kalerkantho


সাড়া জাগানো ভুল

তেল কেলেঙ্কারি

ভুলের মাত্রা মাঝেমধ্যে এতই বেড়ে যায় যে ঘটনা উঠে যায় ইতিহাসের পাতায়। এমন কিছু মহাভুল নিয়েই এই আয়োজন। লিখেছেন ধ্রুব নীল

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



তেল কেলেঙ্কারি

১৯৭৯ সালের ঘটনা। প্রযুক্তিতে তখনো বিশ্ব খানিকটা পিছিয়ে।

ফরাসি তেল কম্পানি এলফে আসেন কাউন্ট অ্যালেইন ডি ভিলেগাস নামের এক কেতাদুরস্ত বেলজিয়ান নাগরিক। কথাবার্তায় নিজেকে বিশাল বিজ্ঞানী হিসেবেই জাহির করলেন। কম্পানিকে জানালেন, এমন এক যন্ত্রের নকশা আছে তাঁর কাছে, যা দিয়ে ওপর থেকেই তেলের খনি খুঁজে বের করা সম্ভব। এমন যন্ত্রের গুরুত্ব বুঝতে দেরি হলো না কম্পানির। লোকটির কথা একবাক্যে বিশ্বাস করার কারণও আছে বটে। তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন আর কেউ নন, স্বয়ং ফ্রান্সেরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যানতোনি পিনে। ভিলেগাস জানিয়ে দিলেন, যন্ত্রটি বানাতে তাঁর গুনে গুনে তিন কোটি পাউন্ড খরচ হবে। কম্পানি নকশা হাতছাড়া করতে নারাজ। কিন্তু এমন তহবিলের জোগান শুধু সরকারের পক্ষেই বহন করা সম্ভব। তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জিসকার্ডের সঙ্গে তড়িঘড়ি মিটিংও করে ফেলল তেল কম্পানিটি। বোঝাল, এ যন্ত্র বানানো হলে ফ্রান্সের অর্থনীতি বদলে যাবে। যখন খুশি যত খুশি তেল তোলা যাবে। পটে গেল সরকারও। টাকা তুলে দেওয়া হলো কাউন্ট ভিলেগাসের হাতে। বেশ কদিন সময় নিয়ে একটা কালো বাক্স বানালেন তিনি। ভিলেগাসের পাওনা বুঝিয়ে তেল কম্পানি দেরি না করে যন্ত্রখানা নিয়ে চড়ে বসল উড়োজাহাজে। যন্ত্রে খানিক পর ফুটে উঠল নকশা। জানান দিল কোথায় আছে তেলের খনি। শুরু হলো খোঁড়াখুঁড়ি। কিন্তু হায়! বিশাল কুয়ো বানিয়ে ফেললেও মিলল না এক ফোঁটা তেলের দেখা। সন্দেহ জাগল কম্পানির। বেশ যত্নে রাখা কালো বাক্সটিকে শেষ পর্যন্ত জোর করে ভেঙেচুরে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। খুলতেই বেরিয়ে এলো একগাদা কাগুজে মানচিত্র আর একটা ফটোকপি মেশিন! ফরাসি পুলিশ তত্ক্ষণাত্ বেলজিয়াম গেল ভিলেগাসের সন্ধানে। কিন্তু তেলখনির মতো মিলল না তার দেখাও।


মন্তব্য