kalerkantho


বিচিত্রা

প্রাচীন শহর দেবেন্ত

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রাচীন শহর দেবেন্ত

কাস্পিয়ান সাগর ও ককেশাস পর্বতমালার ঠিক মাঝখানে দেবেন্ত শহরের অবস্থান। না, এমনিতে আপনার কাছে আর দশটা শহরের মতোই মনে হতে পারে দেবেন্তকে। প্রতিটি শহরের নিজস্ব কিছু বিখ্যাত স্থান, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য থাকে। ঠিক তেমনটি দেবেন্তেরও আছে। তবে এই ইতিহাস আর ঐতিহ্য অনেককাল আগের। প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো। রাশিয়ার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত, দাগিস্তানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের কপালে জুটেছে রাশিয়ার সবচেয়ে পুরনো শহরের তকমা। এটি রাশিয়ার সর্বদক্ষিণের শহরও বটে।

কাস্পিয়ান সাগর আর ককেশাস পর্বতমালার মাঝখানের তিন কিলোমিটার প্রশস্ত এক সমভূমিতে গড়ে উঠেছে শহরটি। এর ভেতর দিয়ে চলে গেছে দুটি প্রতিরক্ষা দেয়াল। দেবেন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ধরা হয় নারিন-কালাকে দুর্গটি। ষষ্ঠ শতকে এই দুর্গ স্থাপিত হয়। কাস্পিয়ান সাগর ও ককেশাস পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থানের কারণে গোটা ককেশাস অঞ্চলে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল শহরটি। পর্বতমালায় ঢোকার দুটি প্রবেশদ্বারের একটি এটি। এই অবস্থানের কারণেই দেবেন্তের শাসকরা বছরের পর বছর ধরে সহজেই ইউরেশিয়া প্রান্তর এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যাতায়াতকারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কর নিতে পেরেছেন। এমনকি দেবেন্ত শহরের নামের ভেতরও এই পুরো ইতিহাসের ছাপ রয়েছে। পারসিয়ান দারবান্দ শব্দ থেকে এসেছে দেবেন্ত নামটি। অর্থ নিষিদ্ধ দরজা।

ইতিহাস বলে, অনেক শাসকের লোলুপ নজর ছিল দেবেন্তের দিকে। শুরুতে এটি ছিল একটি ইরানি শহর। তবে শহরটি এর নতুন নাম পায় সাসানিদ সাম্রাজ্যের অধিকারে যাওয়ার পর। তা ৬০০ খ্রিস্টাব্দের কথা। শহরটি তখন নতুন করে গড়ে তোলা হয়। দেবেন্তের মনকাড়া যমজ প্রতিরক্ষা দেয়ালও নির্মিত হয় ওই সময়ই। ১২ মিটার উঁচু ও ৩ মিটার প্রশস্ত দেয়াল দুটি একে অন্যের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার দূরে অবস্থিত। দেবেন্তের পুরনো শহরটি নির্মিত হয়েছিল এই দেয়ালের মধ্যখানে।  দেয়ালের বাইরের দিকে পরে গড়ে ওঠে নতুন শহর। পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত নারিন-কালা দুর্গটি এই প্রতিরক্ষা দেয়ালের ঠিক মধ্যখানে অবস্থিত।

৬৫৪ খ্রিস্টাব্দে দেবেন্ত চলে যায় আরবদের হাতে। তখন এর নামকরণ করা হয় ‘বাব আল-আবওয়াব’ বা ‘দরজার দরজা’। দেবেন্তের কৌশলগত অবস্থানের কথা মাথায় রেখেই এমন নামকরণ করা হয়। প্রশাসনগত গুরুত্ব দেওয়া এবং ইসলামকে এ অঞ্চলে পরিচিত করা ছাড়া আরো বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন আরব শাসকরা ডারবেন্টে। নির্মাণ করেন দ্য জুমা মস্ক। নবম শতকে শহরটির জনসংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। তখন এটি ছিল ককেশাসের সবচেয়ে বড় শহর। আরবদের পর দেবেন্ত চলে যায় আর্মেনিয়ানদের হাতে। এরপর এর অধিকার ১৩ শতকে নিয়ে যায় মঙ্গোলরা। পরের কয়েক শতকে আরো কয়েকবার হাতবদল হয় শহরটির মালিকানা। ১৯ শতকে রুশো-পারসিয়ান যুদ্ধের পর দেবেন্তসহ দাগিস্তানের অধিকার পায় রাশিয়া। তার পর থেকে আছে তাদেরই দখলে।


মন্তব্য