kalerkantho


ক্যানাল দু মিদি

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ক্যানাল দু মিদি

ভূমধ্য সাগর আর আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যকার প্রাকৃতিক সংযোগ জলরেখা জিব্রাল্টার প্রণালীর কথা জানা আছে মোটামুটি সবারই। কিন্তু এ ছাড়া আর কোনো জলপথের নাম কি শুনেছেন, যেটি এই দুই সাগরকে এক করে দিয়েছে? প্রকৃতিকে নানাভাবে সহজ আর নিজের বন্ধু করে নিতে চেয়েছে মানুষ।

এরই ধারাবাহিকতায় নির্মাণ করা হয় আটলান্টিক মহাসাগর আর ভূমধ্য সাগরের মধ্যে দ্বিতীয় একটি সংযোগপ্রণালী দ্য দুও মেহ। মানুষের তৈরি এই পানিপথ আটলান্টিক মহাসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত ফ্রেঞ্চ শহর বোর্দোকে কয়েকটি খালের মাধ্যমে জুড়ে দিয়েছে ভূমধ্য সাগরের বন্দর সেঁতের সঙ্গে। দুই সাগরের খাল নামে পরিচিত এই পানিপথকে ১৭ শতকের প্রকৌশলবিদ্যার অন্যতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।

সেঁতে থেকে তুলোজ পর্যন্ত প্রবাহিত ২৪০ কিলোমিটার লম্বা ক্যানাল দু মিদি ও তুলোজ থেকে কেস্টেটস এন দোর্থে শহর পর্যন্ত ১৯৪ কিলোমিটার লম্বা ক্যানাল দ্য গেহন—এ দুটি খালের পর বোর্দো পর্যন্ত বাদবাকি জায়গা ভরাট করে দে গেহোন নদী। ব্যস, জোড়া লেগে গেল ভূমধ্য সাগর আর আটলান্টিক মহাসাগর! ক্যানাল দ্য দুও মেহ নাম রাখা হলেও পুরো পানিপথটিই ক্যানাল দু মিদি নামেই বেশি পরিচিত।

হুটহাট ঝড় আর জলদস্যুদের কারণে জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে যাতায়াত বেশ বিপজ্জনক হওয়ায় ফ্রান্সের মধ্য দিয়ে একটি যাত্রাপথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনেক আগেই মানুষ বুঝেছিল। তবে তখনো এত প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। ১৭ শতকে প্রথম একটি বাস্তবসম্মত খসড়া নকশা করা হয় এই পানিপথের। ১৬৬২ সালে প্রকৌশলী পিয়েরে পল রিকুইট ব্ল্যাক মাউন্টেন থেকে পানি আনার মাধ্যমে ভূমধ্য সাগর আর আটলান্টিক মহাসাগরকে জোড়া লাগানোর পরিকল্পনা করেন। বেশ ব্যয়বহুল ছিল সেটি। তবে তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক আর ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছিল, সে সময় জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে মানুষ আর জিনিসপত্র পরিবহন। তাই সব খরচার ঝামেলা মেনে নিয়েও রাজা চতুর্দশ লুই কাজ শুরুর অনুমতি দেন। ১৬৬৭ সালে শুরু হওয়া এই নির্মাণকাজ চলে ১৬৮১ সাল পর্যন্ত। তবে এত কিছু করেও লাভ হয়নি! ক্যানাল দু মিদি নির্মিত হলেও আটলান্টিক পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি সেটি। কারণ অর্থের অভাব ও পল রিকুইটের মৃত্যু। পরবর্তী সময়ে আরো দুটি শতক লাগে পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে। একটা সময় সাবান থেকে শুরু করে আটা, মাছ, ওয়াইন—সব কিছু বহন করা শুরু হয় এই জলপথ দিয়ে। ১৯ শতকে সবচেয়ে বেশিবার ব্যবহূত হয় এটি। এরপর ট্রেন ও স্থলপথের ব্যবহার বেড়ে যায়। মানুষ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কম ব্যবহার করতে থাকে ক্যানাল দু মিদি। বর্তমানে পর্যটকদের আর নৌকাবাইচের জন্য ব্যবহার করা হয় জলপথটি। ১৯৯৬ সালে প্রণালীটি ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায়।


মন্তব্য