kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

অপেক্ষা

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অপেক্ষা

মেয়েটি আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট ছিল। আমি যখন নবম শ্রেণিতে উঠি, ও সপ্তম শ্রেণিতে।

প্রথম মেয়েটিকে দেখেছিলাম প্রিন্সিপাল স্যারের কক্ষে। প্রথম দেখায়ই অসম্ভব একটা আনন্দ ভেতরে বয়ে গিয়েছিল। সিনিয়র ছিলাম, তাই কখনো আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যাইনি। কিন্তু মেয়েটি যখন যেখানে যেত, দূর থেকে দেখেতাম। ভার্সিটিতে নতুন ব্যাচ এসেছে। হঠাৎ দেখি এত বছর আগের সেই মেয়েটি। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো আমি হয়তো স্বপ্ন দেখছি। সেই চোখ, নাক আর মুখ টিপে মুচকি হাসি। তবে অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে বলতে পারলাম না, আরে তুমি তো ওই মেয়েটি, তাই না? চুপচাপ এড়িয়ে গেলাম তাকে। এত বছরে হয়তো মেয়েটি কারো প্রেমে পড়েছেই, এই ভেবে নিজেকে গুটিয়ে নিলাম। ভার্সিটি জীবনের শেষ দিনে হঠাৎ একটি সবুজ খাম পেলাম। খুলে দেখি ওই মেয়েটি পাঠিয়েছে। আমি জানি, আপনি আমাকে ভালোবাসেন। আপনার জন্যই আমি এখানে ভর্তি হয়েছি, আপনার কিছু বন্ধুকে আমার আপু চিনত। আপনি হয়তো কখনো আমার ব্যাপারে খোঁজখবর নিতেন না, কারণ আপনি অনেক লাজুক। আমার বাবা মারা গেছে গত বছর। আপনি যদি চান আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেন...চিঠিটি শার্টের বাম পকেটে ঢুকিয়ে রাখলাম। জাপানে স্কলারশিপ হয়ে গেছে। একবছর পরে ফিরব। যে মেয়েটি এতটা ভালোবাসার পরও এত বছর অপেক্ষা করালো, দেখি সে নিজে আরেকটি বছর অপেক্ষা করতে পারে কি না!

 

আল সানি, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


মন্তব্য