kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

বিদায়ের বেদনা

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ছোট থাকতে কতবার যে মাকে জড়িয়ে ধরেছি হিসেব নেই। দিনে মা আমাকে ঘুম পাড়িয়ে চলে যেত রান্নাঘরে, ঘুম থেকে উঠে দেখতাম মা নেই, অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখা পেলেই দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতাম।

তখন কাজ থাকা সত্ত্বেও মা আমাকে কোলে নিত। এরপর বড় হয়ে যাওয়ায় মাকে আর জড়িয়ে ধরা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আজ অনেক বছর পর আমি মাকে জড়িয়ে ধরেছি। এমনি এমনি ধরিনি, আজ আমি স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকা চলে যাচ্ছি। তা না হলে হয়তো সেটাও হয়ে উঠত না। মা-ও আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। আরো অনেকেই কেঁদেছে, তবে আমি যাদের সঙ্গে বেশি দুষ্টুমি করতাম তারাই বেশি কেঁদেছে। তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠলাম, কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই মায়ের ফোন, ‘বাবা কোথায় আছিস?’ (আমি বাসা থেকে বের হলেই একের পর এক ফোন দেওয়াটা মায়ের অভ্যাস)। ‘এই তো মা, এয়ারপোর্টের কাছাকাছি এসে পড়েছি। ’ ‘বাবা তুই চলে গেছিস, আর বাড়িটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেছে, আর শোন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করিস, অনিয়ম করিস না কিন্তু। পৌঁছে ফোন দিস। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে। ’ কাঁদো কাঁদো সুরে কথাগুলো বলল মা। আমি বললাম, ‘প্লিজ মা, তুমি চিন্তা করো না। ... এভাবে চিন্তা করলে তো তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে। মা প্লিজ তুমি চিন্তা করো না, আমি খুব ভালো থাকব, আর আমি ওইখানে পৌঁছেই ফোন দেব। এখন রাখি। ’ কথাগুলো বলেই প্রাইভেটকারের লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখলাম চোখ দুটি দিয়ে জল উপচে পড়ছে।

 

মোজাম্মেল খান, ব্রাহ্মইবাড়িয়া


মন্তব্য