তার মনে হলো, দুনিয়ার সব জীবজন্তু তো খাবার রান্না না করেই খায়। সেটা নিশ্চয়ই তাদের জন্য বেশি উপকারী। কাজেই সে রান্না করা খাবার একেবারেই বাদ দিয়ে দিল।
এরপর মাস ছয়েক পেরিয়ে গেছে। ন্যাশ এখন কেবল কাঁচা শাকসবজি আর ফলমূল খায়। বিভিন্ন উত্সব-পার্বণে অবশ্য রান্না করা খাবার খায়। তবে ওইটুকুই। কলা খেয়ে ন্যাশ নাকি বেশ আছে। তার স্বাস্থ্য আগের চেয়ে ভালো হয়েছে, শক্তিও বেড়ে গেছে। তবে ডাক্তার বা ডায়েটেশিয়ান, কেউ-ই কিন্তু ন্যাশের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, ন্যাশের এই খাদ্যাভ্যাসে অনেক জরুরি উপাদানই অনুপস্থিত বা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় সেগুলোর পরিমাণ অনেক কম। এই অনুপস্থিত বা কমের তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রোটিন, ফ্যাট আর মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস। তাঁদের মতে, ন্যাশের এই খাবার তালিকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো বৈচিত্র্যের অভাব। এখন দেখা যাক, এই বৈচিত্র্যহীন খাবার ন্যাশ কত দিন খেয়ে যেতে পারে!

-নাবীল অনুসূর্য


মন্তব্য