kalerkantho


বিচিত্রা

শুধু হাসির আয়না

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শুধু হাসির আয়না

বের্ক ইলহানের বাড়ি তুরস্ক। তবে মাস্টার্স করেছেন নিউ ইয়র্কের স্কুল অব ভিজ্যুয়াল আর্টে।

তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের ক্যান্সার হয়েছিল। সে সময়ই ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর বিষণ্নতার সাক্ষী হতে হয় তাঁকে। তখন থেকেই মাথায় ঘুরছিল ক্যান্সারের রোগীদের জন্য কিছু একটা করার চিন্তা। সে জন্য নিউ ইয়র্কে পড়াকালে যখনই সময় পেতেন, তুরস্কে এসে ক্যান্সার হাসপাতালগুলো ঘুরে যেতেন। পড়াশোনা শেষ করে নেমে পড়েন কাজে, দুই বছরের পরিশ্রম ও সাধনায় ক্যান্সারের রোগীদের জন্য বানান বিশেষ একটি আয়না। শুধু হাসলেই সেই আয়না কাজ করে!

আয়নাটা দেখতে অনেকটাই ট্যাবের মতো। সেটি চালাতে বিদ্যুৎও লাগে। তাতে এক ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন টেকনোলজি প্রয়োগ করা হয়েছে।

এই সফটওয়্যারের মাধ্যমেই আয়নাটা বুঝতে পারে, কেউ ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে কি না। আর শুধু তখনই ওটা কাজ করতে শুরু করে। আর এই হাসি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় খুবই ভালো একটা ব্যায়াম তো বটেই, এমনকি পথ্যও। একে তো হাসি মস্তিষ্কে আনন্দের বার্তা পাঠায়, ফলে জোর করে হাসলেও সেটি মস্তিষ্ককে চাপমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফেসিয়াল ফিডব্যাক হাইপোথিসিস বলে হাসি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর এই দাবি তো অনেক দিন ধরেই করে আসা হচ্ছে যে হাসি মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করে।

তবে এই আয়না শরীরের জন্য ভালো হলেও, পকেটের জন্য এখনো খুব একটা ভালো হয়ে উঠতে পারেনি। একেকটা আয়নার দাম পড়বে দুই থেকে তিন হাজার মার্কিন ডলার। ব্যাপারটা অবশ্য ইলহানেরও পছন্দ নয়। দাম কমাতে তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি তিনি শিগগিরই অর্থ সংগ্রহেও নামবেন। যাতে আয়নার দাম নিদেনপক্ষে ৫০০ মার্কিন ডলারে নামানো যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যান্সার হাসপাতালে এই আয়না বিনা মূল্যে বিতরণেরও পরিকল্পনা আছে তাঁর।

 

নাবীল অনুসূর্য


মন্তব্য