kalerkantho


গুণ দিয়ে পরিচয়

শাবনূরের সেলিম

সেলিম মোহাম্মদকে এফডিসির সবাই চেনে শাবনূরের সেলিম বলে। এসেছিলেন ১৭ বছর বয়সে। তারপর চলে গেছে তিন দশক। ২৫০টিরও বেশি সিনেমায় কাজ করেছেন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে। মাহবুবুর রহমান সুমনকে শুনিয়েছেন জীবনের গল্প

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শাবনূরের সেলিম

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় সেলিমের জন্ম। বাংলা ছবির পোকা ছিলেন।

প্রয়াত অভিনেতা ওয়াসিমুল বারী রাজীবের এক বন্ধুকে চিনতেন সেলিম। তাঁর মাধ্যমে রাজীব সাহেবের সঙ্গে দেখা করেন। রাজীব সাহেব একটি কাগজে ঠিকানা লিখে দেন। বলেন দেখা করতে।   বলছিলেন সেলিম, রাজীব ভাইয়ের বাড়িও পটুয়াখালী। তাঁর মাধ্যমেই আমি এফডিসিতে ঢুকি। আশি নইলে একাশি সাল।

 

ওস্তাদ আর্টিস্ট বাবুল

রাজীব সাহেবের সঙ্গেই সেলিম প্রথম এফডিসিতে যান। ঘুরে ঘুরে দেখেন।

মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার শখ জাগে। সহকারী হন মেকআপ আর্টিস্ট নূর মোহাম্মদের। তখন নূর মোহাম্মদ কাজ করছিলেন ‘রাম রহিম জন’ সিনেমার জন্য। তবে সেলিম গুরু মানেন আর্টিস্ট বাবুলকে। তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন প্রায় ১৫ বছর। ১৫০টি ছবিতে।  

 

আর সহকারী নয়

‘সুজন সখী’ ছবিতে প্রথম প্রধান মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন সেলিম। ১৯৯৪ সালের ১২ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে ২৫০টির মতো ছবিতে কাজ করেছেন এ পর্যন্ত। সেলিম বলছিলেন, অনেক লম্বা সময়। তালিকাও দীর্ঘ। নায়করাজ রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন, শাকিব খান, দিতি, ববিতা, শাবানা, রোজিনা, মৌসুমী, শাবনূর, অপু বিশ্বাসসহ আরো অনেকের মেকআপ করেছি। ওপার বাংলার মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিতেরও কাজ করেছি। ’ সেলিমের ঝুলিতে আছে ‘দুই নয়নের আলো’, ‘তুমি শুধু তুমি’, ‘গোলাপি এখন বিলেত’, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘সাগরিকা’, ‘চুপি চুপি’ ‘৭১-এর মা জননী’, ‘শঙ্খচিল’-এর মতো জনপ্রিয় সব ছবি। উল্লেখ করার মতো ব্যাপার, প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের মাথায় গামছা তিনিই প্রথম বেঁধে দিয়েছিলেন। সেটিই পরে স্টাইল হয়ে যায়।

 

শাবনূরের সেলিম

শাবনূরের শতাধিক ছবির মেকআপ আর্টিস্ট সেলিম। সে কারণে মিডিয়াপাড়ায় সবাই তাঁকে চেনে শাবনূরের সেলিম নামে। সেলিম মনে করেন, শাবনূর তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। সেলিম বললেন, ‘শাবনূর আপার নাইনটি পারসেন্ট সিনেমার মেকআপ আর্টিস্ট আমি। আমার সঙ্গে কাজ শুরু করার পর আপাকে অন্য কেউ মেকআপ দেয়নি। আপার সঙ্গে প্রথম করি একটি বিজ্ঞাপনের কাজ। আপার কাজটা খুব পছন্দ হয়েছিল। আমার আগে আপা অনেকের সঙ্গেই কাজ করেছেন; কিন্তু আমার কাজই তাঁর বেশি পছন্দ হয়েছিল। তাই আপা আর কাউকে দিয়ে মেকআপ করাতেন না। ’ সেলিম আরো বলেন, ‘আপার সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তাঁর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই ভালোবাসা দূরত্ব দিয়ে কমানো যায় না। আপা অনেক দিন সিনেমায় নেই; কিন্তু নিয়মিত আমার খবর নেন। ’

 

সেলিমের ভবিষ্যৎ

জীবিকার তাগিদে নয়, ভালোবেসেই চলচ্চিত্রে কাজ করছেন সেলিম। এই দীর্ঘ সময়ে শুধু বয়স আর অভিজ্ঞতা নয়, বেড়েছে ভালোবাসাও। তাই সুযোগ থাকলে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান।

ছোট্ট একটা স্বপ্নও আছে সেলিমের—যোগ্য একজন শাগরেদকে সব শিখিয়ে যেতে চান। বলছিলেন, ‘আমাদের দেশে মেকআপ আর্টিস্টদের মূল্যায়ন হয় না। সিনেমার সবাই সময়মতো টাকা পেলেও আমরা পাই সবার শেষে। এ জন্য একটু মন খারাপ হয়। ’ আশির দশকে বাংলা সিনেমার সুদিন ছিল। এখন দুর্দিন চলছে। তবু হতাশ নন সেলিম। তিনি বিশ্বাস করেন, আবার সুদিন আসবে।

ছবি: আশিক আদনান ও সংগ্রহ


মন্তব্য